বিদেশ : ইরান দ্রুত জনমিতিক পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ২০৫১ সালের মধ্যে ইরানের মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশের বেশি বয়স্ক মানুষ হতে পারেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে এখনই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। গতকাল শনিবার দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলছে, জাতীয় প্রবীণ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। পেজেশকিয়ান বলেন, জনসংখ্যার দ্রুত বার্ধক্যের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় খুবই সীমিত। দেরিতে পদক্ষেপ নেওয়ার চেয়ে আগেভাগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া কম ব্যয়বহুল, মানবিক ও কার্যকর। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি রোগ, একাকিত্ব, দারিদ্র্য, স্বনির্ভরতা হারানো এবং পরিবার ও বীমা ব্যবস্থার ওপর বাড়তে থাকা চাপ মোকাবিলায় আগেভাগে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পেজেশকিয়ান বলেন, ‘বয়স্ক সমাজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তখনই, যখন আমরা এখনো বয়স্ক হয়ে উঠিনি।’ তিনি বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে জাতীয়, দূরদর্শী ও বিভিন্ন খাতের সমন্বিত নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, পরিবহন, সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও প্রবীণদের পরিচর্যাকে পরস্পর-সম্পর্কিত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এ ছাড়া বয়স্ক জনগোষ্ঠীসংক্রান্ত একটি সমন্বিত জাতীয় তথ্যব্যবস্থা চালু, প্রবীণদের বিষয়ে জাতীয় নীতিমালা সংশোধন, তাদের আইনি সুরক্ষা জোরদার এবং পরিচর্যা সেবা ও পরিচর্যাকারীদের প্রশিক্ষণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি একই সঙ্গে ‘সিলভার ইকোনমি’ বা প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে ঘিরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সমপ্রসারণ, সামাজিক অংশগ্রহণ বাড়ানো, প্রবীণ-বান্ধব শহর গড়ে তোলা, বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা এবং অবসরজীবনের জন্য আগাম প্রস্তুতি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন।