Dhaka ০৬:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজায় যাচ্ছে মার্কিন সামরিক জাহাজ অস্থায়ী বন্দর নির্মাণ করতে

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৬:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মার্চ ২০২৪
  • ৩৯৩ Time View

বিদেশ : গাজা উপকুলে একটি অস্থায়ী ঘাট নির্মাণের জন্য সরঞ্জাম নিয়ে রওনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক জাহাজ। মার্কিন সেনাবাহিনী এ তথ্য জানায়। খবর বিবিসির। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে ‘জেনারেল ফ্রাঙ্ক এস বেসন’ নামের জাহাজটি শনিবার যাত্রা শুরু করে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সমুদ্রপথে গাজায় সহায়তা পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্র ভাসমান বন্দর তৈরি করবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, গাজা উপত্যকায় দুর্ভিক্ষ ‘প্রায় অনিবার্য’ এবং শিশুরা অনাহারে মারা যাচ্ছে। স্থল ও আকাশপথে সাহায্যপণ্য বিতরণ কঠিন ও বিপজ্জনক বলে ইতোমধ্যে প্রতীয়মান হয়েছে। সহায়তাপণ্যের বহরে গুলিবর্ষণ ও লুটপাট করার পরে স্থলপথে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডবিøউএফপি)। এরপর আকাশপথে ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে শুক্রবার প্যারাসুট সঠিকভাবে না খোলায় সাহায্যপণ্য পড়ে পাঁচজন নিহত হন। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের এক পোস্টে জানায়, বাইডেন ঘোষণা দেওয়ার ৩৬ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে মার্কিন জাহাজটি ছেড়ে গেছে। জাহাজটি গাজায় গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সহায়তাপণ্য সরবরাহ করতে একটি অস্থায়ী ঘাট স্থাপনের জন্য প্রাথমিক সরঞ্জাম বহন করছে। পেন্টাগন বলেছে, ওই ঘাটটি তৈরি করতে এক হাজার সৈন্যের ৬০ দিন অর্থাৎ দুই মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে তাদের কেউ উপক‚লে প্রবেশ করবে না। আর দাতব্য সংস্থাগুলো বলেছে, গাজায় যারা ভুগছেন, তারা এতদিন অপেক্ষা করতে পারবেন না। এদিকে, প্রায় ২০০ টন খাদ্য বোঝাই একটি সহায়তা জাহাজ সাইপ্রাসের একটি বন্দর থেকে যাত্রা করার জন্য ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। বহু কাঙ্ক্ষিত জাহাজটি সোমবারের আগে ছেড়ে যেতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে ইইউ ঘোষণা দেয়, গাজার নিকটতম ইউরোপীয় দেশ সাইপ্রাস থেকে নতুন সামুদ্রিক রুট চালু হবে যাতে সরাসরি সাহায্য পাঠানো যায়। জাহাজটি একটি স্প্যানিশ দাতব্য সংস্থার এবং এতে থাকা খাবার মার্কিন দাতব্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। মার্কিন সেনারা ঘাট তৈরির আগে সমুদ্রপথে সরবরাহ করা কোনো সাহায্যপণ্য কীভাবে নিরাপদে তীরে পৌঁছাবে, তা স্পষ্ট নয়। গাজায় কোনো কার্যকরী বন্দর নেই এবং এর আশপাশের পানির স্তর বড় জাহাজের জন্য খুবই কম। তবে জাহাজটি পরিচালনাকারী সংস্থা ওপেন আর্মসের প্রতিষ্ঠাতা অস্কার ক্যাম্পস বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, গন্তব্যস্থলে (গাজা উপক‚লে) ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের একটি দল সাহায্য গ্রহণের জন্য একটি ঘাট তৈরি করছে। তবে এটি প্রকাশ করা হয়নি। ইসরায়েল সমুদ্রপথে ত্রাণ সরবরাহের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং বলেছে, সাইপ্রাসে জাহাজটির ইসরায়েলের মান অনুযায়ী ‘নিরাপত্তা পরীক্ষা’ সম্পন্ন করার পরে সহায়তা প্রদান করতে দেওয়া হবে। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর দেশটির সামরিক বাহিনী গাজা উপত্যকায় বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে। হামাসের ওই হামলায় ইসরায়েলের প্রায় এক হাজার ২০০ জন নিহত হয় এবং ২৫৩ জনকে জিম্মি করা হয়। এরপর ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় গাজায় ৩০ হাজার ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে অঞ্চলটির হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। চলমান এই সংঘাত ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট তৈরি করেছে। জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, গাজা উপত্যকাজুড়ে কমপক্ষে পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার মানুষ, অর্থাৎ গাজার জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার বিপর্যয়মূলক পর্যায়ের মুখোমুখি হয়েছে।

Tag :
About Author Information

গাজায় যাচ্ছে মার্কিন সামরিক জাহাজ অস্থায়ী বন্দর নির্মাণ করতে

Update Time : ১২:১৬:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মার্চ ২০২৪

বিদেশ : গাজা উপকুলে একটি অস্থায়ী ঘাট নির্মাণের জন্য সরঞ্জাম নিয়ে রওনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক জাহাজ। মার্কিন সেনাবাহিনী এ তথ্য জানায়। খবর বিবিসির। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে ‘জেনারেল ফ্রাঙ্ক এস বেসন’ নামের জাহাজটি শনিবার যাত্রা শুরু করে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সমুদ্রপথে গাজায় সহায়তা পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্র ভাসমান বন্দর তৈরি করবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, গাজা উপত্যকায় দুর্ভিক্ষ ‘প্রায় অনিবার্য’ এবং শিশুরা অনাহারে মারা যাচ্ছে। স্থল ও আকাশপথে সাহায্যপণ্য বিতরণ কঠিন ও বিপজ্জনক বলে ইতোমধ্যে প্রতীয়মান হয়েছে। সহায়তাপণ্যের বহরে গুলিবর্ষণ ও লুটপাট করার পরে স্থলপথে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডবিøউএফপি)। এরপর আকাশপথে ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে শুক্রবার প্যারাসুট সঠিকভাবে না খোলায় সাহায্যপণ্য পড়ে পাঁচজন নিহত হন। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের এক পোস্টে জানায়, বাইডেন ঘোষণা দেওয়ার ৩৬ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে মার্কিন জাহাজটি ছেড়ে গেছে। জাহাজটি গাজায় গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সহায়তাপণ্য সরবরাহ করতে একটি অস্থায়ী ঘাট স্থাপনের জন্য প্রাথমিক সরঞ্জাম বহন করছে। পেন্টাগন বলেছে, ওই ঘাটটি তৈরি করতে এক হাজার সৈন্যের ৬০ দিন অর্থাৎ দুই মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে তাদের কেউ উপক‚লে প্রবেশ করবে না। আর দাতব্য সংস্থাগুলো বলেছে, গাজায় যারা ভুগছেন, তারা এতদিন অপেক্ষা করতে পারবেন না। এদিকে, প্রায় ২০০ টন খাদ্য বোঝাই একটি সহায়তা জাহাজ সাইপ্রাসের একটি বন্দর থেকে যাত্রা করার জন্য ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। বহু কাঙ্ক্ষিত জাহাজটি সোমবারের আগে ছেড়ে যেতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে ইইউ ঘোষণা দেয়, গাজার নিকটতম ইউরোপীয় দেশ সাইপ্রাস থেকে নতুন সামুদ্রিক রুট চালু হবে যাতে সরাসরি সাহায্য পাঠানো যায়। জাহাজটি একটি স্প্যানিশ দাতব্য সংস্থার এবং এতে থাকা খাবার মার্কিন দাতব্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। মার্কিন সেনারা ঘাট তৈরির আগে সমুদ্রপথে সরবরাহ করা কোনো সাহায্যপণ্য কীভাবে নিরাপদে তীরে পৌঁছাবে, তা স্পষ্ট নয়। গাজায় কোনো কার্যকরী বন্দর নেই এবং এর আশপাশের পানির স্তর বড় জাহাজের জন্য খুবই কম। তবে জাহাজটি পরিচালনাকারী সংস্থা ওপেন আর্মসের প্রতিষ্ঠাতা অস্কার ক্যাম্পস বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, গন্তব্যস্থলে (গাজা উপক‚লে) ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের একটি দল সাহায্য গ্রহণের জন্য একটি ঘাট তৈরি করছে। তবে এটি প্রকাশ করা হয়নি। ইসরায়েল সমুদ্রপথে ত্রাণ সরবরাহের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং বলেছে, সাইপ্রাসে জাহাজটির ইসরায়েলের মান অনুযায়ী ‘নিরাপত্তা পরীক্ষা’ সম্পন্ন করার পরে সহায়তা প্রদান করতে দেওয়া হবে। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর দেশটির সামরিক বাহিনী গাজা উপত্যকায় বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে। হামাসের ওই হামলায় ইসরায়েলের প্রায় এক হাজার ২০০ জন নিহত হয় এবং ২৫৩ জনকে জিম্মি করা হয়। এরপর ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় গাজায় ৩০ হাজার ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে অঞ্চলটির হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। চলমান এই সংঘাত ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট তৈরি করেছে। জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, গাজা উপত্যকাজুড়ে কমপক্ষে পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার মানুষ, অর্থাৎ গাজার জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার বিপর্যয়মূলক পর্যায়ের মুখোমুখি হয়েছে।