Dhaka ১০:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানিরা বাঁচিয়েছিলেন সোনু নিগমকে

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪৫:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৮ Time View

গানের সুরে মেতে ছিল করাচির সেই রাত। দর্শকেঠাসা ভেন্যু, মঞ্চে দাঁড়িয়ে সুরের জাদু ছড়াচ্ছেন ভারতের জনপ্রিয় গায়ক সোনু নিগম। কিন্তু মুহূর্তেই সেই সুরের মূর্ছনা ছাপিয়ে শোনা গেল এক বিকট শব্দ। চারপাশ কেঁপে উঠল এক শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে। নিমেষের মধ্যেই আনন্দ পরিণত হলো আতঙ্কে, উৎসবের আমেজ ঢেকে গেল মৃত্যু-ভয়ে। দুই দশক আগে পাকিস্তানের করাচি শহরে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা আবারও সামনে আনলেন সোনু নিজেই। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০৪ সালের ১০ মার্চ। দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও তখন শিল্পীদের যাতায়াত ছিল অবারিত। করাচির একটি কনসার্টে অংশ নিতে গিয়েছিলেন সোনু। ভেন্যুতে প্রিয় গায়ককে একঝলক দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার পাকিস্তানি ভক্ত। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই কনসার্টস্থলের ঠিক বাইরে একটি শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। হামলায় প্রাণ হারান বেশ কয়েকজন, আহত হন আরও অনেকে। বিস্ফোরণের শব্দে গায়ক এবং উপস্থিত দর্শকরা স্বাভাবিকভাবেই বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু সোনু নিগম জানান, সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও দর্শকদের হার না মানা মানসিকতা তাকে অবাক করেছিল। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি পুরনো ভিডিও শেয়ার করে সোনু সেই রাতের রোমহর্ষক স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন। গায়ক জানান, সেদিন তিনি মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে এসেছিলেন। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বিস্ফোরণের পর উদ্বিগ্ন সোনু মঞ্চে উঠে দর্শকদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, “এই সন্ধ্যায় আমি আপনাদের মনোরঞ্জন করার চেষ্টা করব। আপনাদের তাড়া নেই তো?”প্রিয় শিল্পীর সাহসে বলীয়ান হয়ে দর্শকরাও চিৎকার করে সম্মতি জানান। এরপর আতঙ্ক ভুলে ‘কাভি খুশি কাভি গাম’, ‘ম্যায় হুঁ না’, ‘কাল হো না হো’ এবং ‘ভির জারা’-র মতো কালজয়ী গানগুলো গেয়ে শোনান তিনি। বিশেষ করে ‘সুরজ হুয়া মাধ্যম’ গানটির সময় দর্শকদের আবেগ ছিল চোখে পড়ার মতো। সোনু নিগম আবেগতাড়িত হয়ে জানান, সেই রাতে তাকে এবং তার দলকে নিরাপদ রাখতে বুক দিয়ে আগলে রেখেছিলেন সাধারণ পাকিস্তানিরাই। তাদের ভালোবাসা আর সহযোগিতার কারণেই তিনি প্রাণে বেঁচে ফিরেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানের আয়োজক ফারকান সিদ্দীকী জানান, এরপর থেকে প্রতি বছর ১০ এপ্রিল সোনুর কাছ থেকে একটি বার্তা পান তিনি। যেখানে সোনু স্মরণ করেন সেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণকে। সোনুর ভাষায়, ‘সেদিন হামলা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু আমাকে বাঁচিয়েছিলেন পাকিস্তানিরাই।‘ দীর্ঘ ২০ বছর পর এই স্মৃতিচারণ আবারও প্রমাণ করল-দেশ, কাল বা রাজনীতির সীমানা পেরিয়ে শিল্প ও শিল্পীর প্রতি ভালোবাসা সব বাধা তুচ্ছ করতে পারে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক সাপে-নেউলে হলেও সেই সফরে সোনুর গাওয়া গানগুলো আজও ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তানি মানুষের মানুষের কাছে সমান জনপ্রিয়।

 

Tag :
About Author Information

পাকিস্তানিরা বাঁচিয়েছিলেন সোনু নিগমকে

Update Time : ১১:৪৫:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

গানের সুরে মেতে ছিল করাচির সেই রাত। দর্শকেঠাসা ভেন্যু, মঞ্চে দাঁড়িয়ে সুরের জাদু ছড়াচ্ছেন ভারতের জনপ্রিয় গায়ক সোনু নিগম। কিন্তু মুহূর্তেই সেই সুরের মূর্ছনা ছাপিয়ে শোনা গেল এক বিকট শব্দ। চারপাশ কেঁপে উঠল এক শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে। নিমেষের মধ্যেই আনন্দ পরিণত হলো আতঙ্কে, উৎসবের আমেজ ঢেকে গেল মৃত্যু-ভয়ে। দুই দশক আগে পাকিস্তানের করাচি শহরে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা আবারও সামনে আনলেন সোনু নিজেই। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০৪ সালের ১০ মার্চ। দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও তখন শিল্পীদের যাতায়াত ছিল অবারিত। করাচির একটি কনসার্টে অংশ নিতে গিয়েছিলেন সোনু। ভেন্যুতে প্রিয় গায়ককে একঝলক দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার পাকিস্তানি ভক্ত। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই কনসার্টস্থলের ঠিক বাইরে একটি শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। হামলায় প্রাণ হারান বেশ কয়েকজন, আহত হন আরও অনেকে। বিস্ফোরণের শব্দে গায়ক এবং উপস্থিত দর্শকরা স্বাভাবিকভাবেই বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু সোনু নিগম জানান, সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও দর্শকদের হার না মানা মানসিকতা তাকে অবাক করেছিল। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি পুরনো ভিডিও শেয়ার করে সোনু সেই রাতের রোমহর্ষক স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন। গায়ক জানান, সেদিন তিনি মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে এসেছিলেন। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বিস্ফোরণের পর উদ্বিগ্ন সোনু মঞ্চে উঠে দর্শকদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, “এই সন্ধ্যায় আমি আপনাদের মনোরঞ্জন করার চেষ্টা করব। আপনাদের তাড়া নেই তো?”প্রিয় শিল্পীর সাহসে বলীয়ান হয়ে দর্শকরাও চিৎকার করে সম্মতি জানান। এরপর আতঙ্ক ভুলে ‘কাভি খুশি কাভি গাম’, ‘ম্যায় হুঁ না’, ‘কাল হো না হো’ এবং ‘ভির জারা’-র মতো কালজয়ী গানগুলো গেয়ে শোনান তিনি। বিশেষ করে ‘সুরজ হুয়া মাধ্যম’ গানটির সময় দর্শকদের আবেগ ছিল চোখে পড়ার মতো। সোনু নিগম আবেগতাড়িত হয়ে জানান, সেই রাতে তাকে এবং তার দলকে নিরাপদ রাখতে বুক দিয়ে আগলে রেখেছিলেন সাধারণ পাকিস্তানিরাই। তাদের ভালোবাসা আর সহযোগিতার কারণেই তিনি প্রাণে বেঁচে ফিরেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানের আয়োজক ফারকান সিদ্দীকী জানান, এরপর থেকে প্রতি বছর ১০ এপ্রিল সোনুর কাছ থেকে একটি বার্তা পান তিনি। যেখানে সোনু স্মরণ করেন সেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণকে। সোনুর ভাষায়, ‘সেদিন হামলা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু আমাকে বাঁচিয়েছিলেন পাকিস্তানিরাই।‘ দীর্ঘ ২০ বছর পর এই স্মৃতিচারণ আবারও প্রমাণ করল-দেশ, কাল বা রাজনীতির সীমানা পেরিয়ে শিল্প ও শিল্পীর প্রতি ভালোবাসা সব বাধা তুচ্ছ করতে পারে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক সাপে-নেউলে হলেও সেই সফরে সোনুর গাওয়া গানগুলো আজও ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তানি মানুষের মানুষের কাছে সমান জনপ্রিয়।