স্পোর্টস: ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টে সেঞ্চুরি, টেস্ট ব্যাটিং গড় ১৪৪। ২০১৯ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই ম্যাচের পর আর কোনো টেস্টে সুযোগ পাননি কাটিস প্যাটারসন। ঘরোয়া ক্রিকেটে টানা বাজে পারফরম্যান্সে তার ক্যারিয়ারই অনিশ্চয়তার মোড়ে পৌঁছে গিয়েছিল। এখন আবার তিনি ফিরেছেন পথে। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে ফেরার দাবি জানিয়ে রাখার বড় একটি সুযোগও এবার পেলেন ৩৩ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশে সুযোগ পেয়েছেন প্যাটারসন। ১৪ সদস্যের এই দলের সবচেয়ে বড় তারকা অবশ্য স্যাম কনস্টাস। টেস্ট অভিষেকে আলোড়ন তোলার পর পথ হারিয়ে বাদ পড়ে যাওয়া তরুণ ব্যাটসম্যানকে রাখা হয়েছে এই দলে। এই দলের আরেক উল্লেখযোগ্য নাম জশ ফিলিপি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৪ ওয়ানডে ও ১৭ টি-টোয়েন্টি খেলা কিপার-ব্যাটারকে বড় দৈর্ঘ্যরে ক্রিকেটেও যে বিবেচনা করা হচ্ছে, সেটির প্রতিফলন পড়ছে এখানে। আগামী ৬ থেকে ৮ অগাস্ট তিন দিনের ম্যাচটি হবে ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কোচের দায়িত্ব পালন করবেন টিম নিলসন। ২০০৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি, এখন মূলত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মেন্টর। ২০১৯ সালে প্যাটারসন টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন মূলত বদলি হিসেবে। সেই সুযোগ কাজে লাগালেও পরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফর্ম হারিয়ে আর বিবেচনায় আসতে পারেননি। তবে গত দুই বছরে তিনি বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ২৩টি প্রথম-শ্রেণির ম্যাচে রান করেছেন ৪৮ গড়ে এবং শতক করেছেন চারটি, যার মধ্যে একটি ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের হয়ে। বয়স ৩৩ বছর পেরিয়ে গেলেও, টেস্ট দলের সম্ভাব্য মিডল-অর্ডার হিসেবে তিনি নির্বাচকদের ভাবনায় রয়েছেন। কনস্টাস অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছেন ৫ টেস্ট। ২০২৪ সালের বঙ্ংি ডে টেস্টে অভিষেকে জাসপ্রিত বুমরাহর বিপক্ষে দুঃসাহসী সব শট খেলে তিনি হইচই ফেলে দেন ক্রিকেট দুনিয়ায়। তবে অভিষেক ইনিংসে ৬০ করার পর ৯ ইনিংস খেলেও আর ২৫ পার করতে পারেননি। গত গত জুলাইয়ে দুঃস্বপ্নের ক্যারিবিয়ান সফরের পর জায়গা হারান দলে। তবে গত শেফিল্ড শিল্ডে তিনি একটি শতক ও দুটি অর্ধশতকসহ ৬৬০ রান করে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দেন। ২০ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানকে নির্বাচকরা বিবেচনায় রাখছেন। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ওপেনার হিসেবে ভবিষ্যতের ভাবনায় কনস্টাসের সম্ভাব্য সঙ্গী মনে করা হয় ক্যাম্পবেল কেলাওয়েকে। গত শেফিল্ড শিল্ডে একটি সেঞ্চুরি ও দুটি ফিফটি করলেও তার ব্যাটিং গড় ছিল ২৬.৭৮। সামগ্রিক প্রথম শ্রেণির রেকর্ডও খুব সমৃদ্ধ নয়। তবে দারুণ প্রতিভাবান মনে করা হয় তাকে। গত বছর ভারতে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের হয়ে তারা দুটি ম্যাচে একসঙ্গে ওপেন করেছিলেন কনস্টান ও কেলাওয়ে। প্রথম অনানুষ্ঠানিক টেস্টে ১৯৮ ও ৫৬ রানের জুটি গড়েছিলেন তারা। টেস্ট দলে ন্যাথান লায়নের সম্ভাব্য উত্তরসূরীদের একজন মনে করা হয় যাকে, সেই কোরি রকেচলি সুযোগ পেয়েছেন এই দলে। পাঁচ মৌসুমে শিল্ড ক্রিকেটে ২৯.১৬ গড়ে ১৫১ উইকেট নিয়ে শীর্ষস্থানীয় স্পিনার ছিলেন তিনি। এই অফ স্পিনারের চেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন কেবল সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পেসার ন্যাথান ম্যাকঅ্যান্ড্রু তার চেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন। টেস্ট দলে বিবেচনার জন্য তিনি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চুক্তিবদ্ধ দুই স্পিনার টড মার্ফি এবং ম্যাট কুনেমানের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে আছেন, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে তিনি খুবই সমাদৃত এবং গত বছর ভারত সফরসহ বেশ কয়েকবার অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের হয়ে খেলেছেন। ফিলিপিকে একসময় শুধু সীমিত ওভারের ক্রিকেটের উপযোগীই মনে করা হতো। তবে এখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও নিজেকে মেলে ধরতে শুরু করেছেন। তিনি ছাড়া কিপার-ব্যাটার আছেন এই দলে জেইক ডোরান। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের পেস আক্রমণ অবশ্য একদমই আনকোরা। খুব পরিচিত নাম কেউ নেই এখানে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ:
ক্যাম্পবেল কেলাওয়ে, ক্যাম্পবেল থম্পসন, কোরি রোকেচলি, হ্যানো জ্যাকবস, জেইক ডোরান, জার্সিস ওয়াদিয়া, জশ ফিলিপি, কার্টিস প্যাটারসন, স্যাম কনস্টাস, টিগ উইলি, টম মেনজিস, টম রজার্স, জেভিয়ার ক্রোন, নোয়া ম্যাকফ্যাডিয়েন।