Dhaka ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছে বিএনপির এক নেতা। পাইকগাছার হরিঢালীতে দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করায় কৃষকের ধান কেড়ে নিয়েছে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৩৭:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫
  • ৩২৭ Time View

কপিলমুনি (খুলনা) অফিসঃ দাবিকৃত ৩০ হাজার টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় কাটা ধান ভ্যান থেকে নামিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ১১ এপ্রিল বিকাল ৫ টায় ১ নং হরিঢালী ইউনিয়নের হরিদাসকাঠি গ্রামে। এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক মতিউর রহমান তিন জনের বিরুদ্ধে থানায় অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। পাইকগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের হরিদাশকাটি গ্রামের শেখ মুনছুর আলীর পুত্র শেখ মতিউর রহমানের কাছে গত ২৫ মার্চ একই গ্রামের ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতা খায়রুল সরদারের নেতৃত্বে এলাকার বহু বিতর্কিত নানান অপকর্মের
হোতা হরিঢালী ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর ভাই আলামিন গাজী (৩০) ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হরিঢালী গ্রামের উদয় দত্ত ও তাপস দত্তের ভাই পরেশ দত্ত (৩০) কে সাথে নিয়ে কৃষক মতিউরের কাছে যায় এবং খরচ বাবদ ৩০ হাজার টাকা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করায় শুক্রবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে জমি থেকে ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পথে মতিউর ও তার স্ত্রীকে মারধর করে ভ্যান থেকে তারা ২৫ মন ধান নামিয়ে নিয়ে যায়। মতিউর রহমান জানান, ৯৯ বছরের সরকারি বন্দোবস্ত নিয়ে ২০০১ সাল থেকে দীর্ঘ ২৪ বছর যাবত স্থানীয় হরিদাসকাটি বিলে তিন বিঘা জমিতে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি । আমার পরিবারে ৫ জন সদস্যের রুটি রুজির একমাত্র অবলম্বন এই জমিটা।এলাকায় নিজেকে বিএনপির বড় নেতা পরিচয়দানকারী উক্ত খায়রুল সরদার ও তার সহযোগীরা মূলতঃ এই জমির জন্য আমাকে নানারকম ভীতি প্রদর্শন করে উক্ত টাকা দাবি করে। এছাড়া তার অন্যতম সহযোগী পরেশ দত্তও নিজেকে বিএনপির ক্ষমতাধর নেতা দাবি করে তাকে ভীতি প্রদর্শন করে বলে তিনি জানান ,ওই ঘটনায় শেখ মতিউর রহমান জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে থানা অফিসার বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ মতিউর রহমান বলেন, বিএনপির রাজনীতি করার
কারণে তিনটি নাশকতা মামলার আসামি হয়েছি। এখন আমার ধান বিএনপির নেতাকর্মীরা কেড়ে নিলো। এবিষয়ে জানতে চাইলে ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খায়রুল সরদার জানান, আমি কোন টাকা চাইনি। ধান কোথায় আছে জানতে চাইলে খায়রুল সরদার বলেন, ধান আমার বাড়িতে নেই, পাশে কামরুল গাজীর বাড়ির সামনে রাস্তায় রাখা আছে। কামরুল গাজীর কাছে জানতে ফোন দিলে তার ব্যবহৃত ০১৯১৪ ০৪৮৩১২ ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। থানা ওসি মোঃ সবজেল হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
About Author Information

চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছে বিএনপির এক নেতা। পাইকগাছার হরিঢালীতে দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করায় কৃষকের ধান কেড়ে নিয়েছে

Update Time : ০৯:৩৭:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫

কপিলমুনি (খুলনা) অফিসঃ দাবিকৃত ৩০ হাজার টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় কাটা ধান ভ্যান থেকে নামিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ১১ এপ্রিল বিকাল ৫ টায় ১ নং হরিঢালী ইউনিয়নের হরিদাসকাঠি গ্রামে। এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক মতিউর রহমান তিন জনের বিরুদ্ধে থানায় অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। পাইকগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের হরিদাশকাটি গ্রামের শেখ মুনছুর আলীর পুত্র শেখ মতিউর রহমানের কাছে গত ২৫ মার্চ একই গ্রামের ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতা খায়রুল সরদারের নেতৃত্বে এলাকার বহু বিতর্কিত নানান অপকর্মের
হোতা হরিঢালী ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর ভাই আলামিন গাজী (৩০) ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হরিঢালী গ্রামের উদয় দত্ত ও তাপস দত্তের ভাই পরেশ দত্ত (৩০) কে সাথে নিয়ে কৃষক মতিউরের কাছে যায় এবং খরচ বাবদ ৩০ হাজার টাকা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করায় শুক্রবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে জমি থেকে ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পথে মতিউর ও তার স্ত্রীকে মারধর করে ভ্যান থেকে তারা ২৫ মন ধান নামিয়ে নিয়ে যায়। মতিউর রহমান জানান, ৯৯ বছরের সরকারি বন্দোবস্ত নিয়ে ২০০১ সাল থেকে দীর্ঘ ২৪ বছর যাবত স্থানীয় হরিদাসকাটি বিলে তিন বিঘা জমিতে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি । আমার পরিবারে ৫ জন সদস্যের রুটি রুজির একমাত্র অবলম্বন এই জমিটা।এলাকায় নিজেকে বিএনপির বড় নেতা পরিচয়দানকারী উক্ত খায়রুল সরদার ও তার সহযোগীরা মূলতঃ এই জমির জন্য আমাকে নানারকম ভীতি প্রদর্শন করে উক্ত টাকা দাবি করে। এছাড়া তার অন্যতম সহযোগী পরেশ দত্তও নিজেকে বিএনপির ক্ষমতাধর নেতা দাবি করে তাকে ভীতি প্রদর্শন করে বলে তিনি জানান ,ওই ঘটনায় শেখ মতিউর রহমান জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে থানা অফিসার বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ মতিউর রহমান বলেন, বিএনপির রাজনীতি করার
কারণে তিনটি নাশকতা মামলার আসামি হয়েছি। এখন আমার ধান বিএনপির নেতাকর্মীরা কেড়ে নিলো। এবিষয়ে জানতে চাইলে ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খায়রুল সরদার জানান, আমি কোন টাকা চাইনি। ধান কোথায় আছে জানতে চাইলে খায়রুল সরদার বলেন, ধান আমার বাড়িতে নেই, পাশে কামরুল গাজীর বাড়ির সামনে রাস্তায় রাখা আছে। কামরুল গাজীর কাছে জানতে ফোন দিলে তার ব্যবহৃত ০১৯১৪ ০৪৮৩১২ ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। থানা ওসি মোঃ সবজেল হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।