ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস হত্যা মামলায় আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার সময় দিপুকে মারধর করার পাশাপাশি তার মরদেহের ওপর নির্যাতন চালাতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন মো. সোহেল রানা।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাত ৮টার দিকে ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার সোহেল রানা (৩৪) টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মহাইল গ্রামের তোরাব আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে সোহেলকে আটক করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “প্রাথমিক তদন্ত ও অন্য আসামিদের জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার দিন দিপু চন্দ্রকে কারখানার ফ্লোর থেকে গার্ড রুমে নেওয়ার সময় সোহেল সরাসরি মারধরে অংশ নেন। তিনি কারখানার কর্মীদের উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে উত্তেজিত করে তোলেন এবং দিপুর মরদেহের ওপর নির্যাতনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।” তিনি আরও জানান, উপস্থিত জনতাকে সহিংসতায় উৎসাহিত করার ক্ষেত্রেও তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামি আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেলের নাম উল্লেখ করেন। এ নিয়ে দিপু চন্দ্র দাস হত্যা মামলায় মোট ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১২ জন আসামি আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) ভালুকার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ রশি দিয়ে বেঁধে একটি গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) দিপুর ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ভালুকা থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়।
Reporter Name 














