1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩২ অপরাহ্ন

জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনতে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত, থাকছে অ্যাটাক হেলিকপ্টারও

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

চীনের তৈরি জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার জন্য নেগোসিয়েশন মিটিংয়ের খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করেছে সরকার। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা সাম্প্রতিক সময়ে সামনে এসেছে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণেও বিমানটি নিয়ে বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভারতীয় রাফাল যুদ্ধবিমান চীনের তৈরি জে-১০-এর মাধ্যমে ভূপাতিত হয়েছিল এবং এ তথ্য এখন প্রতিষ্ঠিত।

তথ্য উপদেষ্টার ভাষ্য, রাফালকে ৪.৫ প্রজন্মের অন্যতম আধুনিক যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর বিপরীতে জে-১০সিই যুদ্ধক্ষেত্রে ভালো পারফর্ম করেছে। এ কারণে বিমানটি কেনার বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, সরাসরি লড়াইয়ের সক্ষমতার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় বিকল্প রাফাল বা ইউরোফাইটার টাইফুনের তুলনায় চীনের যুদ্ধবিমানগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে অনেক কম। দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।

জে-১০সিই মূলত চীনের বিমানবাহিনীতে ব্যবহৃত জে-১০সি যুদ্ধবিমানের রপ্তানি সংস্করণ। এর আগে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং জাতীয় আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ২০টি জে-১০সিই কেনার উদ্যোগের তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সাল নাগাদ যুদ্ধবিমান কেনা, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য খরচসহ মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার।

সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিক নথির তথ্য অনুযায়ী, এসব যুদ্ধবিমানের মূল্য ২০৩৫ থেকে ২০৩৬ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে পরিশোধের পরিকল্পনার কথাও আগে জানা যায়।

শুধু যুদ্ধবিমান নয়, চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট, ফাইটার এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার ও ইউএভি সিস্টেম সংগ্রহের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা।

জে-১০সিই নিয়ে আলোচনার পেছনে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের আগের যোগাযোগের বিষয়টিও রয়েছে। গত বছরের মার্চে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরের সময় মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। সে সময় চীন প্রস্তাবটিতে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছিল বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল।

এরপর ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনাকে এগিয়ে নেয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারও সেই প্রতিরক্ষা নীতি অব্যাহত রেখেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সরকার ২০২৪ সালের ঘটনাকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে না এবং এটিকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা হিসেবেও দেখছে না।

তবে ৫ আগস্টের পর দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে নিজস্ব স্বার্থে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “৫ আগস্টের আগে জে-১০ বিমান কেনার আলোচনা করা সম্ভব হতো না। এ কারণেই আমরা এই স্বাধীনতার কথা বলি।”

তিনি আরও বলেন, কেউ কেউ ২০২৪ ও ১৯৭১ সালকে একই পাল্লায় রেখে ২০২৪ সালের ঘটনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ ধরনের অবস্থানকে তিনি “চরম বোকামি” বলে মন্তব্য করেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd