বিনোদন: কানাডার ১২তম মোজাইক ইন্টারন্যাশনাল সাউথ এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে তিনটি পুরস্কার জিতেছে বাংলাদেশের সিনেমা ‘রইদ’। সাদুর বউ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন নাজিফা তুষি। একই উৎসবে সেরা চিত্রগ্রহণের পুরস্কার পেয়েছেন জোয়াহের মুসাভভির জ্যোতি এবং সেরা সংগীতের পুরস্কার জিতেছেন রাশীদ শরীফ শোয়েব।
মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘রইদ’-এর আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু হয় চলতি বছরের শুরুতে নেদারল্যান্ডসের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডামের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে। ঈদুল আজহায় বাংলাদেশে মুক্তির পরও সিনেমাটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হচ্ছে। এর আগে ভিয়েতনামের ডানাং এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ক্রিটিকস বিভাগে ‘বেস্ট এশিয়ান ফিল্ম’ পুরস্কারও পেয়েছে সিনেমাটি।
কানাডার মিসিসাগায় ৩০ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এবারের উৎসব চলে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। ১২তম আসরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি পুরস্কার দেওয়া হয় বিভিন্ন বিভাগে। উৎসবের সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে নেপালের ‘ঊষবঢ়যধহঃং রহ ঃযব ঋড়ম’, যে সিনেমাটি ২০২৬ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবের ‘টহ ঈবৎঃধরহ জবমধৎফ’ বিভাগে জুরি পুরস্কার পেয়েছিল।
‘রইদ’-এ সাদুর বউ চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়েছিলেন নাজিফা তুষি। চরিত্রটি মানসিকভাবে কিছুটা অস্থির ও রহস্যময় হওয়ায় তিনি ছয় মাসের বেশি সময় ধরে মানসিক স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে প্রস্তুতি নেন। ঢাকার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং পাবনা মানসিক হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। চরিত্রের বাস্তবতা ধরতে শুটিংয়ের সময় ব্যবহৃত পোশাক পরা এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মিশে থাকার মতো প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন অভিনেত্রী।
পুরস্কার পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তুষি বলেন, ‘আমার জন্য এটা অনেক খুশির সংবাদ। যদিও কখনো পুরস্কারের আশায় কাজ করি না। পুরস্কার নয়, কাজটিই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সব সময় ঠিকমতো নিজের চরিত্রটিকে তুলে ধরতে চাই। সেই চরিত্র যদি স্বীকৃতি এনে দেয়, সেটা অবশ্যই ভালো লাগার। অভিনেত্রী হিসেবে এই পুরস্কার অর্জন আমার দায়বদ্ধতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’
‘রইদ’-এর গল্পে উঠে এসেছে সাদু ও তার স্ত্রী পাগলির সম্পর্কের সরল অথচ গভীর এক আখ্যান। প্রেম ও নীরবতার মধ্য দিয়ে মানবজীবনের চিরন্তন জীবনবোধকে তুলে ধরা হয়েছে সিনেমাটিতে। সাদু চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরও আছেন গাজী রাকায়েত ও আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদ।
গ্রামীণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্মিত সিনেমাটিতে অ্যাডাম ও ইভের পৌরাণিক গল্পের আবহ ব্যবহার করে রহস্যময় এক উপাখ্যান তৈরি করেছেন মেজবাউর রহমান সুমন। সিনেমাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধারাবাহিকভাবে প্রশংসা পাওয়ার পাশাপাশি এখন বাংলাদেশের হয়ে ৯৯তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের ‘বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম’ বিভাগে প্রতিনিধিত্ব করছে।
কানাডার উৎসবে একসঙ্গে তিনটি পুরস্কার ‘রইদ’-এর আন্তর্জাতিক যাত্রায় নতুন সাফল্য যোগ করেছে। বিশেষ করে নাজিফা তুষির সেরা অভিনেত্রী পুরস্কারটি সিনেমাটির অভিনয় ও শিল্পমানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে আরও জোরালো করেছে।