Dhaka ১০:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেলের মজুদ নিয়ে শঙ্কা নয়, অতিরিক্ত কেনাকাটাই সংকটের কারণ: জ্বালানিমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫১:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • ৩৩ Time View

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই, বরং হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতার কারণে সরবরাহে সাময়িক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

তিনি জানান, চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সামান্য ব্যবধান তৈরি হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। “ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাইয়ের মধ্যে একটা গ্যাপ তৈরি হয়েছে। ডিমান্ড হঠাৎ বেড়ে গেছে, কিন্তু আমরা আগের মতোই সরবরাহ চালিয়ে যাচ্ছি। ডিমান্ড বাড়লে কিছুটা চাপ তো তৈরি হবেই, এটা স্বাভাবিক,” বলেন মন্ত্রী।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে দেশে জ্বালানি সরবরাহে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর মধ্যে ঈদের ছুটিতে ব্যাংক ও ডিপো বন্ধ থাকায় পেমেন্ট জটিলতা দেখা দেয়, ফলে কিছু এলাকায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়। এমনকি পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে।

এই প্রেক্ষাপটে জ্বালানিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “তেল নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই। সবাই প্রয়োজনমতো তেল পাবেন।” তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “তেলের অভাবে কারও গাড়ি কি বন্ধ হয়ে গেছে?” তার ভাষায়, ঈদের সময়েও পরিবহন চলাচলে বড় কোনো সমস্যা হয়নি, যা প্রমাণ করে সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি নেই।

তিনি আরও বলেন, অপ্রয়োজনীয় মজুত করার প্রবণতা পরিস্থিতিকে জটিল করছে। “অকারণে বেশি তেল নেওয়ার দরকার নেই। সবাই যদি প্রয়োজন অনুযায়ী নেন, তাহলে কোনো সমস্যা থাকবে না,” বলেন তিনি। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের বিষয়টি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন দেখে থাকে, সরকার এখনো দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

সার্বিকভাবে, সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ায় এবং সরবরাহ চেইন ঠিক থাকলে চলমান এই চাপ দ্রুত কেটে যাবে।

Tag :
About Author Information

তেলের মজুদ নিয়ে শঙ্কা নয়, অতিরিক্ত কেনাকাটাই সংকটের কারণ: জ্বালানিমন্ত্রী

Update Time : ১১:৫১:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই, বরং হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতার কারণে সরবরাহে সাময়িক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

তিনি জানান, চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সামান্য ব্যবধান তৈরি হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। “ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাইয়ের মধ্যে একটা গ্যাপ তৈরি হয়েছে। ডিমান্ড হঠাৎ বেড়ে গেছে, কিন্তু আমরা আগের মতোই সরবরাহ চালিয়ে যাচ্ছি। ডিমান্ড বাড়লে কিছুটা চাপ তো তৈরি হবেই, এটা স্বাভাবিক,” বলেন মন্ত্রী।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে দেশে জ্বালানি সরবরাহে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর মধ্যে ঈদের ছুটিতে ব্যাংক ও ডিপো বন্ধ থাকায় পেমেন্ট জটিলতা দেখা দেয়, ফলে কিছু এলাকায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়। এমনকি পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে।

এই প্রেক্ষাপটে জ্বালানিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “তেল নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই। সবাই প্রয়োজনমতো তেল পাবেন।” তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “তেলের অভাবে কারও গাড়ি কি বন্ধ হয়ে গেছে?” তার ভাষায়, ঈদের সময়েও পরিবহন চলাচলে বড় কোনো সমস্যা হয়নি, যা প্রমাণ করে সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি নেই।

তিনি আরও বলেন, অপ্রয়োজনীয় মজুত করার প্রবণতা পরিস্থিতিকে জটিল করছে। “অকারণে বেশি তেল নেওয়ার দরকার নেই। সবাই যদি প্রয়োজন অনুযায়ী নেন, তাহলে কোনো সমস্যা থাকবে না,” বলেন তিনি। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের বিষয়টি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন দেখে থাকে, সরকার এখনো দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

সার্বিকভাবে, সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ায় এবং সরবরাহ চেইন ঠিক থাকলে চলমান এই চাপ দ্রুত কেটে যাবে।