Dhaka ০১:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাবুলে পাকিস্তানি বিমান হামলায় ‘৪০০’ জন নিহত: আফগান সরকার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০৩:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
  • ৫০ Time View

বিদেশ : আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাকিস্তানি বিমান হামলায় প্রায় ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার আফগান সরকার জানিয়েছে। গত সোমবার রাতের ওই হামলাকে দুই প্রতিবেশী দেশের সামপ্রতিক সংঘাতের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। গত সোমবার রাতে চালানো ওই হামলায় আরও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বোমা বর্ষণে কেন্দ্রটির ভবনগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সারাদেশ থেকে আসা মাদকাসক্তরা সেখানে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য ভর্তি ছিলেন। হতাহতের এই সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে এএফপি’র সাংবাদিকরা জানান, হামলার পর তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খল ও ধোঁয়াচ্ছন্ন পরিস্থিতির মধ্যে তারা ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৩০টি মরদেহ সরিয়ে নিতে দেখেছেন। মঙ্গলবার ধ্বংসস্তূপের নিচে তল্লাশি চালিয়ে আরও ৬৫টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরফত জামান বলেন, ‘উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে, তাই নিহতের চূড়ান্ত সংখ্যা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের প্রায় ৪০০ জন শহীদ এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।’ একই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল মতিন কানি জানান, নিহতের সংখ্যা ৪০৮ এবং আহত ২৬৫ জন। আফগান কর্তৃপক্ষ নিহতদের স্বজনদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে যেন তারা তাদের প্রিয়জনদের ‘গণকবরে’ দাফন করার বিষয়টি মেনে নেন। এদিকে জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান এই হামলার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান। তবে তালেবান সরকারের এ দাবিকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এঙ্-এ তিনি লিখেছেন, ‘আমরা কোনো হাসপাতাল, মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র বা বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করিনি।’ তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নাশকতায় ব্যবহৃত সামরিক ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো এবং গোলাবারুদ ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের গুদাম লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালানো হয়। অন্যদিকে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি মঙ্গলবার গভীর রাতে বলেন, আফগানিস্তান যুদ্ধ চায় না। তবে প্রতিপক্ষ হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত তারা ‘বৈধ প্রতিরক্ষা’ চালিয়ে যাবে। উল্লেখ্য, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে চরমপন্থীরা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। গত মঙ্গলবার পুনর্বাসন কেন্দ্রটির ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পুড়ে যাওয়া চেয়ার, কম্বল ও হাসপাতালের বিছানার টুকরো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে সেখানে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। নিজের ভাইকে খুঁজতে আসা ৫৫ বছর বয়সী হাবিবুল্লাহ কাবুলবাই বলেন, ‘আমার ভাই নওরোজ পাঁচ দিন আগে এখানে ভর্তি হয়েছিল। তাকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। আমরা কী করব? আমার বলার ভাষা নেই… আমরা অসহায়। এটা শুধু আমার সাথেই ঘটেনি, বরং পুরো আফগানিস্তানের সাথেই ঘটেছে।’ সোমবার ইফতারের কিছুক্ষণ পরই বিমান হামলার বিকট শব্দে কাবুলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মাদক নিরাময় কেন্দ্রের এক নিরাপত্তাকর্মী ওমিদ স্টানিকজাই জানান, জেট বিমানের আওয়াজ শুনে নিরাময় কেন্দ্রের পাশের সামরিক ইউনিটগুলো গুলি চালালে পাল্টা বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতেই পুরো কেন্দ্রে আগুন ধরে যায়।

Tag :
About Author Information

কাবুলে পাকিস্তানি বিমান হামলায় ‘৪০০’ জন নিহত: আফগান সরকার

Update Time : ১১:০৩:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

বিদেশ : আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাকিস্তানি বিমান হামলায় প্রায় ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার আফগান সরকার জানিয়েছে। গত সোমবার রাতের ওই হামলাকে দুই প্রতিবেশী দেশের সামপ্রতিক সংঘাতের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। গত সোমবার রাতে চালানো ওই হামলায় আরও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বোমা বর্ষণে কেন্দ্রটির ভবনগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সারাদেশ থেকে আসা মাদকাসক্তরা সেখানে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য ভর্তি ছিলেন। হতাহতের এই সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে এএফপি’র সাংবাদিকরা জানান, হামলার পর তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খল ও ধোঁয়াচ্ছন্ন পরিস্থিতির মধ্যে তারা ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৩০টি মরদেহ সরিয়ে নিতে দেখেছেন। মঙ্গলবার ধ্বংসস্তূপের নিচে তল্লাশি চালিয়ে আরও ৬৫টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরফত জামান বলেন, ‘উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে, তাই নিহতের চূড়ান্ত সংখ্যা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের প্রায় ৪০০ জন শহীদ এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।’ একই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল মতিন কানি জানান, নিহতের সংখ্যা ৪০৮ এবং আহত ২৬৫ জন। আফগান কর্তৃপক্ষ নিহতদের স্বজনদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে যেন তারা তাদের প্রিয়জনদের ‘গণকবরে’ দাফন করার বিষয়টি মেনে নেন। এদিকে জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান এই হামলার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান। তবে তালেবান সরকারের এ দাবিকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এঙ্-এ তিনি লিখেছেন, ‘আমরা কোনো হাসপাতাল, মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র বা বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করিনি।’ তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নাশকতায় ব্যবহৃত সামরিক ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো এবং গোলাবারুদ ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের গুদাম লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালানো হয়। অন্যদিকে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি মঙ্গলবার গভীর রাতে বলেন, আফগানিস্তান যুদ্ধ চায় না। তবে প্রতিপক্ষ হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত তারা ‘বৈধ প্রতিরক্ষা’ চালিয়ে যাবে। উল্লেখ্য, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে চরমপন্থীরা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। গত মঙ্গলবার পুনর্বাসন কেন্দ্রটির ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পুড়ে যাওয়া চেয়ার, কম্বল ও হাসপাতালের বিছানার টুকরো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে সেখানে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। নিজের ভাইকে খুঁজতে আসা ৫৫ বছর বয়সী হাবিবুল্লাহ কাবুলবাই বলেন, ‘আমার ভাই নওরোজ পাঁচ দিন আগে এখানে ভর্তি হয়েছিল। তাকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। আমরা কী করব? আমার বলার ভাষা নেই… আমরা অসহায়। এটা শুধু আমার সাথেই ঘটেনি, বরং পুরো আফগানিস্তানের সাথেই ঘটেছে।’ সোমবার ইফতারের কিছুক্ষণ পরই বিমান হামলার বিকট শব্দে কাবুলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মাদক নিরাময় কেন্দ্রের এক নিরাপত্তাকর্মী ওমিদ স্টানিকজাই জানান, জেট বিমানের আওয়াজ শুনে নিরাময় কেন্দ্রের পাশের সামরিক ইউনিটগুলো গুলি চালালে পাল্টা বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতেই পুরো কেন্দ্রে আগুন ধরে যায়।