কুতুবদিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় পাওনা এক হাজার টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে মাহমুদুল করিম (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে মারধর ও কাঁচের গ্লাস দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে হাবিবুর রহমান প্রকাশ হাবি (৩৮) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত মাহমুদুল করিম বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এ ঘটনায় মঙ্গলবার কুতুবদিয়া থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন আহত মাহমুদুল করিমের স্ত্রী হোমাইরা বেগম (২৭)।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের শান্তি বাজারে ছালেহ আহমদ প্রকাশ ভুইয়্যার চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তারা জানান, পাওনা টাকা নিয়ে পুতিন্যার পাড়ার মৃত মোজাহের মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান হাবি আবদুল হাদী সিকদার পাড়ার মৃত মনির আহমদের ছেলে মাহমুদুল করিমের ওপর আক্রমণ করেন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
হোমাইরা বেগম জানান, ঘটনার সময় তাঁর স্বামী তাঁদের এক বছর বয়সী অসুস্থ ছেলে মো.আদিদকে নিয়ে শান্তি বাজারে ডাক্তার দেখাতে যান। পরে পাউরুটি ও খাদ্যসামগ্রী কিনতে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে গেলে হাবিবুর রহমান পাওনা সুদের এক হাজার টাকা নিয়ে তাঁর স্বামীর সঙ্গে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে হাবিবুর রহমান চায়ের দোকানের গ্লাস ভেঙে তা দিয়ে তাঁর স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি ।পরে মাহমুদুল করিমকে টেনেহিঁচড়ে দোকানের বাইরে এনে মারধর করা হয়। এতে তাঁর স্বামীর কপাল ও বাম চোখের কোণে গুরুতর কাটা জখম হয়। সেখানে পাঁচটি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে জানান।এ সময় বাবার কোলে থাকা এক বছর বয়সী শিশুটিও আঘাত পায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাদী হোমাইরা বেগম বলেন, ‘মাত্র এক হাজার টাকার জন্য আমার অসুস্থ ছোট শিশুকে কোলে থাকা অবস্থায় আমার স্বামীকে মারধর করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে বাচ্চার কান্না থামানো যাচ্ছে না।’
তবে অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান পাওনা টাকা নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনাটি পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে হয়েছে।
আলী আকবর ডেইল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আকতার কামাল বলেন, ‘ঘটনার কথা জানতে পেরে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার জন্য বলেছি। আহত ব্যক্তির চিকিৎসা শেষে বিষয়টি দেখে বিচার করে দেওয়া হবে।’
কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল হক বলেন, ‘আমি বর্তমানে কক্সবাজারে আছি। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’