Dhaka ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাপপ্রবাহ: আরো ৩ দিনের সতর্কবার্তা জারি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২২:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৪
  • ৩৫৭ Time View

দেশজুড়ে মৃদু থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে নতুন করে আরও তিন দিনের সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার সকালের বুলেটিনে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। বাতাসে জলীয়বাষ্পের আধিক্যের কারণে গরমে অস্বস্তিকর অনুভুতিও বাড়বে। এপ্রিল এমনিতেই দেশের উষ্ণতম মাস। চৈত্রের শেষ আর বৈশাখের শুরুতে গরমের তীব্রতায় হাঁসফাঁস করতে হয়। তবে সামপ্রতিক বছরগুলোতে এই মাস আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বাতাসে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হয়। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রির মধ্যে হলে তাকে মাঝারি এবং ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলিসিয়াস তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। আর তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির উপরে উঠলে তাকে বলা হয় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ। গত শনিবার দেশের ৪২ জেলার উপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলায় বয়ে যাচ্ছে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই জেলায় টানা দ্বিতীয় দিনের মত পারদ উঠেছিল ৪২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এই মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এছাড়া রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, যশোর ও কুষ্টিয়ার উপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আর মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বইছে দিনাজপুর, রাঙামাটি, চাঁদপুর, ফেনী ও বান্দরবান জেলাসহ রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বাকি অংশে। একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে। বৃষ্টি না হওয়ায় এবার চৈত্র মাসের শেষ সময় থেকে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। চলতি মৌসুমে ৩১ মার্চ থেকে তাপপ্রবাহ শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে মাত্রা বাড়তে থাকে। এখন পর্যন্ত টানা ২৯ দিন ধরে তাপপ্রবাহ চলছে, যা নজিরবিহীন। তীব্র গরমের কারণে বাইরে বের হলে ‘অগ্নিবায়ু’ সয়ে চলতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। হাসপাতালে রোগী বাড়ার পাশাপাশি নিয়মিত মৃত্যুর খবরও আসছে। পশু-পাখি ও ফসলের ওপরও গরমের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শেষ তিন দশকে বাংলাদেশের আবহাওয়া আগের তুলনায় উষ্ণ হয়ে উঠেছে। বৃষ্টিপাত ও শীতের দিন কমছে, বছরের বড় অংশজুড়ে গরমের বিস্তার বাড়ছে। গড় তাপমাত্রা বেড়ে পরিবেশ আরও অসহনীয় হয়ে ওঠছে। এর মধ্যে গত বছর ‘অস্বাভাবিক’ গরমের মধ্যে কাটিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি মৌসুমের আগের ৭৫ বছরের মধ্যে টানা সর্বোচ্চ ২৩ দিন তাপপ্রবাহ বয়ে চলে ২০২৩ সালে। ওই বছরের এপ্রিলের শেষ ১৮ দিন ও মে মাসের শুরুর ৫ দিন দাবদাহ ছিল দেশে। চলতি বছর আরও গরমের সতর্কতাবার্তা দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক সমরেন্দ্র কর্মকার বলছেন, “জলীয়বাষ্প পুঞ্জীভ‚ত হয়ে বৃষ্টি হওয়ার কথা। সেটি পুঞ্জীভ‚ত না হয়ে অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। এ কারণেই গরম বেশি থাকছে।” কালবৈশাখী এবং বৃষ্টি না থাকার কারণে এবার গরমের তীব্রতা বেশি বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ। তার ভাষ্য, “গত বছর বাতাসে আর্দ্রতা কম ছিল। এবার আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে মানুষের শরীর ঘামছে, অস্বস্তি বেশি হচ্ছে। এই সময়ে পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়। এবার বৃষ্টিপাত কম।”

Tag :
About Author Information

তাপপ্রবাহ: আরো ৩ দিনের সতর্কবার্তা জারি

Update Time : ১২:২২:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৪

দেশজুড়ে মৃদু থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে নতুন করে আরও তিন দিনের সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার সকালের বুলেটিনে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। বাতাসে জলীয়বাষ্পের আধিক্যের কারণে গরমে অস্বস্তিকর অনুভুতিও বাড়বে। এপ্রিল এমনিতেই দেশের উষ্ণতম মাস। চৈত্রের শেষ আর বৈশাখের শুরুতে গরমের তীব্রতায় হাঁসফাঁস করতে হয়। তবে সামপ্রতিক বছরগুলোতে এই মাস আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বাতাসে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হয়। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রির মধ্যে হলে তাকে মাঝারি এবং ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলিসিয়াস তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। আর তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির উপরে উঠলে তাকে বলা হয় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ। গত শনিবার দেশের ৪২ জেলার উপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলায় বয়ে যাচ্ছে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই জেলায় টানা দ্বিতীয় দিনের মত পারদ উঠেছিল ৪২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এই মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এছাড়া রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, যশোর ও কুষ্টিয়ার উপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আর মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বইছে দিনাজপুর, রাঙামাটি, চাঁদপুর, ফেনী ও বান্দরবান জেলাসহ রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বাকি অংশে। একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে। বৃষ্টি না হওয়ায় এবার চৈত্র মাসের শেষ সময় থেকে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। চলতি মৌসুমে ৩১ মার্চ থেকে তাপপ্রবাহ শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে মাত্রা বাড়তে থাকে। এখন পর্যন্ত টানা ২৯ দিন ধরে তাপপ্রবাহ চলছে, যা নজিরবিহীন। তীব্র গরমের কারণে বাইরে বের হলে ‘অগ্নিবায়ু’ সয়ে চলতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। হাসপাতালে রোগী বাড়ার পাশাপাশি নিয়মিত মৃত্যুর খবরও আসছে। পশু-পাখি ও ফসলের ওপরও গরমের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শেষ তিন দশকে বাংলাদেশের আবহাওয়া আগের তুলনায় উষ্ণ হয়ে উঠেছে। বৃষ্টিপাত ও শীতের দিন কমছে, বছরের বড় অংশজুড়ে গরমের বিস্তার বাড়ছে। গড় তাপমাত্রা বেড়ে পরিবেশ আরও অসহনীয় হয়ে ওঠছে। এর মধ্যে গত বছর ‘অস্বাভাবিক’ গরমের মধ্যে কাটিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি মৌসুমের আগের ৭৫ বছরের মধ্যে টানা সর্বোচ্চ ২৩ দিন তাপপ্রবাহ বয়ে চলে ২০২৩ সালে। ওই বছরের এপ্রিলের শেষ ১৮ দিন ও মে মাসের শুরুর ৫ দিন দাবদাহ ছিল দেশে। চলতি বছর আরও গরমের সতর্কতাবার্তা দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক সমরেন্দ্র কর্মকার বলছেন, “জলীয়বাষ্প পুঞ্জীভ‚ত হয়ে বৃষ্টি হওয়ার কথা। সেটি পুঞ্জীভ‚ত না হয়ে অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। এ কারণেই গরম বেশি থাকছে।” কালবৈশাখী এবং বৃষ্টি না থাকার কারণে এবার গরমের তীব্রতা বেশি বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ। তার ভাষ্য, “গত বছর বাতাসে আর্দ্রতা কম ছিল। এবার আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে মানুষের শরীর ঘামছে, অস্বস্তি বেশি হচ্ছে। এই সময়ে পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়। এবার বৃষ্টিপাত কম।”