1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সিরিজ জিতলো নিউজিল্যান্ড

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতে গ্যারি সোবার্সকে সম্মান জানাতে চেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু স্পিনার গুডাকেশ মোটির দুর্দান্ত পাঁচ উইকেটের পরও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারল না স্বাগতিকদের। নাটকীয় এক লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ১ উইকেটের শ্বাসরুদ্ধকর জয় তুলে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। বার্বাডোজের কেনসিংটন ওভালে ১৮৯ রানের লক্ষ্য ৪৪.১ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে যায় সফরকারীরা। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে অপ্রতিরোধ্য লিড নিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে কিউইরা। টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। তার বোলাররা শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংকে বড় সংগ্রহ গড়তে দেয়নি।ইনিংসের শুরুতেই জাস্টিন গ্রিভসকে ফিরিয়ে দেন নাথান স্মিথ। এরপর স্পিন আক্রমণে এসে জোড়া আঘাত করেন স্যান্টনার। প্রথমে ৩৩ রান করা অ্যাকিম অগাস্টেকে এলবিডব্লিউ এবং পরে ১৩ রান করা কিসি কার্টিকে টম ল্যাথামের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। দুই সেট ব্যাটারের বিদায়ে মাত্র ৬২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপরও ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন আমির জানগু। এক প্রান্ত আগলে রেখে ৭৩ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। শেষদিকে তাঁকে দারুণ সঙ্গ দেন গুডাকেশ মোটি। ব্যাট হাতেও কার্যকর ভূমিকা রেখে ৫৬ বলে ৪১ রান করেন এই বাঁহাতি স্পিনার। দুজনের সপ্তম উইকেট জুটিতে আসে ৮১ রান, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে শেষ দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে বড় স্কোর গড়ার সুযোগ হাতছাড়া করে স্বাগতিকরা। ৪৪.৪ ওভারে ১৮৮ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ম্যাথিউ ফিশার ৩টি উইকেট নেন। স্যান্টনার ও মাইকেল ব্রেসওয়েল শিকার করেন দুটি করে উইকেট। মাত্র ১৮৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। ইনিংসের প্রথম বলেই হেনরি নিকোলসকে ফিরিয়ে দেন ম্যাথিউ ফোর্ড। এরপর নিক কেলি ও উইল ইয়ংও দ্রুত সাজঘরে ফিরলে ৪৬ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা। সেই সংকট থেকে দলকে টেনে তোলেন মার্ক চ্যাপম্যান। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৮২ বলে ৮০ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৪টি ছক্কা। টম ল্যাথাম দ্রুত আউট হলেও মাইকেল ব্রেসওয়েলের সঙ্গে ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিউজিল্যান্ডের দিকে নিয়ে যান চ্যাপম্যান। ব্রেসওয়েলও ৩১ বলে ৩২ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। নিউজিল্যান্ড যখন ১৪৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বেশ ভালো অবস্থানে, তখনই ম্যাচে নাটকীয় মোড় আনেন গুদাকেশ মোতি। প্রথমে ব্রেসওয়েলকে বোল্ড করেন। এরপর চ্যাপম্যানকে ফিরিয়ে বড় ধাক্কা দেন। সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি। জ্যাকব ডাফি ও ম্যাথিউ ফিশারকেও আউট করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন। মুহূর্তেই ১৪৯/৫ থেকে ১৮০/৯-এ নেমে আসে নিউজিল্যান্ড। জয়ের জন্য তখনও প্রয়োজন ৯ রান, হাতে মাত্র একটি উইকেট। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে অসাধারণ ধৈর্যের পরিচয় দেন অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। শেষ ব্যাটার জেডেন লেনঙ্কে সঙ্গে নিয়ে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে ধীরে ধীরে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। অপরাজিত ৫৬ বলে ৩৪ রান করে দলকে জয় এনে দেন স্যান্টনার। অন্যপ্রান্তে লেনঙ্ ১০ বল মোকাবিলা করেও রান না করলেও নিজের উইকেট অক্ষত রেখে অধিনায়ককে দারুণ সমর্থন দেন। ৪৪.১ ওভারে ৯ উইকেটে ১৮৯ রান তুলে ৩৫ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে মোটি ১০ ওভারে ৪৭ রান দিয়ে ৫টি উইকেট শিকার করে ম্যাচে ক্যারিবীয়দের ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন। ম্যাথিউ ফোর্ড নেন ২টি উইকেট, আর জেডেন সিলস ও আলজারি জোসেফ একটি করে উইকেট পান। তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। প্রথমে বল হাতে ১০ ওভারে মাত্র ৩৬ রান দিয়ে ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন, এরপর ব্যাট হাতে অপরাজিত ৩৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলকে রুদ্ধশ্বাস জয় এনে দেন। তাঁর এই অলরাউন্ড নৈপুণ্যেই ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে স্যান্টনারের হাতে। এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করল নিউজিল্যান্ড।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd