বিদেশ : ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে গত রাতে রুশ হামলায় অন্তত নয়জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে। সামপ্রতিক মাসগুলোতে দুই পক্ষই দূরপাল্লার হামলা জোরদার করেছে। এতে সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে উভয় পক্ষের বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বেড়েছে। কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো গতকাল বৃহস্পতিবার টেলিগ্রামে লিখেছেন, ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাজধানীর আবাসিক এলাকা ও গুদামগুলোতে আঘাত হেনেছে। শহরের সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, একটি চিকিৎসাকেন্দ্র ও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে ক্লিৎসকো জানান, রাজধানীতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৩৩ জন। কিয়েভের বৃহত্তর অঞ্চলের ব্রোভারি জেলায় হামলায় একজন পুরুষ নিহত ও আরেকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর তিমুর তকাচেঙ্কো। তিনি বলেন, ‘একটি শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন নেভাতে সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থা ঘটনাস্থলে কাজ করছে।’ ইউক্রেনের বিমানবাহিনী রাজধানীর দিকে এগিয়ে আসা রুশ ‘কালিবর’ ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করেছিল। কিয়েভ অঞ্চলের কাহারলিক গ্রামের আশপাশে এসব ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়। হামলার পর প্রতিবেশী ন্যাটো সদস্য দেশগুলোও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। পোল্যান্ডের সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, তারা বিমান মোতায়েন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। বিশেষ করে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী এলাকায় পোলিশ আকাশসীমা সুরক্ষায় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত রাতে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে রাডার ব্যবস্থায় আকাশপথে উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা হয়। এর পর ন্যাটোর মিশনে মোতায়েন দুটি স্প্যানিশ যুদ্ধবিমান ও রোমানিয়ার বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার আকাশে ওড়ানো হয়। মন্ত্রণালয় জানায়, গালাতির কাছে একটি ড্রোন রোমানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করে। পরে এটি তুলচিয়া কাউন্টির জনবসতিহীন এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। রাশিয়াও ইউক্রেনের বড় ধরণের ড্রোন হামলার খবর জানিয়েছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেন, গত বুধবার রাত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৫০টি ড্রোন মস্কো অঞ্চলের দিকে উড়ে আসে। এর বেশিরভাগই রাজধানী থেকে অনেক দূরে ধ্বংস করা হয়। সোবিয়ানিন আরও বলেন, ‘মস্কো অঞ্চলে ২৮টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।’ কিয়েভে প্রায় প্রতি রাতেই হামলা হচ্ছে। এর পাশাপাশি গত কয়েক মাসে রাশিয়ার ওপর পাল্টা হামলাও জোরদার করেছে ইউক্রেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই সংঘাতের অবসানে মস্কোকে আলোচনার টেবিলে বসতে চাপ দেওয়ারও অন্যতম লক্ষ্য এসব হামলা।