Dhaka ১২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস সংকটে আবারও আশুগঞ্জ সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:১৯:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ মার্চ ২০২৫
  • ২৬০ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানায় মাত্র ৩৮ দিনের ব্যবধানে আবারও গ্যাস সংকটে ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১ মার্চ) রাত থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কারখানা কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।

আশুগঞ্জ সার কারখানার মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) এ বি মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানান, কারখানার ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন অন্তত ৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করতে হয়েছে।

এর আগে, গত বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ৯ মাস গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ ছিল। শ্রমিকদের টানা আন্দোলনের পর ১৫ নভেম্বর বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করে। এরপর সব ধাপ অতিক্রম করে ২৩ জানুয়ারি থেকে পুনরায় সার উৎপাদন শুরু হয়। তবে মাত্র ৩৮ দিনের মধ্যেই আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জাহিদুর রেজা জানান, সরকারি সিদ্ধান্তের ফলে আশুগঞ্জ সার কারখানার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে চলতি মৌসুমে গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালু করার সম্ভাবনা কম।”

আশুগঞ্জ সার কারখানাটি দেশের অন্যতম প্রধান ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন এটি সাড়ে ১১০০ টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করতে সক্ষম। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে দেশের কৃষিখাতে প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

গ্যাস সংকটের ফলে কারখানাটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। সার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে হলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

কারখানার শ্রমিকরা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে এখনো কোনো আশাব্যঞ্জক সিদ্ধান্ত আসেনি।

দেশের সার উৎপাদন এবং কৃষি খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয়

গ্যাস সংকটে আবারও আশুগঞ্জ সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ

Update Time : ০৮:১৯:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ মার্চ ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানায় মাত্র ৩৮ দিনের ব্যবধানে আবারও গ্যাস সংকটে ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১ মার্চ) রাত থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কারখানা কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।

আশুগঞ্জ সার কারখানার মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) এ বি মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানান, কারখানার ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন অন্তত ৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করতে হয়েছে।

এর আগে, গত বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ৯ মাস গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ ছিল। শ্রমিকদের টানা আন্দোলনের পর ১৫ নভেম্বর বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করে। এরপর সব ধাপ অতিক্রম করে ২৩ জানুয়ারি থেকে পুনরায় সার উৎপাদন শুরু হয়। তবে মাত্র ৩৮ দিনের মধ্যেই আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জাহিদুর রেজা জানান, সরকারি সিদ্ধান্তের ফলে আশুগঞ্জ সার কারখানার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে চলতি মৌসুমে গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালু করার সম্ভাবনা কম।”

আশুগঞ্জ সার কারখানাটি দেশের অন্যতম প্রধান ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন এটি সাড়ে ১১০০ টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করতে সক্ষম। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে দেশের কৃষিখাতে প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

গ্যাস সংকটের ফলে কারখানাটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। সার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে হলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

কারখানার শ্রমিকরা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে এখনো কোনো আশাব্যঞ্জক সিদ্ধান্ত আসেনি।

দেশের সার উৎপাদন এবং কৃষি খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।