নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বঙ্গভবনের দরবার হলেরও সকল প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বলেন, “মহামান্য রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সব আয়োজন শেষ হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করছে।”
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেবেন। তাকে শপথ করাবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এ শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এ শপথ অনুষ্ঠানে ১২ শতাধিক অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়েছে, “সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি দরবার হলে আগমন করবেন। জাতীয় সংগীত ও কোরআন তেলাওয়াতের পর মাননীয় স্পিকার রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনা করবেন।”
গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। এ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের অলি আহমদ।
এ নির্বাচনে সাধারণ সংসদ সদস্য ও সংরক্ষিত মিলিয়ে মোট ৩৪৯ জন ভোটার ছিলেন, যাদের মধ্যে ৯ জন ছিলেন অনুপস্থিত। এতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আর অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।
ভোট গণনা শেষে বিকালে সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটের ফল ঘোষণা করেন নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। সন্ধ্যায় এ ফলের গেজেট প্রকাশ করা হয়।
সংসদীয় পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকায় কেবল সেবারই ভোটাভুটি হয়। এরপর গত সাতটি নির্বাচনে একজন করে প্রার্থী থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এবার প্রতিদ্বন্দ্বী দুজন হওয়ায় নিয়ম রক্ষার ভোটের আয়োজন করা হয়।