Dhaka ১১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাইকগাছা পৌর সদরে কাঠ পুড়িয়ে চিংড়ি শুকানো ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:১৪:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৩৪ Time View
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা পৌরসভায় কাঠ পুড়িয়ে চিংড়ি শুকানোর ধোঁয়ায় পরিবেশ ও বায়ু দূষণে ভোগান্তিতে পড়েছে পৌরবাসী। পাইকগাছা পৌরসভায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে জনবসতি এলাকায় প্রকাশ্যে কাঠ পুড়িয়ে চিংড়ি মাছ শুকানোর ঘটনায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃস্টি হযেছে। ধোঁয়ায় পরিবেশ, বায়ু দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হলেও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কামাল হোসেন ও দেবব্রত জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাড়িঘরের মাঝখানে শত শত মন দেশীয় কাঠ পুড়িয়ে চিংড়ি মাছ শুকাচ্ছেন। আমাবশ্যা ও পুর্নিমার সময় দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশ ঢেকে রাখে, চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে যায়। এতে একদিকে পথচারীরা শ্বাসকষ্টে ভোগেন, অন্যদিকে স্থানীয় সাধারণ মানুষ চরম কষ্টে দিন পার করছেন। এঘটনায় এলাকাবাসী অভিযোগ করলেও তার প্রতিকার পায়নি।
স্থানীয়রা জানান, সরকারি অনুমোদন বা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই জনবসতির মধ্যে এ অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। চিংড়ি শুকানোর কাজে তারা কাঠের পাশাপাশি কেরোসিন তেল ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করেন, যা থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
স্থানীয় নাগরিক কবির হোসেন বলেন, আমাদের এলাকার বাচ্চারা ধোঁয়ায় কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছে। ঘরের ভেতরেও ধোঁয়ার গন্ধে থাকা যায় না। আমরা বহুবার মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিংড়ি শুকানোর সময় কাঠে কেরোসিন তেল ব্যবহার করলে তাতে থাকা রাসায়নিক উপাদান চিংড়ির মধ্যে প্রবেশ করে। এসব মাছ নিয়মিত খেলে ফুসফুস, লিভার ও কিডনি জটিলতা, এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, সরকার যেখানে পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেখানে জনবসতির মধ্যে কাঠ পুড়িয়ে মাছ শুকানো শুধু আইন ভঙ্গই নয়, জনগণের জীবনের ওপরও ভয়ানক হুমকি। আমরা দ্রুত এ অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ চাই।
Tag :
About Author Information

পাইকগাছা পৌর সদরে কাঠ পুড়িয়ে চিংড়ি শুকানো ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

Update Time : ০৭:১৪:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা পৌরসভায় কাঠ পুড়িয়ে চিংড়ি শুকানোর ধোঁয়ায় পরিবেশ ও বায়ু দূষণে ভোগান্তিতে পড়েছে পৌরবাসী। পাইকগাছা পৌরসভায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে জনবসতি এলাকায় প্রকাশ্যে কাঠ পুড়িয়ে চিংড়ি মাছ শুকানোর ঘটনায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃস্টি হযেছে। ধোঁয়ায় পরিবেশ, বায়ু দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হলেও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কামাল হোসেন ও দেবব্রত জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাড়িঘরের মাঝখানে শত শত মন দেশীয় কাঠ পুড়িয়ে চিংড়ি মাছ শুকাচ্ছেন। আমাবশ্যা ও পুর্নিমার সময় দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশ ঢেকে রাখে, চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে যায়। এতে একদিকে পথচারীরা শ্বাসকষ্টে ভোগেন, অন্যদিকে স্থানীয় সাধারণ মানুষ চরম কষ্টে দিন পার করছেন। এঘটনায় এলাকাবাসী অভিযোগ করলেও তার প্রতিকার পায়নি।
স্থানীয়রা জানান, সরকারি অনুমোদন বা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই জনবসতির মধ্যে এ অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। চিংড়ি শুকানোর কাজে তারা কাঠের পাশাপাশি কেরোসিন তেল ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করেন, যা থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
স্থানীয় নাগরিক কবির হোসেন বলেন, আমাদের এলাকার বাচ্চারা ধোঁয়ায় কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছে। ঘরের ভেতরেও ধোঁয়ার গন্ধে থাকা যায় না। আমরা বহুবার মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিংড়ি শুকানোর সময় কাঠে কেরোসিন তেল ব্যবহার করলে তাতে থাকা রাসায়নিক উপাদান চিংড়ির মধ্যে প্রবেশ করে। এসব মাছ নিয়মিত খেলে ফুসফুস, লিভার ও কিডনি জটিলতা, এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, সরকার যেখানে পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেখানে জনবসতির মধ্যে কাঠ পুড়িয়ে মাছ শুকানো শুধু আইন ভঙ্গই নয়, জনগণের জীবনের ওপরও ভয়ানক হুমকি। আমরা দ্রুত এ অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ চাই।