Dhaka ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুয়েতে ইরানি হামলায় ৬ মার্কিন সেনা নিহত

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৪২:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • ৬০ Time View

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে কুয়েতে ইরানের হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। রবিবার (১ মার্চ) সকালে কুয়েতের শুইবা বন্দরে অবস্থিত একটি বেসামরিক বন্দরের অস্থায়ী মার্কিন সামরিক অভিযান কেন্দ্রে হামলা হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সোমবার (২ মার্চ) নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে।

হামলার সময় ঘটনাস্থলে অনেক সেনা উপস্থিত ছিলেন, তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে একটি প্রজেক্টাইল ভবনটির ওপর আঘাত হানে। বিস্ফোরণ ও আগুনের কারণে সেনারা বাংকারে আশ্রয় নেওয়ার বা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ পাননি। প্রাথমিকভাবে নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পরে আরও দুই সেনার মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়, ফলে সংখ্যা বেড়ে ছয় হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ জানান, “সুরক্ষিত কৌশলগত কেন্দ্র হলেও এক প্রজেক্টাইল সরাসরি আঘাত হানে। এটি একটি ড্রোন হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।” হামলার সময় কেন্দ্রটি তিনটি ট্রেলার একত্র করে অস্থায়ীভাবে তৈরি করা হয়েছিল। বিস্ফোরণের প্রভাবে ভবনের দেয়ালগুলো দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং আগুনের লেলিহান শিখা কুয়েতের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

সেন্টকম জানিয়েছে, এই হামলার ঘটনায় ১৮ জন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। যুগ্ম সেনাপ্রধান জেনারেল ড্যান কেইন নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “তারা আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান এবং নিঃস্বার্থ সেবার অনন্য উদাহরণ। আমরা তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।” মৃত সেনাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এই হামলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যে প্রথম মার্কিন সেনাদের মৃত্যু হিসেবে গণ্য হচ্ছে। তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয়ই সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।

Tag :
About Author Information

কুয়েতে ইরানি হামলায় ৬ মার্কিন সেনা নিহত

Update Time : ১০:৪২:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে কুয়েতে ইরানের হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। রবিবার (১ মার্চ) সকালে কুয়েতের শুইবা বন্দরে অবস্থিত একটি বেসামরিক বন্দরের অস্থায়ী মার্কিন সামরিক অভিযান কেন্দ্রে হামলা হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সোমবার (২ মার্চ) নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে।

হামলার সময় ঘটনাস্থলে অনেক সেনা উপস্থিত ছিলেন, তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে একটি প্রজেক্টাইল ভবনটির ওপর আঘাত হানে। বিস্ফোরণ ও আগুনের কারণে সেনারা বাংকারে আশ্রয় নেওয়ার বা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ পাননি। প্রাথমিকভাবে নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পরে আরও দুই সেনার মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়, ফলে সংখ্যা বেড়ে ছয় হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ জানান, “সুরক্ষিত কৌশলগত কেন্দ্র হলেও এক প্রজেক্টাইল সরাসরি আঘাত হানে। এটি একটি ড্রোন হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।” হামলার সময় কেন্দ্রটি তিনটি ট্রেলার একত্র করে অস্থায়ীভাবে তৈরি করা হয়েছিল। বিস্ফোরণের প্রভাবে ভবনের দেয়ালগুলো দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং আগুনের লেলিহান শিখা কুয়েতের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

সেন্টকম জানিয়েছে, এই হামলার ঘটনায় ১৮ জন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। যুগ্ম সেনাপ্রধান জেনারেল ড্যান কেইন নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “তারা আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান এবং নিঃস্বার্থ সেবার অনন্য উদাহরণ। আমরা তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।” মৃত সেনাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এই হামলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যে প্রথম মার্কিন সেনাদের মৃত্যু হিসেবে গণ্য হচ্ছে। তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয়ই সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।