Dhaka ০২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিকে ফিরছে বৃত্তি পরীক্ষা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪৯:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২৫১ Time View

প্রাথমিক শিক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পুনরায় বৃত্তি পরীক্ষা চালু করার পাশাপাশি সীমিত পরিসরে মিড-ডে মিল কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া কমাতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন গতি আনতে সহায়ক হবে।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “প্রাথমিকে যারা পড়ে তাদের অনেকেই আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের সন্তান। অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে অনেকে পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেয়। বৃত্তির মাধ্যমে আর্থিক প্রণোদনা দিলে শিক্ষার্থীরা হাইস্কুল পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত হবে।”

তিনি আরও জানান, বেসরকারি খাত অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়ে থাকে, যা একধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি করে। সরকারি পর্যায়ে বৃত্তি পুনরায় চালুর ফলে এই প্রতিযোগিতা আরও অর্থবহ হবে।

গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “১৬ বছর পর আমরা আবারও প্রাথমিক স্তরে বৃত্তি পরীক্ষা চালু করছি। পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে দেশের প্রায় দেড়শো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রম শুরু হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও কথা বলেন। তার ভাষায়, “বছরে মাত্র ১৮০ দিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস হয়। এর বাইরে অনেক শিক্ষা বহির্ভূত কাজে শিক্ষকদের ব্যস্ত রাখা হয়। এতে শিক্ষা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এজন্য শিক্ষা ক্যালেন্ডারে ছুটি কমানো হবে।”

শিক্ষকদের পদোন্নতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, মামলার কারণে অনেক শিক্ষক পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্তমানে প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষক প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। পদোন্নতি কার্যকর হলে অনেক নতুন পদ সৃষ্টি হবে এবং প্রশাসনিক কাঠামো আরও সুসংগঠিত হবে।

দেশে প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশের ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে এখনো ২২ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ নিরক্ষর। এরা হয় কখনো বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়নি অথবা ভর্তি হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে ঝরে পড়েছে।

Tag :
About Author Information

প্রাথমিকে ফিরছে বৃত্তি পরীক্ষা

Update Time : ০১:৪৯:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

প্রাথমিক শিক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পুনরায় বৃত্তি পরীক্ষা চালু করার পাশাপাশি সীমিত পরিসরে মিড-ডে মিল কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া কমাতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন গতি আনতে সহায়ক হবে।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “প্রাথমিকে যারা পড়ে তাদের অনেকেই আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের সন্তান। অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে অনেকে পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেয়। বৃত্তির মাধ্যমে আর্থিক প্রণোদনা দিলে শিক্ষার্থীরা হাইস্কুল পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত হবে।”

তিনি আরও জানান, বেসরকারি খাত অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়ে থাকে, যা একধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি করে। সরকারি পর্যায়ে বৃত্তি পুনরায় চালুর ফলে এই প্রতিযোগিতা আরও অর্থবহ হবে।

গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “১৬ বছর পর আমরা আবারও প্রাথমিক স্তরে বৃত্তি পরীক্ষা চালু করছি। পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে দেশের প্রায় দেড়শো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রম শুরু হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও কথা বলেন। তার ভাষায়, “বছরে মাত্র ১৮০ দিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস হয়। এর বাইরে অনেক শিক্ষা বহির্ভূত কাজে শিক্ষকদের ব্যস্ত রাখা হয়। এতে শিক্ষা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এজন্য শিক্ষা ক্যালেন্ডারে ছুটি কমানো হবে।”

শিক্ষকদের পদোন্নতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, মামলার কারণে অনেক শিক্ষক পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্তমানে প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষক প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। পদোন্নতি কার্যকর হলে অনেক নতুন পদ সৃষ্টি হবে এবং প্রশাসনিক কাঠামো আরও সুসংগঠিত হবে।

দেশে প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশের ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে এখনো ২২ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ নিরক্ষর। এরা হয় কখনো বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়নি অথবা ভর্তি হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে ঝরে পড়েছে।