Dhaka ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাওয়াত খেতে গিয়ে যে দোয়া পড়বেন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪২:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫
  • ২১০ Time View

সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করে দাওয়াত; খাবারের সঙ্গে মিশে যায় আন্তরিকতা, স্নেহ ও ভালোবাসা। যুগ যুগ ধরে চলে আসছে এ সংস্কৃতি। আর মেহমানদারি নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত।
কেউ কারো মেহমান হলে মেজবানের দায়িত্ব মেহমানকে আপ্যায়ন করা। মেজবানের কাছ থেকে বিদায় নেয়ার সময় মেহমানেরও একটি দোয়া পড়া সুন্নত।

দোয়াটি হলো–
اللهم بارك لهم فيما رزقتهم، واغفر لهم، وارحمهم (উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা বারিক লাহুম ফি-মা রজাকতাহুম, ওয়াগফির লাহুম ওয়ারহামহুম।)

অর্থ: হে আল্লাহ! তাদের যে রিজিক দিয়েছেন, তাতে বরকত দান করুন, তাদের ক্ষমা করুন এবং তাদের প্রতি দয়া করুন।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বাবার কাছে এলেন। আমরা তার জন্য খাবার পরিবেশন করলে তিনি তা আহার করলেন।

তারপর খেজুর আনা হলে তিনি তা খেতে থাকলেন এবং দুই আঙুলের মাধ্যমে খেজুরের বিচি ফেলে দিতে লাগলেন মধ্যমা ও তর্জনী একত্র করে। শু’বাহ বলেন, এটা আমার সন্দেহ, ইনশাআল্লাহ এটাই সঠিক। তারপর পানীয় দ্রব্য আনা হলে তিনি তা পান করলেন, তারপর পানপাত্র তার ডান পাশের ব্যক্তিকে দিলেন।

আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রা.) বলেন, তারপর আমার বাবা তার সওয়ারির লাগাম ধরে বললেন, আমাদের জন্য দোয়া করুন। তখন তিনি এই দোয়া করলেন। (তিরমিজি: ৩৫৭৬)

মেহমানের দোয়া সম্পর্কে আরেক হাদিসে এসেছে, নবীজি (স.) সাদ ইবনে উবাদা (রা.)-এর কাছে এলেন। তখন তিনি নবীজি (স.)-কে রুটি ও জয়তুনের তেল দিয়ে আপ্যায়ন করালেন। পানাহারের পর রাসুলুল্লাহ (স.) এই দোয়াটি পড়লেন-

أَكَلَ طَعَامَكُمُ الْأَبْرَارُ، وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ، وَأَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُونَ (উচ্চারণ: ‘আকালা ত্বোয়ামাকুমুল আবরার, ওছল্লাত আলাইকুমুল মালায়িকাহতু ওয়াআফতার ইন্দাকুমুছ ছ’য়িমুন।)

অর্থ: আল্লাহ এমন করুন যেন (এমনভাবে) নেককার লোকেরা তোমাদের খানা খায় এবং ফেরেশতাগণ যেন তোমাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া করে এবং রোজাদারগণ যেন তোমাদের বাড়িতে ইফতার করে। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)

Tag :
About Author Information

দাওয়াত খেতে গিয়ে যে দোয়া পড়বেন

Update Time : ০৬:৪২:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫

সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করে দাওয়াত; খাবারের সঙ্গে মিশে যায় আন্তরিকতা, স্নেহ ও ভালোবাসা। যুগ যুগ ধরে চলে আসছে এ সংস্কৃতি। আর মেহমানদারি নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত।
কেউ কারো মেহমান হলে মেজবানের দায়িত্ব মেহমানকে আপ্যায়ন করা। মেজবানের কাছ থেকে বিদায় নেয়ার সময় মেহমানেরও একটি দোয়া পড়া সুন্নত।

দোয়াটি হলো–
اللهم بارك لهم فيما رزقتهم، واغفر لهم، وارحمهم (উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা বারিক লাহুম ফি-মা রজাকতাহুম, ওয়াগফির লাহুম ওয়ারহামহুম।)

অর্থ: হে আল্লাহ! তাদের যে রিজিক দিয়েছেন, তাতে বরকত দান করুন, তাদের ক্ষমা করুন এবং তাদের প্রতি দয়া করুন।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বাবার কাছে এলেন। আমরা তার জন্য খাবার পরিবেশন করলে তিনি তা আহার করলেন।

তারপর খেজুর আনা হলে তিনি তা খেতে থাকলেন এবং দুই আঙুলের মাধ্যমে খেজুরের বিচি ফেলে দিতে লাগলেন মধ্যমা ও তর্জনী একত্র করে। শু’বাহ বলেন, এটা আমার সন্দেহ, ইনশাআল্লাহ এটাই সঠিক। তারপর পানীয় দ্রব্য আনা হলে তিনি তা পান করলেন, তারপর পানপাত্র তার ডান পাশের ব্যক্তিকে দিলেন।

আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রা.) বলেন, তারপর আমার বাবা তার সওয়ারির লাগাম ধরে বললেন, আমাদের জন্য দোয়া করুন। তখন তিনি এই দোয়া করলেন। (তিরমিজি: ৩৫৭৬)

মেহমানের দোয়া সম্পর্কে আরেক হাদিসে এসেছে, নবীজি (স.) সাদ ইবনে উবাদা (রা.)-এর কাছে এলেন। তখন তিনি নবীজি (স.)-কে রুটি ও জয়তুনের তেল দিয়ে আপ্যায়ন করালেন। পানাহারের পর রাসুলুল্লাহ (স.) এই দোয়াটি পড়লেন-

أَكَلَ طَعَامَكُمُ الْأَبْرَارُ، وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ، وَأَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُونَ (উচ্চারণ: ‘আকালা ত্বোয়ামাকুমুল আবরার, ওছল্লাত আলাইকুমুল মালায়িকাহতু ওয়াআফতার ইন্দাকুমুছ ছ’য়িমুন।)

অর্থ: আল্লাহ এমন করুন যেন (এমনভাবে) নেককার লোকেরা তোমাদের খানা খায় এবং ফেরেশতাগণ যেন তোমাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া করে এবং রোজাদারগণ যেন তোমাদের বাড়িতে ইফতার করে। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)