Dhaka ০৩:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাটোরে কলেজশিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা, ক্ষোভের আগুনে পুড়ে মারা গেলেন বৃদ্ধা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪৪ Time View

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় এক কলেজশিক্ষককে কুপিয়ে হত্যার পর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র উত্তেজনা। সেই ঘটনার রেশ ধরে বিক্ষুব্ধ মানুষের দেওয়া আগুনে পুড়ে মারা যান এক বৃদ্ধা নারী। একই রাতে ঘটে যাওয়া এই দুই ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়নের কদমতলা কুমারপাড়া গ্রামে। নিহত কলেজশিক্ষক মো. রেজাউল করিম, বয়স তেপ্পান্ন। তিনি বিল হালতি ত্রিমোহনী কলেজের শিক্ষক এবং সিংড়া উপজেলা জিয়া পরিষদের সদস্য ছিলেন। অপর নিহত সাবিহা বেগম, বয়স পঁচাত্তর। তিনি একই গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল ওয়াহাবের মা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত এগারোটার দিকে বাড়ির কাছেই রেজাউল করিমকে একদল দুর্বৃত্ত কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলেও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। কিছুক্ষণ পর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর একটি অংশ ওই গ্রামের একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন লাগার সময় বাড়ির অন্য সদস্যরা বেরিয়ে যেতে পারলেও সাবিহা বেগম ঘরের ভেতরেই আটকা পড়েন। পরে আগুনে দগ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুন নূর বলেন, “রাতেই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি মরদেহ উদ্ধার করি। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।” তিনি আরও জানান, কলেজশিক্ষক হত্যার কারণ এখনো স্পষ্ট নয় এবং এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. আসাদুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, “রেজাউল করিম বিএনপি–সমর্থিত একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে এই হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক না ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।” তিনি দুই ঘটনাই নিন্দনীয় উল্লেখ করে বলেন, “আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং দোষীরা দ্রুত শাস্তির আওতায় আসুক।”

দুই মৃত্যুর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কদমতলা কুমারপাড়া গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন করে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

Tag :
About Author Information

নাটোরে কলেজশিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা, ক্ষোভের আগুনে পুড়ে মারা গেলেন বৃদ্ধা

Update Time : ১১:১৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় এক কলেজশিক্ষককে কুপিয়ে হত্যার পর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র উত্তেজনা। সেই ঘটনার রেশ ধরে বিক্ষুব্ধ মানুষের দেওয়া আগুনে পুড়ে মারা যান এক বৃদ্ধা নারী। একই রাতে ঘটে যাওয়া এই দুই ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়নের কদমতলা কুমারপাড়া গ্রামে। নিহত কলেজশিক্ষক মো. রেজাউল করিম, বয়স তেপ্পান্ন। তিনি বিল হালতি ত্রিমোহনী কলেজের শিক্ষক এবং সিংড়া উপজেলা জিয়া পরিষদের সদস্য ছিলেন। অপর নিহত সাবিহা বেগম, বয়স পঁচাত্তর। তিনি একই গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল ওয়াহাবের মা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত এগারোটার দিকে বাড়ির কাছেই রেজাউল করিমকে একদল দুর্বৃত্ত কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলেও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। কিছুক্ষণ পর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর একটি অংশ ওই গ্রামের একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন লাগার সময় বাড়ির অন্য সদস্যরা বেরিয়ে যেতে পারলেও সাবিহা বেগম ঘরের ভেতরেই আটকা পড়েন। পরে আগুনে দগ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুন নূর বলেন, “রাতেই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি মরদেহ উদ্ধার করি। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।” তিনি আরও জানান, কলেজশিক্ষক হত্যার কারণ এখনো স্পষ্ট নয় এবং এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. আসাদুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, “রেজাউল করিম বিএনপি–সমর্থিত একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে এই হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক না ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।” তিনি দুই ঘটনাই নিন্দনীয় উল্লেখ করে বলেন, “আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং দোষীরা দ্রুত শাস্তির আওতায় আসুক।”

দুই মৃত্যুর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কদমতলা কুমারপাড়া গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন করে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।