1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:২০ অপরাহ্ন

জাল দলিল ও জাল ওয়ারেশ কায়েম সনদ এবং ভুয়া রেকর্ডের মাধ্যমে খুলনার কয়রায় স্বত্ব দখলীয় জমি অবৈধ ও জোর দখলের চেষ্টা

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন
‎ ‎পাইকগাছা (খুলনা)প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলায় জাল দলিল, জালিয়াতি করে তৈরি করা ওয়ারেশ কায়েম সনদ ও ভুয়া রেকর্ডের মাধ্যমে স্বত্ব দখলীয় জমি অবৈধভাবে জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র। একের পর এক জাল কাগজপত্র বানিয়ে জালিয়াতি করলেও আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় জমি বন্ধকমুক্ত কেদার সানার পুত্র নিখোঁজ নিরঞ্জন সানার ভুয়া পুত্র সাজানো হয় ‘পুলিন সানা’কে এবং নবকৃষ্ণ সানার ভুয়া পুত্র সাজানো হয় ‘নির্মল সানা’কে। পরবর্তীতে তাদের নামে ভুয়া কাগজপত্র ও জাল দলিল তৈরি করে জমি দখলের চক্রান্ত শুরু করে একই বাড়ির অপর শরিক মৃত প্রতাপ চন্দ্র সানার দুই পুত্র শিবপদ সানা ও কৃষ্ণপদ সানা।অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০০৬ সালের ২৮ আগস্টের ১৬৩৯ নম্বর দলিলে ভুয়া দাতা ‘পুলিন সানা’ এবং ২০০৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ২৯৪৫ নম্বর দলিলে ভুয়া দাতা ‘নবকৃষ্ণ সানা’ সাজিয়ে জমি হস্তান্তরের জালিয়াতি করা হয়। এর পাশাপাশি জালিয়াতি ঢাকতে পুলিন সানার নামে ২০১৫ সালের ১৬ জানুয়ারিতে ০১ নং আমাদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান (আলহ্বাজ মোঃ আমের আলী গাইন) এর অজ্ঞাতে অস্বাক্ষাতে স্বাক্ষর জাল করত এবং সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্য (মুক্তি রায়)-এর অজান্তে ও ভুয়া তদন্ত দেখাইয়া ওয়ারেশ কায়েম সনদপত্র হাসিল করা হয়। অন্যদিকে নির্মল সানার নামে ২০০৭ সালের ২২ মে ভিন্ন ওয়ার্ডের (০৫ নং ওয়ার্ড) সাবেক ইউপি সদস্য (মো. তোফাজ্জেল সরদার)-এর ভুয়া তদন্ত দেখিয়ে একাধিক জাল সনদ তৈরি করা হয়।এদিকে খতিয়ান ও রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা যায়, সিএস-৮০, ৮১, সাবেক আরএস-১১৪, ১১৬ এবং এসএ-৩০, ১১৩ নং খতিয়ান এবং দেওয়ানি-২৭৬/৫৪ নং মামলায় মালিকদের শরিক ওয়ারেশ ও ক্রমিক ওয়ারেশগন অরবিন্দ সানা, শংকর সানা, সুকান্ত সানা, নিশান্ত সানা, সুশান্ত সানা (পিতা মৃত বিপিন সানা), অনাবিল সানা, সুভাস সানা (পিতা মৃত চারু চন্দ্র সানা), বিধান সানা (পিতা মৃত শৈব সানা), অনু সানা, হাজি সানা ও কভু সানা (পিতা মৃত অনন্ত সানা)-দের প্রাপ্য মোট ৯.৮৮ একর জমি হইতেছে।উক্ত ভূমি ওয়ারেশদের নামে বর্তমান বিআরএস রেকর্ড করানোর দায়িত্ব ছিল জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা শিবপদ সানা ও কৃষ্ণপদ সানার পিতা মৃত প্রতাপ সানার ওপর। কিন্তু তিনি লোভের বশবর্তী হয়ে অল্প কিছু অংশে রেকর্ড করালেও সিংহভাগ জমি বেআইনিভাবে নিজের নামে বিআরএস রেকর্ড করিয়ে নেন।পরবর্তীতে ওয়ারেশগণ এর প্রতিকার চেয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা (দেঃ ৪১/২০০৭, যা পরবর্তীতে দেঃ ৫২২/২১) দায়ের হলে শিবপদ ও কৃষ্ণপদ সানা নিজেদের প্রতারণা ও জালিয়াতি ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে শিবপদ ও কৃষ্ণপদ সানা উক্ত ওয়ারেশদের বিরুদ্ধে প্রতি বছর বিভিন্ন ফৌজদারি আদালতে শতাধিক এর উর্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করতে থাকে। তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কৃষ্ণপদ সানার জামাতা (একই থানার পাটনিখালি গ্রামের বাসিন্দা) পুলিশ সদস্য সুমন মন্ডলের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রতিনিয়ত মামলা ও হামলার হুমকি দেখাচ্ছে। উল্লেখ্য  উক্ত কৃষ্ণপদ সানার পুত্র রমেশ সানা এ্যাডঃ দীপনারায়ন সানাকে সহ উক্ত ওয়ারেশদের খুন জখম সহ বিভিন্ন হুমকির মাধ্যমে ভয়ভিতি প্রদান করিতেছে।পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা আইনি প্রতিকার চেয়ে আদালতে শরণাপন্ন হয়ে বন্দক অবমুক্তি বাবদ দেওয়ানি-৫৮/২০০৯ নম্বর মামলায় গত ইং ০৫/০৮/২০১৫ তারিখে রায় এবং গত ইং ১২/০৮/২০১৫ তারিখে ডিক্রি মূলে ১.০৮ একর জমি বন্ধক অবমুক্ত ঘোষণা করা হয় এবং আরএকটি বন্দক অবমুক্তিবাবদ দেওয়ানি ৯৪/২০২০ নম্বর মামলায় ইং ২১/০৭/২০২৩ তারিখের রায় ও ইং ০২/০৮/২০২৩ তারিখের ডিক্রি মূলে আরও ১.৯৮ একর জমি বন্ধকমুক্ত ঘোষনা হয়।
‎আদালতের পরপর দুটি রায় ও ডিক্রি ভুক্তভোগীদের পক্ষে আসলেও জালিয়াত চক্রটি দমে যায়নি। উক্ত জাল দলিল ও জাল ওয়ারেশ সনদের ওপর ভিত্তি করে এখনও জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি। বর্তমানে দেওয়ানি ৫২২/২০২১ মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
‎এ বিষয়ে শিব পদ সানা ও কৃষ্ণপদ সানার  কাছে জানতে চাইলে তারা জানান বিআরএস রেকর্ড আমাদের নামে  আমরা জমি দীর্ঘ দিনভোগ দখলে আছি
‎এ বিষয়ে এলাকবাসী ও ভুক্তভোগীরা জানান, জালিয়াতির বিষয়টি আদালতে ইতোমধ্যে প্রমাণিত হলেও চক্রটির অত্যাচারে এলাকাবাসী, পাড়াপ্রতিবেশি ও শরিকগনদিগকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এ ধরনের প্রতারক, মামলাবাজ ও জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd