1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন

বাগেরহাটে উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে নিতে ৪১৮ মেধাবী শিক্ষার্থীকে জেলা পরিষদের বৃত্তি

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার কারণে এখনো উচ্চশিক্ষার পথ থেকে ঝরে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে বাগেরহাট জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জেলা পরিষদের উদ্যোগে ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া ৪১৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে এককালীন শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম
তিনি বলেন, আমি উপকূলীয় এলাকার সন্তান। ছোটবেলায় পাঁচটি খাল সাঁতরে স্কুলে যেতে হয়েছে। তাই উপকূলের শিক্ষার্থীদের সংগ্রাম, কষ্ট ও স্বপ্নের মূল্য আমি খুব ভালোভাবেই জানি। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী শুধু আর্থিক সংকট ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে উচ্চশিক্ষা থেকে ঝরে পড়ে। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব।
তিনি বলেন,আজকের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং পরিবারের অসীম ত্যাগ। মেধা, জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠনে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতা ধারণ করতে হবে। মাদক, দুর্নীতি ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থেকে একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বাবলু।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অনুপ কুমার দাশ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এ টি এম আকরাম হোসেন তালিম, সরকারি পিসি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জাহাঙ্গীর আলী, খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খন্দকার আছিফ উদ্দিন রাখীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর পড়াশোনার খরচ নিয়ে পরিবার বেশ চিন্তায় ছিল। জেলা পরিষদের এই বৃত্তি আমাদের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা। এটি শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, আরও ভালো করার আত্মবিশ্বাসও জোগাবে।
আরেক শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় এলাকার অনেক শিক্ষার্থীর মতো আমিও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে পড়াশোনা করেছি। এই সম্মাননা ও বৃত্তি আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের জন্য কাজ করতে চাই এবং সমাজের অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে চাই।
অনুষ্ঠান শেষে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৪১৮ জন কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে এককালীন শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd