1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন

জিয়া হত্যা মামলার আসামি মোজাফফরকে ২৩ জুলাই ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। বর্তমানে মোজাফফর হোসেন মিলিটারি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

এর আগে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। কার্যকর তদন্তের স্বার্থে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা প্রয়োজন।

আদেশের পর সাংবাদিকদের চিফ প্রসিকিউটর জানান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনের সঙ্গে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তারা যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে মোজাফফরের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা গেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে মোজাফফরের সংশ্লিষ্টতা আছে। এক এগারোর সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ ছাড়া আর কোনো বিষয়ে তার সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে মোজাফফর হোসেনকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হবে। তদন্তে তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট মামলায় তার সম্পৃক্ততা নির্ধারণ করা হবে।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ‘ঝন্ডু’ বা ‘জন্ডো’ ছদ্মনামে মোজাফফর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও তার ব্যক্তিগত সহকারীর সঙ্গে এই ছদ্মনামে গত ১৬ বছরে একাধিকবার তার কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।

জুলাই ও আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময়ও তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এসব যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর বিষয়ে মোজাফফর হোসেন ও মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও জানা গেছে।

জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন মোজাফফর হোসেন। গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেন। ওই ঘটনায় সামরিক আদালতে ১৮ সেনা কর্মকর্তার বিচার হয়। তাদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে মেজর এস এম খালেদ ও মেজর মোজাফফর হোসেন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারকেরা ডিজিএফআইয়ের ‘আইনঘর’ বা গোপন আস্তানা, র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের সংশ্লিষ্ট গোপন বন্দিশালা সরেজমিনে পরিদর্শনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd