1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন

দেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বাড়লেও তৈরি হচ্ছে না আশানুরূপ কর্মসংস্থান

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

দেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বাড়লেও তৈরি হচ্ছে না আশানুরূপ কর্মসংস্থান। বরং জনসংখ্যার একটি বড় অংশই শ্রমবাজারের বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে দেশে দ্রুত বাড়ছে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যানুযায়ী দেশে মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি ৫৮ লাখ ৩০ হাজার। তার মধ্যে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সি অর্থাৎ কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ১১ কোটি ৪৪ লাখেরও বেশি। আর এখন কর্মক্ষম বয়সে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৫ শতাংশ। তাছাড়া দেশে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণ জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ১৫ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৯ দশমিক ১১ শতাংশ। আর ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সি তরুণ শ্রমশক্তির সংখ্যা ২ কোটি ৬৭ লাখ। কিন্তু ওই বড় জনগোষ্ঠীর সবাই সক্রিয় নয় শ্রমবাজারে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে শ্রমশক্তি জরিপের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী ১৫-৬৪ বছর বয়সিদের মধ্যে মাত্র ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ শ্রমবাজারে রয়েছে। তারা কাজ করছে বা কাজ খুঁজছে। আর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ৫৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সি তরুণ শ্রমশক্তির প্রায় ২০ লাখই বেকার। তাদের মধ্যে সাড়ে ১৩ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী এবং ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ উচ্চ মাধ্যমিক পাস। অর্থাৎ প্রতি পাঁচজন বেকারের একজন স্নাতক বা উচ্চ মাধ্যমিক সনদধারী। তাছাড়া ১৫-২৯ বছর বয়সি যুব বেকারদের মধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশই স্নাতক। ফলে প্রতি তিনজন স্নাতক তরুণের একজন বেকার।

সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সি জনসংখ্যা ৪ কোটি ৯৪ লাখ, ১৫-৬৪ বছর বয়সি ১১ কোটি ৪৪ লাখ এবং ৬৫ বছরের বেশি ১ কোটি ১৯ লাখের বেশি। বর্তমানে ২০১১ সালের তুলনায় শিশুদের (শূন্য থেকে ১৪) অংশ কমে এসেছে আর বয়স্কদের সংখ্যা বেড়েছে। দেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বাড়ার অর্থ হলো প্রতি বছর নতুন করে বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। কিন্তু ওই হারে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। বর্তমানে দেশে প্রায় ২৭ লাখ তরুণ বেকার । যা মোট জনসংখ্যার হার ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

সূত্র আরো জানায়, শ্রমবাজারে অংশগ্রহণে নারীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বৈষম্য দেখা যায় । সবশেষ জনশুমারি অনুযায়ী দেশে পুরুষের চেয়ে নারীর অনুপাত বেশি। তবে শ্রমশক্তিতে পুরুষের চেয়ে নারীরা পিছিয়ে রয়েছে। সাড়ে ২৭ লাখ বেকারের মধ্যে প্রায় ১০ লাখই নারী। উচ্চশিক্ষিত নারীদের মধ্যেই বেকারত্ব বেশি। বৈষম্য, সামাজিক অবকাঠামো, কাজের পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় অনেক নারীই কর্মক্ষেত্রের ওপর থেকে আগ্রহ হারাচ্ছে। তাতে দেশের অর্থনৈতিক পরিধি বৃদ্ধিতে বাধা আসার আশঙ্কা থাকে। আর কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লে অর্থনীতির সামগ্রিক উৎপাদনশীলতাও বাড়তে পারে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিগত ২০১৫-১৬ সালে নারী শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ছিল ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ধীরে ধীরে বেড়ে ২০২২ সালে ৪২ দশমিক ৭৭ শতাংশে পৌঁছায়। কিন্তু তারপর আবার কমে ২০২৩ সালে ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৩৮ দশমিক ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমানে ওই সংখ্যা আরো বেড়েছে। মূলত সামাজিক বাধা, নিরাপত্তা, উপযুক্ত কাজের অভাবে কর্মক্ষেত্রে নারীরা পিছিয়ে পড়ছে।

এদিকে বড় পরিবর্তন আসছে দেশের জনসংখ্যার কাঠামোতেও। ২০১১ সালে যেখানে শিশুদের হার ছিল ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ, সেখানে ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ১ শতাংশে। আর ৬৫ বছরের বেশি মানুষের হার বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ৬ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। তাছাড়া এখন শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুর সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি আর ৬৫ বছরোর্ধ্ব বয়স্ক মানুষের সংখ্যা এখন দেড় কোটির কাছাকাছি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd