1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন

বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপায়মিলছে নানা অনিয়ম

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপায় মিলছে নানা অনিয়ম। বই ছাপাতে ব্যবহার হচ্ছে নিম্নমানের কাগজ ও কালি। তাছাড়া বই কাটিংয়ে কারচুপি, অনুমোদিত প্রেসের বাইরে গোপনে বই ছাপানোসহ নানা অনিয়ম ঘটছে। সেজন্য ইতোমধ্যে অর্ধ শতাধিক ছাপাখানার প্রায় ৪ কোটি ফর্মা বাতিল করে ধ্বংস করা হয়েছে। আর দফায় দফায় দেড় ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে। এমনকি মানহীন বই ছাড় দেয়ায় ইন্সপেকশন এজেন্সিকেও কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে টানা যাচ্ছে না অনিয়মের লাগাম। ফলেও এবারও বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্পন্ন বই পৌঁছে দেয়া নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। ছাপাখানা এবং এনসিটিবি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকার শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত পাঠ্যবই তুলে দিতে এবার ছাপাখানাগুলোকে সর্বোচ্চ দর দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো ফল মিলছে না। বরং উল্টো ঘটনা ঘটছে। অতি মুনাফার লোভে ছাপাখানা মালিকরা পাঠ্যবই ছাপাতে নানা অনিয়ম করেই যাচ্ছে। অথচ সঠিক মান বজায় রেখে এবার প্রায় ১ হাজার কোটি ফর্মার পাঠ্যবই ছাপালে সব খরচ বাদ দিয়েও অন্তত ৭শ কোটি টাকা ছাপাখানাগুলোর মুনাফা হবে। কিন্তু তারপরও দেশে নিম্নমানের বই ছাপা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, এনসিটিবি কর্মকর্তারা গত মাসে পাঠ্যবই ছাপারত শতাধিক প্রেস পরিদর্শন করে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনিয়ম মিলেছে। অনেক প্রেসে বইয়ের প্রথম ৫ থেকে ১০ পাতায় উন্নতমানের কাগজ ব্যবহার করা হলেও ভিতরের পাতায় নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে নানা অভিযোগে বাতিল করা হয়েছে অর্ধ শতাধিক প্রেসের প্রায় ৪ কোটি ফর্মা। পাশাপাশি দেয়া হয়েছে বাতিল বই নতুন করে ছাপার নির্দেশও। তাছাড়া পাঠ্যবই ছাপায় গুরুতর অনিয়মে জড়িত থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে। এমনকি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে দুই দফায় নোটিস দেয়া হয়েছে। তাছাড়া বইয়ের মান যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানকেও কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। কারণ ওই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে  নিম্নমানের বইকে ছাড়পত্র দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র আরো জানায়, বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপার কাজে নানা অনিয়মে এবারও শিক্ষাবর্ষের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। কারণ এখন পর্যন্ত প্রাক্-প্রাথমিকের ৮৫ শতাংশ বই ছাপা শেষ হলেও ৬২ শতাংশের পিডিআই হয়েছে। প্রাথমিকের ছাপা শেষ হয়েছে ৫২ শতাংশ এবং পিডিআই হয়েছে ২৪ শতাংশের পিডিআই হয়েছে। মাধ্যমিকের মাত্র ১৪ শতাংশ বই ছাপা শেষ হলেও এবং পিডিআই মাত্র ৪ শতাংশের। অনিয়মের কারণে পুনঃমুদ্রণ করতে হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বই। আর গত মাসের মাঝামাঝি নবম-দশম শ্রেণির বইয়ের ওয়ার্ক অর্ডার হয়েছে এবং পুনঃদরপত্রে বাড়ানো হয়েছে বিভিন্ন লটের কাজের সময়ও। মাধ্যমিকের ৪০৮ নম্বর লটের কাজ শেষের সময় ৩০ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে ১০ ডিসেম্বর করা হয়েছে। যদিও ৩০ নভেম্বরের মধ্যে উপজেলায় শতভাগ বই পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে। অবশিষ্ট বই ছাপা, বাঁধাই, কাটিং, পিডিআই ও পরিবহনের জন্য হাতে দুই মাসেরও কম সময় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শেষ মুহূর্তে মানহীন বই শনাক্ত হলেও তা আবার ছাপার সুযোগ মিলবে কিনা তা কেউ বলতে পারছে না। চলতি শিক্ষাবর্ষেও বছরের প্রথম দিনেও সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছানো যায়নি। আর গতবছরও শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যের পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে ৩ মাস বেশি সময় লেগেছিলো।

এদিকে বছরের শেষ সময়ে এসে তাড়াহুড়ো করে বই ছাপাতে গিয়ে ফর্মা বাদ পড়া, বই খুলে যাওয়া এবং একই পৃষ্ঠা দুবার ছাপার মতো ঘটনাও ঘটে। এবার  ১৩৩টি প্রেসে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপা হচ্ছে। তার মধ্যে মাধ্যমিকের ২২ কোটির বেশি এবং প্রাথমিকের প্রায় ৮ কোটি ২০ লাখ বই। দরপত্র হয়েছে ৭০০টির বেশি। দুই শতাধিক দরপত্রে ছিল একক দরদাতা। প্রতিযোগিতা না থাকায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে ৮-৯ শতাংশ বেশি দামে কাজ পেয়েছে। প্রাক-প্রাথমিকের ২৩.৩৩ শতাংশ বই ছাপার কাজ পেয়েছে মাত্র দুটি প্রেস। অন্যান্য শ্রেণির বই ছাপাতেও বড় অঙ্কের কাজ পেয়েছে হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। আবার ওসব প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা একে অন্যের আত্মীয়। কোথাও আবার একই মালিকের একাধিক প্রতিষ্ঠান একই দরপত্রে অংশ নিয়েছে। বিভিন্ন লটে ১৪-১৫টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনলেও জমা দিয়েছে একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিযোগিতা না থাকায় এবার ছাপা প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি দরে কাজ পেয়েছে।

অন্যদিকে বই ছাপায় এবার শুরু থেকেই কাগজ ও কালির মান নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠছে। অনুমোদিত কাগজের বদলে নিম্নমানের কাগজে বই ছাপানোর অসংখ্য ঘটনা হাতেনাতে ধরা পড়েছে। তাছাড়া পরীক্ষায় নকল কালিও শনাক্ত হয়েছে। বাজারে নির্ধারিত মানের কাগজের প্রতি টনের দাম প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। কিন্তু ছাপাখানাগুলো নিম্নমানের রিসাইকেল পাল্পের কাগজ ২০ হাজার টাকা কমে কিনছে। যদিও কাগজে ৪% জিএসএম হেরফের স্বাভাবিক। কিন্তু দেশের হাতেগোনা কিছু বড় প্রতিষ্ঠান ছাড়া অধিকাংশ কাগজ উৎপাদনকারীর মেশিন ৬০-৭০ বছরের পুরোনো। ফলে সেগুলোর কাগজের একপ্রান্তের তুলনায় অন্য প্রান্তে ১০-১২ জিএসএম পার্থক্য হয়ে যায়। একই সঙ্গে রিসাইকেল পাল্প ব্যবহার করায় আরো বাড়ে ওই পার্থক্য। কিন্তু দাম কম হওয়ায় অনেক ছাপাখানা ওসব কাগজ ব্যবহার করছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান জানান, কিছু প্রতিষ্ঠান সিন্ডিকেট করে সক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি কাজ নিয়েছে। ফলে তারা সময়মতো বই সরবরাহ করতে পারবে না। এজন্য যেসব ছোট প্রেস অল্প কাজ নিয়ে ছাপা সম্পন্ন করে ফেলেছে, বা সম্পন্নের পথে, তাদেরকে বিলম্ব করতে নানাভাবে চাপ দিচ্ছে। লোডশেডিংয়ের দোহাই দিচ্ছে। শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে বই সরবরাহ করলে পরীক্ষা ছাড়া মানহীন বই চলে যেতে পারে। তাছাড়া নানা অপরাধে আগের বছর যারা কালো তালিকাভুক্ত হয়েছিল, তারাও এবার বড় অঙ্কের কাজ পেয়েছে। ফলে বন্ধ হয়নি অনিয়ম।

এ প্রসঙ্গে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক আবু নাসের টুকু জানান, নিম্নমানের কাগজ, কালি, ছাপা ও বাইন্ডিংয়ের অভিযোগে ১৫-১৬টি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে। আরো কয়েকটির নোটিস প্রস্তুত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে মানসম্পন্ন বই দিতে ব্যর্থ হলে কালো তালিকাভুক্তসহ কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আশা করা যায় ২০ অক্টোবরের মধ্যেই প্রাথমিকের বই উপজেলায় চলে যাবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd