ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা): কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়া লাফিয়ে বাড়ছে কাঁচা সবজর দাম। বিশেষ করে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ।
বৃষ্টির পানিতে মরিচ খেত তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবহন সংকটের অজুহাতে হঠাৎ করেই হু-হু করে বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। বাজারভেদে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে রেকর্ড মূল্যে, যা একদম সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। পাইকগাছা পৌর বাজারসহ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে দেখা গেছে, সপ্তাহখানেক আগেও যেখানে কাঁচা মরিচ সাধারণ দামে বিক্রি হতো, সেখানে এখন দামে দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানভেদে কাঁচা মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত! হুট করে মরিচের এমন আকাশছোঁয়া দামে বাজারে এসে মাথায় হাত পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
”রান্নায় একটু ঝাল না হলে চলে না, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে মরিচ ছাড়াই রান্না শিখতে হবে। ১০০ টাকার বাজার নিয়ে গেলে মরিচ কিনতেই বাজেটের বড় অংশ শেষ হয়ে যায়। ক্ষোভ ও হতাশায় ভরা কণ্ঠে বলেন গদাইপুর বাজারে এক খুচরা ক্রেতা কামরুল ইসলাম।
ব্যবসায়ীরা বর্ষার অজুহাত দিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। গদাইপুর বাজারে কয়েক জন ব্যবসায়ী বলেন দেশের প্রধান মরিচ উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে বৃষ্টির কারণে মরিচ খেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং গাছ পচে নষ্ট হচ্ছে।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে খেত থেকে মরিচ তোলা ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে পাইকারি বাজারে সরবরাহ একেবারেই কমে গেছে। বৃষ্টিতে যাতায়াত ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় দ্বিগুণ ভাড়ায় কাঁচা পণ্য সরবরাহ করতে হচ্ছে।আগড়ঘাটা বাজারে এক ব্যবসায়ী বলেন, মরিচ একটি পচনশীল পণ্য, আড়তে মাল না আসলে কিংবা আড়তদারদের কাছে বেশি দামে কিনতে হলে খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়া স্বাভাবিক।
তবে সাধারণ ক্রেতাদের মতে, অতিরিক্ত বৃষ্টির অজুহাতে অসাধু সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে বাড়তি মুনাফা লুটছে। সাধারণ মানুষের দাবি, এই সংকটের মুহূর্তে বাজার মনিটরিং জোরদার করা না হলে কাঁচা পণ্যের দামে কোনো লাগাম থাকবে না।