Dhaka ০৫:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন যুদ্ধবিমানের নতুন আতঙ্ক, চীনের তৈরি ইরানের অত্যাধুনিক ম্যানপ্যাড

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫৬:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৭ Time View

বিদেশ : ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের মধ্যে তেহরান চীন থেকে ১ হাজারেরও বেশি অত্যাধুনিক ম্যানপ্যাড (ম্যান-পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) সংগ্রহ করছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান ইতিমধ্যে বেশ কিছু মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে এফ-১৫ই এবং এ-১০ থান্ডারবোল্ট অন্যতম। যদিও চীন তেহরানকে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি বারবার অস্বীকার করে আসছে, তবে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, এই শক্তিশালী বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কোনো মধ্য এশীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে ইরানে পৌঁছাতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যখন ইরানে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে, তখন এই ম্যানপ্যাডগুলো মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ম্যানপ্যাড মূলত কাঁধে রেখে নিক্ষেপযোগ্য এক ধরণের বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা যা একজন সৈনিক এককভাবে পরিচালনা করতে পারেন। এগুলো ওজনে হালকা, সহজে বহনযোগ্য এবং লুকিয়ে রাখা অত্যন্ত সহজ। সাধারণত এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইনফ্রারেড বা তাপ অনুসরণকারী প্রযুক্তির মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে। ম্যানপ্যাডের কোনো রাডার সিগনেচার না থাকায় মার্কিন রাডার বা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এগুলো শনাক্ত করা কঠিন। এটি শব্দের দ্বিগুণ বেগে ছুটতে পারে এবং প্রায় পাঁচ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। উচ্চ উচ্চতায় উড়তে থাকা বিমানের জন্য এটি কম ঝুঁকিপূর্ণ হলেও, স্থল সেনাদের আকাশপথ থেকে সহায়তা দিতে আসা নিচু দিয়ে উড়া বিমানের জন্য এটি একটি মারাত্মক মরণফাঁদ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের কোনো কার্যকর রাডার বা বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা নেই, কিন্তু যুদ্ধের ময়দানের চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। ৩ এপ্রিল একটি এফ-১৫ই এবং একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবে একটি বিলিয়ন ডলার মূল্যের ই-৩ সেন্ট্রি ‘আওয়াকস’ রাডার বিমান ধ্বংস হয়েছে। এমনকি ইরানের স্থল হামলায় একটি পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সাফল্যের পেছনে চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সমপ্রতি জানা গেছে, ২০২৪ সালে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী চীনের কাছ থেকে যে ‘টিইই-০১বি’ স্পাই স্যাটেলাইটটি কিনেছিল, সেটি ব্যবহার করেই মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে নিখুঁত হামলা চালানো হচ্ছে। চীন আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রির খবরকে ‘বানোয়াট’ বলে অভিহিত করেছে। বেইজিংয়ের দাবি, তারা এই অঞ্চলে শান্তি ও যুদ্ধবিরতি স্থাপনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অস্ত্র বিক্রি না করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন এবং জিনপিং তাতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। এদিকে গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ইরান সম্ভবত চীনের কিউডব্লিউ-২ বা কিউডব্লিউ-১৮ মডেলের ম্যানপ্যাডগুলো পেতে যাচ্ছে, যা বর্তমানে তুর্কমেনিস্তানের সেনাবাহিনী ব্যবহার করে। নিচু দিয়ে উড়া মার্কিন বিমানের জন্য এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিরোধের উপায় বের করা এখন পেন্টাগনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

Tag :
About Author Information

মার্কিন যুদ্ধবিমানের নতুন আতঙ্ক, চীনের তৈরি ইরানের অত্যাধুনিক ম্যানপ্যাড

Update Time : ১০:৫৬:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

বিদেশ : ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের মধ্যে তেহরান চীন থেকে ১ হাজারেরও বেশি অত্যাধুনিক ম্যানপ্যাড (ম্যান-পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) সংগ্রহ করছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান ইতিমধ্যে বেশ কিছু মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে এফ-১৫ই এবং এ-১০ থান্ডারবোল্ট অন্যতম। যদিও চীন তেহরানকে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি বারবার অস্বীকার করে আসছে, তবে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, এই শক্তিশালী বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কোনো মধ্য এশীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে ইরানে পৌঁছাতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যখন ইরানে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে, তখন এই ম্যানপ্যাডগুলো মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ম্যানপ্যাড মূলত কাঁধে রেখে নিক্ষেপযোগ্য এক ধরণের বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা যা একজন সৈনিক এককভাবে পরিচালনা করতে পারেন। এগুলো ওজনে হালকা, সহজে বহনযোগ্য এবং লুকিয়ে রাখা অত্যন্ত সহজ। সাধারণত এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইনফ্রারেড বা তাপ অনুসরণকারী প্রযুক্তির মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে। ম্যানপ্যাডের কোনো রাডার সিগনেচার না থাকায় মার্কিন রাডার বা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এগুলো শনাক্ত করা কঠিন। এটি শব্দের দ্বিগুণ বেগে ছুটতে পারে এবং প্রায় পাঁচ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। উচ্চ উচ্চতায় উড়তে থাকা বিমানের জন্য এটি কম ঝুঁকিপূর্ণ হলেও, স্থল সেনাদের আকাশপথ থেকে সহায়তা দিতে আসা নিচু দিয়ে উড়া বিমানের জন্য এটি একটি মারাত্মক মরণফাঁদ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের কোনো কার্যকর রাডার বা বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা নেই, কিন্তু যুদ্ধের ময়দানের চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। ৩ এপ্রিল একটি এফ-১৫ই এবং একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবে একটি বিলিয়ন ডলার মূল্যের ই-৩ সেন্ট্রি ‘আওয়াকস’ রাডার বিমান ধ্বংস হয়েছে। এমনকি ইরানের স্থল হামলায় একটি পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সাফল্যের পেছনে চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সমপ্রতি জানা গেছে, ২০২৪ সালে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী চীনের কাছ থেকে যে ‘টিইই-০১বি’ স্পাই স্যাটেলাইটটি কিনেছিল, সেটি ব্যবহার করেই মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে নিখুঁত হামলা চালানো হচ্ছে। চীন আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রির খবরকে ‘বানোয়াট’ বলে অভিহিত করেছে। বেইজিংয়ের দাবি, তারা এই অঞ্চলে শান্তি ও যুদ্ধবিরতি স্থাপনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অস্ত্র বিক্রি না করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন এবং জিনপিং তাতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। এদিকে গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ইরান সম্ভবত চীনের কিউডব্লিউ-২ বা কিউডব্লিউ-১৮ মডেলের ম্যানপ্যাডগুলো পেতে যাচ্ছে, যা বর্তমানে তুর্কমেনিস্তানের সেনাবাহিনী ব্যবহার করে। নিচু দিয়ে উড়া মার্কিন বিমানের জন্য এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিরোধের উপায় বের করা এখন পেন্টাগনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি