1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০১ পূর্বাহ্ন

মিরাজের ঘূর্ণিতে গায়ানার জয়, ফিরল আলোচিত ‘নাগিন ডান্স’

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

স্পোর্টস: ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নবম ম্যাচে অষ্টম জয় তুলে নিয়েছে গায়ানা। ব্যাট হাতে শাই হোপের অপরাজিত ৪২ রানের পাশাপাশি বল হাতে মিরাজের ২৩ রানে ৪ উইকেট ছিল জয়ের মূল কারিগর। এই জয়ে সিপিএলে ১০০তম জয়ও পূর্ণ করেছে গায়ানা।
বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে শেষ হওয়া ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বোলিং নেয় গায়ানা। শুরুতে দ্রুত রান তুলছিল ত্রিনবাগো। চার ওভারে তাদের সংগ্রহ ছিল ৩৮ রান। এরপরই আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মিরাজ।
ইনিংসের পঞ্চম ওভারে টানা দুই বলে কলিন মানরো ও নিকোলাস পুরানকে বোল্ড করেন তিনি। মানরো ১৬ বলে ২৬ রান করে ফেরেন, আর পুরান প্রথম বলেই সাজঘরে ফেরেন। মিরাজের ওই জোড়া আঘাতের পর ত্রিনবাগোর রানের গতি অনেকটাই কমে যায়। পরের চার ওভারে তারা তুলতে পারে মাত্র ১৩ রান।
পরে নিজের তৃতীয় উইকেটও তুলে নেন মিরাজ। জাইড গুলিকে রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে করা আর্ম বলে বোল্ড করেন তিনি। এরপর সুনিল নারাইনকেও একইভাবে ফেরান বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। চার ওভার শেষে তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৪-০-২৩-৪। তার চারটি উইকেটই এসেছে বোল্ডে।
মিরাজের এমন বোলিং পারফরম্যান্সের পরই ধারাভাষ্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ইয়ান বিশপ। মোহাম্মদ নাবি জাতীয় দলের ডাকে ফিরে যাওয়ার পর গায়ানার জন্য মিরাজকে দলে পাওয়া বড় স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগের ম্যাচে সিপিএল অভিষেকেই ১৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। দুই ম্যাচে এখন তার শিকার ৭টি, খরচ হয়েছে মাত্র ৩৬ রান।
মিরাজের বোলিংয়ের পাশাপাশি তার উদযাপনও নজর কেড়েছে। উইকেট পাওয়ার পর অধিনায়ক ইমরান তাহিরের সঙ্গে তাকে দেখা গেছে আলোচিত ‘নাগিন ডান্সে’। বাংলাদেশের ক্রিকেটে একসময় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই উদযাপন বিশেষভাবে আলোচনায় আসে ২০১৮ সালের নিদাহাস ট্রফির সময়। দীর্ঘ বিরতির পর বড় আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি মঞ্চে মিরাজের হাত ধরে আবারও সেই উদযাপন দেখা গেল।
তবে উদযাপনের চেয়ে মিরাজের বোলিং পারফরম্যান্সই ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গায়ানার মন্থর উইকেটে বল গ্রিপ করছিল এবং টার্নও মিলছিল। সেই কন্ডিশন বুঝে গতি ও লেংথে বৈচিত্র এনে ত্রিনবাগোর ব্যাটারদের চাপে রাখেন তিনি।
মিরাজের চার উইকেটের সঙ্গে শামার জোসেফ নেন ২টি উইকেট। আগের ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়া ইমরান তাহির এবার পান একটি উইকেট। ত্রিনবাগোর হয়ে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন জাস্টিন গ্রেভস। কলিন মানরো করেন ২৬। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রানেই থামে তাদের ইনিংস।
জবাবে গায়ানার শুরুটা খুব দাপুটে না হলেও লক্ষ্য তাড়ায় বড় কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। মাভেন্ড্রা ডিন্ডিয়াল ১৯ এবং গ্লেন ফিলিপস ১১ রান করে আউট হন। এরপর শিমরন হেটমায়ারের ১৯ বলে ২৮ রানের ইনিংস গায়ানাকে জয়ের পথে এগিয়ে দেয়। তিনটি ছক্কা ছিল তার ইনিংসে।
হেটমায়ার ফিরে যাওয়ার পর মিরাজ নিজেও ব্যাট হাতে বেশি কিছু করতে পারেননি। ১৪ বলে ২ রান করে আউট হন তিনি। তবে একপ্রান্ত ধরে রাখেন শাই হোপ। ৩৫ বলে অপরাজিত ৪২ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। কুইন্টন স্যাম্পসনের সঙ্গে অপরাজিত থেকে ১৮.৪ ওভারে লক্ষ্য পূরণ করে গায়ানা।
এই জয়ে নয় ম্যাচে আট জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। প্লে-অফও নিশ্চিত করেছে দলটি। প্রাথমিক পর্বে তাদের আর একটি ম্যাচ বাকি, বারবাডোজ ট্রাইডেন্টসের বিপক্ষে।
অন্যদিকে এই হারে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের এবারের আসর আরও হতাশাজনক হয়ে উঠেছে। সাত ম্যাচে হেরে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থেকেই তাদের অবস্থান শেষ হয়েছে।
ম্যাচে আরেকটি মাইলফলকের সামনে পৌঁছে গেছেন ত্রিনবাগোর কাইরন পোলার্ড। শেষ ওভারে ১০ রান করে আউট হওয়ার সময় তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের রান দাঁড়ায় ১৪,৯৯৯। পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে ১৫ হাজার রান পূর্ণ করতে এখন তার প্রয়োজন মাত্র ১ রান। সেই মাইলফলকে পৌঁছাতে পারলে প্রথম ব্যাটার হিসেবে এই কীর্তি গড়বেন পোলার্ড।
মিরাজের জন্যও ম্যাচটি ছিল বিশেষ। ১৭৮ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তৃতীয়বার এক ম্যাচে চার উইকেট পেলেন তিনি। দেশের বাইরে এই প্রথম চার উইকেটের দেখা পেলেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। একই সঙ্গে দেশের বাইরে টি-টোয়েন্টিতে ১১তমবার ম্যাচসেরার স্বীকৃতি পেলেন তিনি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd