Dhaka ০৯:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ’ পাবেন বলে মনে করেন ট্রাম্প

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৫
  • ২৫৯ Time View

বিদেশ : উত্তর আমেরিকা থেকে ইউরোপ যাওয়ার সবচেয়ে কম পথের ওপর অবস্থিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড। দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প বার বার দ্বীপটি কিনতে চেয়েছেন। তবে এবার জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি ‘গ্রিনল্যান্ড পাবেন’ বলে মনে করেন। খবর বিবিসির গত শনিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি, এটি (গ্রিনল্যান্ড) আমাদের হবে। দ্বীপটির ৫৭ হাজার জনগণ আমাদের সাথে থাকতে চায়। সমপ্রতি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ট্রাম্প। সে সময় ফ্রেডেরিকসেন জোর দিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। এর আগে ২০১৯ সালেও ট্রাম্প দ্বীপটি কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হলেও গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনা জরুরি যুক্তরাষ্ট্রের। আমি জানি না ডেনমার্কের কী দাবি গ্রিনল্যান্ডের ওপর। দ্বীপটি নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলে বিষয়টি ‘খুবই অনুচিত হবে’ বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এটি বিশ্বের স্বার্থের জন্য খুব প্রয়োজনীয়। তবে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীই ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তের বিপক্ষে আছেন। তাদের মত, দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয়। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মুট এগেডে বলেছেন, দ্বীপটির ভূমির ব্যবহার কেবল ‘গ্রিনল্যান্ডের বিষয়’। যদিও তিনি প্রতিরক্ষা এবং খনিসম্পদ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে ইচ্ছুক। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেন এই বিষয়ে বলেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ড হলো গ্রিনল্যান্ডারদের’। শুধুমাত্র স্থানীয় জনগণই থাকবে এবং এর ভবিষ্যতও নির্ধারণ করতে পারবে জনগণ। সামপ্রতিক বছরগুলোতে গ্রিনল্যান্ডের প্রাকৃতিক সম্পদ, যেমন বিরল খনিজ, ইউরেনিয়াম এবং লোহা আহরণের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। দ্বীপটি বিস্তৃত স্বায়ত্তশাসন উপভোগ করলেও এটি এখনো ডেনমার্কের রাজত্বের অংশ। তবে গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে ঐকমত্য রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন ধরণের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পথ সুগম করবে। এদিকে, ট্রাম্পের দাবির বিষয়ে গ্রিনল্যান্ডের জনগণও একমত নয়। কাপিসিলিট এলাকায় এক মৎস্যজীবী বিবিসিকে বলেন, ট্রাম্প দ্বীপটি পরিদর্শন করতে চাইলে স্বাগত, তবে গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডারদেরই। স্থানীয় গির্জার একজন প্রবীণ নেতা কালেয়েরাক রিংস্টেড বলেন, ট্রাম্পের ভাষা গ্রহণযোগ্য নয় এবং গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।

Tag :
About Author Information

‘গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ’ পাবেন বলে মনে করেন ট্রাম্প

Update Time : ০২:০৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৫

বিদেশ : উত্তর আমেরিকা থেকে ইউরোপ যাওয়ার সবচেয়ে কম পথের ওপর অবস্থিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড। দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প বার বার দ্বীপটি কিনতে চেয়েছেন। তবে এবার জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি ‘গ্রিনল্যান্ড পাবেন’ বলে মনে করেন। খবর বিবিসির গত শনিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি, এটি (গ্রিনল্যান্ড) আমাদের হবে। দ্বীপটির ৫৭ হাজার জনগণ আমাদের সাথে থাকতে চায়। সমপ্রতি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ট্রাম্প। সে সময় ফ্রেডেরিকসেন জোর দিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। এর আগে ২০১৯ সালেও ট্রাম্প দ্বীপটি কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হলেও গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনা জরুরি যুক্তরাষ্ট্রের। আমি জানি না ডেনমার্কের কী দাবি গ্রিনল্যান্ডের ওপর। দ্বীপটি নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলে বিষয়টি ‘খুবই অনুচিত হবে’ বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এটি বিশ্বের স্বার্থের জন্য খুব প্রয়োজনীয়। তবে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীই ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তের বিপক্ষে আছেন। তাদের মত, দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয়। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মুট এগেডে বলেছেন, দ্বীপটির ভূমির ব্যবহার কেবল ‘গ্রিনল্যান্ডের বিষয়’। যদিও তিনি প্রতিরক্ষা এবং খনিসম্পদ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে ইচ্ছুক। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেন এই বিষয়ে বলেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ড হলো গ্রিনল্যান্ডারদের’। শুধুমাত্র স্থানীয় জনগণই থাকবে এবং এর ভবিষ্যতও নির্ধারণ করতে পারবে জনগণ। সামপ্রতিক বছরগুলোতে গ্রিনল্যান্ডের প্রাকৃতিক সম্পদ, যেমন বিরল খনিজ, ইউরেনিয়াম এবং লোহা আহরণের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। দ্বীপটি বিস্তৃত স্বায়ত্তশাসন উপভোগ করলেও এটি এখনো ডেনমার্কের রাজত্বের অংশ। তবে গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে ঐকমত্য রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন ধরণের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পথ সুগম করবে। এদিকে, ট্রাম্পের দাবির বিষয়ে গ্রিনল্যান্ডের জনগণও একমত নয়। কাপিসিলিট এলাকায় এক মৎস্যজীবী বিবিসিকে বলেন, ট্রাম্প দ্বীপটি পরিদর্শন করতে চাইলে স্বাগত, তবে গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডারদেরই। স্থানীয় গির্জার একজন প্রবীণ নেতা কালেয়েরাক রিংস্টেড বলেন, ট্রাম্পের ভাষা গ্রহণযোগ্য নয় এবং গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।