Dhaka ১২:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে হামলা করতে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছিলেন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • ৫৩ Time View

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যৌথ হামলার পেছনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, ইরানে দ্রুত অভ্যুত্থান ঘটানো সম্ভব এবং সরকার উৎখাত করা যাবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের প্রস্তুতিমূলক পর্যায়ে মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়া ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর কাছে জানিয়েছিলেন, ইরানে বিদ্রোহ উসকে দিয়ে কয়েক দিনের মধ্যে সরকার পতন সম্ভব। ওয়াশিংটনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আমান এই পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও, দুই নেতা আশাবাদী ছিলেন এবং ইরানের নেতৃত্বকে হত্যা করে শাসন পরিবর্তনকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা করেছিলেন।

তবে সিআইএ জানিয়েছে, ইরান সরকারের সম্পূর্ণ পতন বাস্তবে অসম্ভব, সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে তেহরানের কট্টরপন্থী কর্মকর্তারা ক্ষমতায় থেকে যাবেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে টাইমস জানিয়েছে, নেতানিয়াহু মোসাদের কার্যকারিতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন যে, ট্রাম্প যেকোনো মুহূর্তে যুদ্ধ শেষ করে দিতে পারেন।

রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বোঝান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠককে লক্ষ্য করে ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ চালানো একটি অনন্য সুযোগ। নেতানিয়াহু যুক্তি দেখান, খামেনিকে হত্যা করলে সাধারণ ইরানিরা রাস্তায় নেমে দেশকে ধর্মতান্ত্রিক শাসন থেকে মুক্ত করতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার ইরানে প্রথম বোমা হামলা চালানো হয়, সেই দিনই ট্রাম্প খামেনির নিহত হওয়ার ঘোষণা দেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, পারমাণবিক সক্ষমতা ও নৌবাহিনী ধ্বংস করা এবং প্রক্সি বাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেছেন, মোসাদের এজেন্টরা ২০২৫ সালের শীতে ইরানে প্রাণঘাতী দাঙ্গায় জড়িত ছিল, যেখানে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালানো হয়। রাশিয়া ইরানের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান–ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের এই ধাপ মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আরও বিপর্যস্ত করতে পারে। একাধিক সূত্রের বরাতে বলা হয়, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে যুদ্ধে প্ররোচিত করতে চেষ্টা করেছিলেন, তবে শেষ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ট্রাম্পের ছিল।

Tag :
About Author Information

ইরানে হামলা করতে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছিলেন

Update Time : ১২:১৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যৌথ হামলার পেছনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, ইরানে দ্রুত অভ্যুত্থান ঘটানো সম্ভব এবং সরকার উৎখাত করা যাবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের প্রস্তুতিমূলক পর্যায়ে মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়া ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর কাছে জানিয়েছিলেন, ইরানে বিদ্রোহ উসকে দিয়ে কয়েক দিনের মধ্যে সরকার পতন সম্ভব। ওয়াশিংটনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আমান এই পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও, দুই নেতা আশাবাদী ছিলেন এবং ইরানের নেতৃত্বকে হত্যা করে শাসন পরিবর্তনকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা করেছিলেন।

তবে সিআইএ জানিয়েছে, ইরান সরকারের সম্পূর্ণ পতন বাস্তবে অসম্ভব, সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে তেহরানের কট্টরপন্থী কর্মকর্তারা ক্ষমতায় থেকে যাবেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে টাইমস জানিয়েছে, নেতানিয়াহু মোসাদের কার্যকারিতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন যে, ট্রাম্প যেকোনো মুহূর্তে যুদ্ধ শেষ করে দিতে পারেন।

রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বোঝান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠককে লক্ষ্য করে ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ চালানো একটি অনন্য সুযোগ। নেতানিয়াহু যুক্তি দেখান, খামেনিকে হত্যা করলে সাধারণ ইরানিরা রাস্তায় নেমে দেশকে ধর্মতান্ত্রিক শাসন থেকে মুক্ত করতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার ইরানে প্রথম বোমা হামলা চালানো হয়, সেই দিনই ট্রাম্প খামেনির নিহত হওয়ার ঘোষণা দেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, পারমাণবিক সক্ষমতা ও নৌবাহিনী ধ্বংস করা এবং প্রক্সি বাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেছেন, মোসাদের এজেন্টরা ২০২৫ সালের শীতে ইরানে প্রাণঘাতী দাঙ্গায় জড়িত ছিল, যেখানে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালানো হয়। রাশিয়া ইরানের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান–ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের এই ধাপ মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আরও বিপর্যস্ত করতে পারে। একাধিক সূত্রের বরাতে বলা হয়, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে যুদ্ধে প্ররোচিত করতে চেষ্টা করেছিলেন, তবে শেষ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ট্রাম্পের ছিল।