Dhaka ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুতুবদিয়ায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে বসতঘরের ঘেরাবেড়া ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৩৮:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৫
  • ২৭৮ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুতুবদিয়া: কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বসতঘরের ঘেরাবেড়া ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের কিরণ পাড়ায় মৃত আনোয়ার নুরের ছেলে আজগর আলী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তুহিন, ওমর আলী, জকির, শওকত, মোহাম্মদ আলমসহ একদল সন্ত্রাসী নিয়ে জসিমের বসতঘরে হামলা চালান। এ সময় ঘরের ঘেরা বেড়া ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয়।

বাঁধা দিতে গেলে জসিমের স্ত্রী শাহিনকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি কুতুবদিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

জসিমের পরিবারের সদস্যরা জানান, পূর্ব শত্রুতার কারণে আজগর আলী ও তার সহযোগীরা আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এই হামলা চালান। এ সময় ঘর থেকে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুট করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, আজগর আলী ১নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। ইউপি সদস্য পদে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কয়েকবার প্রতিদ্বন্দ্বীতাও করেছেন। তার কর্মকাণ্ডের  জন্য বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে জানান। কুতুবদিয়া থানার একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।

এলাকার ইউপি সদস্য নুর হোসেন বলেন, “ঘটনার বিষয়ে শুনেছি। এটি আদালতে বিচারাধীন। প্রতিপক্ষ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছে। এর আগে পরিষদেও বিষয়টি নিয়ে বিচার হয়েছে।”

কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান হোসেন বলেন, “ভুক্তভোগীর একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত যুবদল নেতা আজগর আলীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে।

Tag :
About Author Information

কুতুবদিয়ায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে বসতঘরের ঘেরাবেড়া ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

Update Time : ০৬:৩৮:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুতুবদিয়া: কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বসতঘরের ঘেরাবেড়া ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের কিরণ পাড়ায় মৃত আনোয়ার নুরের ছেলে আজগর আলী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তুহিন, ওমর আলী, জকির, শওকত, মোহাম্মদ আলমসহ একদল সন্ত্রাসী নিয়ে জসিমের বসতঘরে হামলা চালান। এ সময় ঘরের ঘেরা বেড়া ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয়।

বাঁধা দিতে গেলে জসিমের স্ত্রী শাহিনকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি কুতুবদিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

জসিমের পরিবারের সদস্যরা জানান, পূর্ব শত্রুতার কারণে আজগর আলী ও তার সহযোগীরা আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এই হামলা চালান। এ সময় ঘর থেকে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুট করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, আজগর আলী ১নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। ইউপি সদস্য পদে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কয়েকবার প্রতিদ্বন্দ্বীতাও করেছেন। তার কর্মকাণ্ডের  জন্য বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে জানান। কুতুবদিয়া থানার একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।

এলাকার ইউপি সদস্য নুর হোসেন বলেন, “ঘটনার বিষয়ে শুনেছি। এটি আদালতে বিচারাধীন। প্রতিপক্ষ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছে। এর আগে পরিষদেও বিষয়টি নিয়ে বিচার হয়েছে।”

কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান হোসেন বলেন, “ভুক্তভোগীর একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত যুবদল নেতা আজগর আলীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে।