বিদেশ : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শত্রুতা কমে আসার আশায় গতকাল সোমবার তেলের দাম কমেছে। গত সপ্তাহে দাম বেড়ে প্রায় ছয় মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তবে প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরবে টানা হামলার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখনওে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেঙ্াস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচার্সের দাম ১ ডলার ৭৬ সেন্ট বা ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০১ ডলার ৫১ সেন্টে নেমেছে। ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ১ ডলার ৪৯ সেন্ট বা ১ দশমিক ২৮ শতাংশ কমে হয়েছে ১১৫ ডলার ২৩ সেন্ট। গত শুক্রবার সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় দাম প্রায় ৩ ডলার বেড়ে যায়। সপ্তাহ শেষে ব্রেন্টের দাম ৬ শতাংশ ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে যান বলে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এ ছাড়া মক্কা চুক্তিভুক্ত দেশ সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের গতকাল সোমবার তেহরানে ইরানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুথিদের সৌদি আরবে হামলা বৃহত্তর সংঘাতে চাপের জায়গা হয়ে ওঠার পর এটিই তাদের প্রথম উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ। ফিলিপ নোভার বাজার বিশ্লেষণপ্রধান প্রিয়াঙ্কা সচদেব বলেন, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সরবরাহ ঝুঁকি দৃঢ়ভাবে রয়ে গেছে। বর্তমান পতন মূলত অবস্থান সমন্বয় ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন, অন্তর্নিহিত সরবরাহ পরিস্থিতিতে অর্থপূর্ণ কোনও উন্নতির নয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল গতকাল সোমবার সিঙ্গাপুরে এক শিল্প সম্মেলনে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথা আবারও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০২৭ সালে জ্বালানি বাজার ইরান যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরবে বলে তিনি আশা করেন না।