Dhaka ১১:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জি কে শামীম ও তার মায়ের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার রায় ২৭ মার্চ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২০:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫
  • ২১০ Time View

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আলোচিত ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম এবং তার মা আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ আগামী ২৭ মার্চ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

রোববার (২৩ মার্চ) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলম রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর জি কে শামীম ও তার মায়ের বিরুদ্ধে ২৯৭ কোটি ৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ সংস্থাটির উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ২০২২ সালের ১৮ অক্টোবর আদালত তাদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

মামলাটির যুক্তিতর্ক শুনানি গত ২২ জানুয়ারি শেষ হলে আদালত প্রথমে ৩০ জানুয়ারি রায়ের দিন ধার্য করেন। তবে পরবর্তী সময়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ নির্ধারিত হয়। এদিন আসামিপক্ষ থেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে পুনরায় জেরা করার আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন এবং মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে ফিরে যায়। পরে ২০ মার্চ পুনরায় যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং আদালত ২৭ মার্চ রায় ঘোষণার নতুন দিন নির্ধারণ করেন।

দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে জি কে শামীমের অফিস থেকে ১ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকার সমপরিমাণ মার্কিন ডলার এবং তার মায়ের নামে ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকার এফডিআর জব্দ করা হয়। দুদকের তদন্তে এসব সম্পদের কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, অর্থ পাচার মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, দেশের ১৮০টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৩৩৭ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত রয়েছে শামীমের। পাশাপাশি, তার নামে ঢাকায় দুটি বাড়িসহ প্রায় ৫২ কাঠা জমির তথ্য পাওয়া গেছে, যার মূল্য প্রায় ৪১ কোটি টাকা।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে শুদ্ধি অভিযানে গ্রেফতার হন জি কে শামীম। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও অর্থ পাচারের অভিযোগে পৃথক মামলা হয়।

২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় জি কে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।

২০২৩ সালের ১৭ জুলাই মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় শামীমকে ১০ বছর এবং তার দেহরক্ষীদের প্রত্যেককে চার বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আগামী ২৭ মার্চ দুদকের করা এই মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে জি কে শামীম ও তার মায়ের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। আদালতের এই রায় তাদের ভবিষ্যতের আইনি অবস্থান স্পষ্ট করবে।

Tag :
About Author Information

জি কে শামীম ও তার মায়ের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার রায় ২৭ মার্চ

Update Time : ১১:২০:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আলোচিত ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম এবং তার মা আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ আগামী ২৭ মার্চ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

রোববার (২৩ মার্চ) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলম রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর জি কে শামীম ও তার মায়ের বিরুদ্ধে ২৯৭ কোটি ৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ সংস্থাটির উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ২০২২ সালের ১৮ অক্টোবর আদালত তাদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

মামলাটির যুক্তিতর্ক শুনানি গত ২২ জানুয়ারি শেষ হলে আদালত প্রথমে ৩০ জানুয়ারি রায়ের দিন ধার্য করেন। তবে পরবর্তী সময়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ নির্ধারিত হয়। এদিন আসামিপক্ষ থেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে পুনরায় জেরা করার আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন এবং মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে ফিরে যায়। পরে ২০ মার্চ পুনরায় যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং আদালত ২৭ মার্চ রায় ঘোষণার নতুন দিন নির্ধারণ করেন।

দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে জি কে শামীমের অফিস থেকে ১ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকার সমপরিমাণ মার্কিন ডলার এবং তার মায়ের নামে ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকার এফডিআর জব্দ করা হয়। দুদকের তদন্তে এসব সম্পদের কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, অর্থ পাচার মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, দেশের ১৮০টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৩৩৭ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত রয়েছে শামীমের। পাশাপাশি, তার নামে ঢাকায় দুটি বাড়িসহ প্রায় ৫২ কাঠা জমির তথ্য পাওয়া গেছে, যার মূল্য প্রায় ৪১ কোটি টাকা।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে শুদ্ধি অভিযানে গ্রেফতার হন জি কে শামীম। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও অর্থ পাচারের অভিযোগে পৃথক মামলা হয়।

২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় জি কে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।

২০২৩ সালের ১৭ জুলাই মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় শামীমকে ১০ বছর এবং তার দেহরক্ষীদের প্রত্যেককে চার বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আগামী ২৭ মার্চ দুদকের করা এই মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে জি কে শামীম ও তার মায়ের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। আদালতের এই রায় তাদের ভবিষ্যতের আইনি অবস্থান স্পষ্ট করবে।