Dhaka ১১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিস্ফোরক মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫
  • ১৮৪ Time View

চট্টগ্রামে ২০২৩ সালের শেষ দিকে আদালত এলাকায় আইনজীবী হত্যাকাণ্ড ও সহিংস ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এবার বিস্ফোরক মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে এক দিনের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে আদালত এ নির্দেশ দেন।

সোমবার (১৬ জুন) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৬ এর বিচারক এই আদেশ দেন এবং মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২২ জুন এর মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী।

কীভাবে শুরু এই মামলা?

গত বছরের ২৬ নভেম্বর, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের বিশেষায়িত গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এরপর ২৭ নভেম্বর কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদোহ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয় এবং আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

চিন্ময় দাসের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ইসকন অনুসারীরা আদালত এলাকায় বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ এবং আশপাশের মসজিদ, দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে।

ওইদিন বিকেলে, আদালতের প্রধান ফটকের বিপরীত পাশে রঙ্গম কনভেনশন হল সংলগ্ন গলিতে একদল ইসকন অনুসারীর হামলায় নিহত হন অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম। এ ঘটনায় নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ২৯ নভেম্বর রাত কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

পুলিশ ও অন্যান্য ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকেও ওইদিনের সহিংসতা ঘিরে আরও ৪টি মামলা দায়ের করা হয়। এই মোট পাঁচটি মামলা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ চিন্ময় দাসের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার দাবি করে এবং আদালতে আবেদনের মাধ্যমে তাকে একে একে ওই মামলাগুলোতেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সর্বশেষ, এসব মামলার ধারাবাহিকতায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা, যা আদালত সোমবার (১৬ জুন) অনুমোদন দেন।

Tag :
About Author Information

বিস্ফোরক মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

Update Time : ১১:৫৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫

চট্টগ্রামে ২০২৩ সালের শেষ দিকে আদালত এলাকায় আইনজীবী হত্যাকাণ্ড ও সহিংস ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এবার বিস্ফোরক মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে এক দিনের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে আদালত এ নির্দেশ দেন।

সোমবার (১৬ জুন) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৬ এর বিচারক এই আদেশ দেন এবং মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২২ জুন এর মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী।

কীভাবে শুরু এই মামলা?

গত বছরের ২৬ নভেম্বর, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের বিশেষায়িত গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এরপর ২৭ নভেম্বর কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদোহ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয় এবং আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

চিন্ময় দাসের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ইসকন অনুসারীরা আদালত এলাকায় বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ এবং আশপাশের মসজিদ, দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে।

ওইদিন বিকেলে, আদালতের প্রধান ফটকের বিপরীত পাশে রঙ্গম কনভেনশন হল সংলগ্ন গলিতে একদল ইসকন অনুসারীর হামলায় নিহত হন অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম। এ ঘটনায় নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ২৯ নভেম্বর রাত কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

পুলিশ ও অন্যান্য ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকেও ওইদিনের সহিংসতা ঘিরে আরও ৪টি মামলা দায়ের করা হয়। এই মোট পাঁচটি মামলা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ চিন্ময় দাসের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার দাবি করে এবং আদালতে আবেদনের মাধ্যমে তাকে একে একে ওই মামলাগুলোতেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সর্বশেষ, এসব মামলার ধারাবাহিকতায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা, যা আদালত সোমবার (১৬ জুন) অনুমোদন দেন।