Dhaka ০১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাংকগুলোর অর্থায়নে একটি ফান্ড তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে: গভর্নর

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৬ Time View

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে ‘ব্যাংকিং খাত : বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক লোক বক্তৃতায় বললেন, “ব্যাংকিং খাতে সংকট মোকাবেলায় রেজল্যুশন ফার্ম গঠনের উদ্যোগ নিতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোর অর্থায়নে একটি ফান্ড তৈরির পরিকল্পনা আছে।”

আহসান এইচ মনসুর বলেন, “ব্যাংকিং খাতে কোনোভাবেই যেন ব্যক্তি-কেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়ে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। দুর্বৃত্তায়ন, অনিয়ম, পরিবারতন্ত্র এবং সুশাসনের অভাবে ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে, যা হয়ত পাচারও হয়ে থাকতে পারে।”

‘বাংলাদেশ ব্যাংক স্বাধীনভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক পুরোপুরি স্বাধীন না হলেও স্বাধীনভাবে কাজ করছে। তবে ভবিষ্যতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আগামী দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে’- উল্লেখ করেন তিনি।

গভর্নর বলেন, কিছু খারাপ ব্যাংক ছিল; তাদের টাকা ছাপিয়ে দিতে হয়েছে। বর্তমানে টাকার ঘাটতি থাকায় এক সঙ্গে সব ব্যাংক ঠিক করা সম্ভব নয়। আগামীতে সরকারি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে, পরে আবার বেসরকারি ব্যাংক ঠিক করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ঋণ খেলাপি শতভাগ কাভারেজ না হলে কোনো ব্যাংক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে না। এতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। দুর্বল ব্যাংক কোনোভাবেই ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণ খেলাপি ৩০ শতাংশে নামানোর এবং পরবর্তী বছরের মার্চে ২৫ শতাংশে নামানোর কাজ করছে।

রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক দুটি রেখে বাকিগুলো সরকার মার্জ করার পরিকল্পনা করছে জানিয়ে ড. মনসুর বলেন, বাংলাদেশে ১৫টি ব্যাংকের বেশি প্রয়োজন নেই। আগামী ২-৩ বছরে ১২-১৩টি ব্যাংক ঠিক করা হবে।

এর আগে ব্যাংক খাতে সংকট মোকাবেলায় ও আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকে ‘ব্যাংক রেজুলেশন ডিপার্টমেন্ট’ নামে একটি নতুন বিভাগ গঠন করেছে। গত বছরের ২২ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

Tag :
About Author Information

ব্যাংকগুলোর অর্থায়নে একটি ফান্ড তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে: গভর্নর

Update Time : ১০:২৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে ‘ব্যাংকিং খাত : বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক লোক বক্তৃতায় বললেন, “ব্যাংকিং খাতে সংকট মোকাবেলায় রেজল্যুশন ফার্ম গঠনের উদ্যোগ নিতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোর অর্থায়নে একটি ফান্ড তৈরির পরিকল্পনা আছে।”

আহসান এইচ মনসুর বলেন, “ব্যাংকিং খাতে কোনোভাবেই যেন ব্যক্তি-কেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়ে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। দুর্বৃত্তায়ন, অনিয়ম, পরিবারতন্ত্র এবং সুশাসনের অভাবে ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে, যা হয়ত পাচারও হয়ে থাকতে পারে।”

‘বাংলাদেশ ব্যাংক স্বাধীনভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক পুরোপুরি স্বাধীন না হলেও স্বাধীনভাবে কাজ করছে। তবে ভবিষ্যতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আগামী দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে’- উল্লেখ করেন তিনি।

গভর্নর বলেন, কিছু খারাপ ব্যাংক ছিল; তাদের টাকা ছাপিয়ে দিতে হয়েছে। বর্তমানে টাকার ঘাটতি থাকায় এক সঙ্গে সব ব্যাংক ঠিক করা সম্ভব নয়। আগামীতে সরকারি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে, পরে আবার বেসরকারি ব্যাংক ঠিক করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ঋণ খেলাপি শতভাগ কাভারেজ না হলে কোনো ব্যাংক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে না। এতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। দুর্বল ব্যাংক কোনোভাবেই ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণ খেলাপি ৩০ শতাংশে নামানোর এবং পরবর্তী বছরের মার্চে ২৫ শতাংশে নামানোর কাজ করছে।

রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক দুটি রেখে বাকিগুলো সরকার মার্জ করার পরিকল্পনা করছে জানিয়ে ড. মনসুর বলেন, বাংলাদেশে ১৫টি ব্যাংকের বেশি প্রয়োজন নেই। আগামী ২-৩ বছরে ১২-১৩টি ব্যাংক ঠিক করা হবে।

এর আগে ব্যাংক খাতে সংকট মোকাবেলায় ও আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকে ‘ব্যাংক রেজুলেশন ডিপার্টমেন্ট’ নামে একটি নতুন বিভাগ গঠন করেছে। গত বছরের ২২ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।