1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন

কুতুবদিয়ায় বেড়িবাঁধ কাটায় বাধা দেওয়ায় শিক্ষকের পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ, আহত ৪

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:  কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় বেড়িবাঁধ কেটে লবণ মাঠ তৈরির কাজে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষক পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ উভয় পক্ষের চারজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শিক্ষকের ছেলে হান্নানুল হক চৌধুরীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার লেমশীখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছিন্নিখাইয়ার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন এম রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল কাদেরের ছেলে হান্নানুল হক চৌধুরী (২৪) ও তাঁর স্ত্রী আরজুমান আরা। অপর পক্ষের আহতরা হলেন নিজামুল করিমের ছেলে আবু হেনা নিজামী এবং মৃত মোরশেদ আলমের স্ত্রী পারভীন আক্তার।

ভুক্তভোগী শিক্ষক নুরুল কাদেরের অভিযোগ, গত ৩ নভেম্বর রাত পৌনে ১২টার দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম সিকদারের বড় ভাই মোরশেদ আলম টিপুর স্ত্রী পারভীন আক্তারের নেতৃত্বে স্কেভেটর দিয়ে বেড়িবাঁধের নিচ থেকে মাটি কেটে লবণ মাঠ তৈরির কাজ চলছিল। এতে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি বাধা দেন। এ ঘটনার জের ধরেই তাঁর পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নুরুল কাদেরের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে তাঁর ছেলে হান্নানুল হক চৌধুরী বাড়ি থেকে বাজারে যাওয়ার পথে একা পেয়ে পূর্ব ঘটনার রেশ ধরে পারভীন আক্তারের নেতৃত্বে আবু হেনা নিজামী, মোস্তাকিম, বাবু, অনিক, আকিল, মিয়া কলিমুল্লাহ ও রবিনসহ ৭-৮ জন তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করেন। চকরিয়া থেকে লোক ভাড়া করে এনে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর।

ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর স্ত্রী আরজুমান আরাও হামলার শিকার হন বলে জানান নুরুল কাদের। এ সময় তাঁর স্ত্রীর কানের দুল ও গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর উভয় পক্ষের আহত ব্যক্তিরা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। খবর পেয়ে নুরুল কাদের জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে কুতুবদিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হান্নান ও তাঁর মা আরজুমান আরাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় উভয় পক্ষের চারজন চিকিৎসা নিয়েছেন। হান্নানুল হকের আঘাত গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। তবে প্রতিপক্ষের আঘাত গুরুতর না হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

ভুক্তভোগী শিক্ষক নুরুল কাদের আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তাঁকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এ বিষয়ে কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুল হক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত পারভীন আক্তার ও অন্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd