Dhaka ১২:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দল বা মার্কা নয়—ভোটাররা প্রার্থীর ইমেজ দেখে ভোট দিতে চান: জরিপ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪৩ Time View

রাজধানীতে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই) বুধবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক এক জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়, যেখানে নির্বাচনি পরিবেশ ও ভোটারদের মনস্তত্ত্বের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ফুটে উঠেছে। জরিপে উঠে আসে এবার নির্বাচনে ভোটাররা কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল কিংবা ‘মার্কা’ দেখে নয়, বরং প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ ও যোগ্যতা দেখে ভোট দিতে চান। ভোটারদের এই নতুন প্রবণতা প্রচলিত দলীয় রাজনীতির সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বর্তমানে ভোটাররা কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল কিংবা ‘মার্কা’ দেখে নয়, বরং প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ ও যোগ্যতা দেখে ভোট দিতে চান। ভোটারদের এই নতুন প্রবণতা প্রচলিত দলীয় রাজনীতির সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নাগরিকরা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থার সংকটে ভুগছেন বলে জরিপে উঠে এসেছে। বিশেষ করে, জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে; মাত্র ৩০ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে এই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে। এছাড়া, জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ঐকমত্যের কথা বলা হলেও স্থানীয় পর্যায়ে তার কোনও প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। প্রার্থীরা প্রচারণার ক্ষেত্রে গঠনমূলক আলোচনার চেয়ে ব্যগত আক্রমণে বেশি লিপ্ত হচ্ছেন। জরিপের অন্যান্য পর্যবেক্ষণ হলো-রংপুর ও ফরিদপুর জেলায় সহিংসতার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। ডিজিটাল অপতথ্য এবং রাজনৈতিক অপব্যবহারের কারণে স্থানীয় যুবসমাজ চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। জরিপে ভোটাররা স্পষ্ট তিনটি প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন। ১. নিরপেক্ষ প্রশাসন, ২. জবাবদিহিতা ও কাজের বাস্তবায়ন।

একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, আসন্ন নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষ সচেতন, যা তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাকে নির্দেশ করে।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ভোটাররা যেহেতু এখন দল বা মার্কার চেয়ে ব্যক্তির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন, তাই দলগুলোকে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী মনোনয়নে আরও যত্নশীল হতে হবে। একইসঙ্গে ডিজিটাল অপতথ্য রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দেয়া হয়।

এ দিন ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও সহিংসতা প্রতিরোধ: মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে গোলটেবিল আলোচনা’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের ৫টি জেলায় পরিচালিত এই জরিপে মোট ৬০০ জন (৪০০ জন প্রত্যক্ষ এবং ২০০ জন পরোক্ষ) অংশীজন তাদের মতামত প্রদান করেন।

Tag :
About Author Information

দল বা মার্কা নয়—ভোটাররা প্রার্থীর ইমেজ দেখে ভোট দিতে চান: জরিপ

Update Time : ১১:৩২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীতে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই) বুধবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক এক জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়, যেখানে নির্বাচনি পরিবেশ ও ভোটারদের মনস্তত্ত্বের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ফুটে উঠেছে। জরিপে উঠে আসে এবার নির্বাচনে ভোটাররা কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল কিংবা ‘মার্কা’ দেখে নয়, বরং প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ ও যোগ্যতা দেখে ভোট দিতে চান। ভোটারদের এই নতুন প্রবণতা প্রচলিত দলীয় রাজনীতির সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বর্তমানে ভোটাররা কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল কিংবা ‘মার্কা’ দেখে নয়, বরং প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ ও যোগ্যতা দেখে ভোট দিতে চান। ভোটারদের এই নতুন প্রবণতা প্রচলিত দলীয় রাজনীতির সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নাগরিকরা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থার সংকটে ভুগছেন বলে জরিপে উঠে এসেছে। বিশেষ করে, জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে; মাত্র ৩০ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে এই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে। এছাড়া, জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ঐকমত্যের কথা বলা হলেও স্থানীয় পর্যায়ে তার কোনও প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। প্রার্থীরা প্রচারণার ক্ষেত্রে গঠনমূলক আলোচনার চেয়ে ব্যগত আক্রমণে বেশি লিপ্ত হচ্ছেন। জরিপের অন্যান্য পর্যবেক্ষণ হলো-রংপুর ও ফরিদপুর জেলায় সহিংসতার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। ডিজিটাল অপতথ্য এবং রাজনৈতিক অপব্যবহারের কারণে স্থানীয় যুবসমাজ চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। জরিপে ভোটাররা স্পষ্ট তিনটি প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন। ১. নিরপেক্ষ প্রশাসন, ২. জবাবদিহিতা ও কাজের বাস্তবায়ন।

একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, আসন্ন নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষ সচেতন, যা তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাকে নির্দেশ করে।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ভোটাররা যেহেতু এখন দল বা মার্কার চেয়ে ব্যক্তির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন, তাই দলগুলোকে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী মনোনয়নে আরও যত্নশীল হতে হবে। একইসঙ্গে ডিজিটাল অপতথ্য রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দেয়া হয়।

এ দিন ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও সহিংসতা প্রতিরোধ: মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে গোলটেবিল আলোচনা’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের ৫টি জেলায় পরিচালিত এই জরিপে মোট ৬০০ জন (৪০০ জন প্রত্যক্ষ এবং ২০০ জন পরোক্ষ) অংশীজন তাদের মতামত প্রদান করেন।