Dhaka ০২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অটোস্ট্যান্ড দখল নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি হামলা, এক রাতে দুই খুন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫২:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫
  • ২৩৩ Time View

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অটোস্ট্যান্ড দখল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের বিরোধের জেরে আবদুল কুদ্দুস (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ওই রাতেই প্রতিপক্ষের লোকজন মেহেদী (৩৮) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলার শাহী মসজিদ এলাকায় ও গভীর রাতে সিরাজউদ্দৌলা ক্লাবের সামনে যথাক্রমে ঘটনা দুটি ঘটে। নিহত আব্দুল কুদ্দুস বন্দর উপজেলার হাফেজীবাগ এলাকার মৃত সাদেক আলীর ছেলে ও রনি-জাফর গ্রুপের সমর্থক। অপর নিহত মেহেদী সালেহ নগর এলাকার জলিল মুন্সির ছেলে ও বাবু-মেহেদী গ্রুপের সদস্য। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর রেললাইন অটোস্ট্যান্ড নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাওসার আশার অনুসারী রনি-জাফর গ্রুপের সাথে ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির নেতা হান্নান সরকারের অনুসারী বাবু-মেহেদীর বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত শুক্রবার দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৮ জন আহত হয়। সেই বিরোধের জের ধরে গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাবু-মেহেদী গ্রুপের লোকজন রনি-জাফর গ্রুপের সমর্থক আব্দুল কুদ্দুসকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েনিলে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই খবর পেয়ে নিহতের স্বজন ও রনি-জাফর গ্রুপের লোকজন রেললাইন-সংলগ্ন এলাকার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এদিকে, রাত ১টার দিকে বন্দর সিরাজুদ্দৌলার ক্লাব মাঠ দিয়ে মেহেদী ও তার লোকজন যাওয়ার পথে তাদের দেখে রনি-জাফর গ্রুপের লোকজন ধাওয়া দিয়ে মেহেদীকে ধরে গণপিটুনি দেয় ও ছুরিকাঘাতে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শহরের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের জেরে উভয়পক্ষের হামলায় কুদ্দুস ও মেহেদী নিহত হয়েছেন। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।’ বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘রাতে দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Tag :
About Author Information

অটোস্ট্যান্ড দখল নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি হামলা, এক রাতে দুই খুন

Update Time : ১২:৫২:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অটোস্ট্যান্ড দখল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের বিরোধের জেরে আবদুল কুদ্দুস (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ওই রাতেই প্রতিপক্ষের লোকজন মেহেদী (৩৮) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলার শাহী মসজিদ এলাকায় ও গভীর রাতে সিরাজউদ্দৌলা ক্লাবের সামনে যথাক্রমে ঘটনা দুটি ঘটে। নিহত আব্দুল কুদ্দুস বন্দর উপজেলার হাফেজীবাগ এলাকার মৃত সাদেক আলীর ছেলে ও রনি-জাফর গ্রুপের সমর্থক। অপর নিহত মেহেদী সালেহ নগর এলাকার জলিল মুন্সির ছেলে ও বাবু-মেহেদী গ্রুপের সদস্য। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর রেললাইন অটোস্ট্যান্ড নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাওসার আশার অনুসারী রনি-জাফর গ্রুপের সাথে ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির নেতা হান্নান সরকারের অনুসারী বাবু-মেহেদীর বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত শুক্রবার দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৮ জন আহত হয়। সেই বিরোধের জের ধরে গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাবু-মেহেদী গ্রুপের লোকজন রনি-জাফর গ্রুপের সমর্থক আব্দুল কুদ্দুসকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েনিলে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই খবর পেয়ে নিহতের স্বজন ও রনি-জাফর গ্রুপের লোকজন রেললাইন-সংলগ্ন এলাকার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এদিকে, রাত ১টার দিকে বন্দর সিরাজুদ্দৌলার ক্লাব মাঠ দিয়ে মেহেদী ও তার লোকজন যাওয়ার পথে তাদের দেখে রনি-জাফর গ্রুপের লোকজন ধাওয়া দিয়ে মেহেদীকে ধরে গণপিটুনি দেয় ও ছুরিকাঘাতে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শহরের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের জেরে উভয়পক্ষের হামলায় কুদ্দুস ও মেহেদী নিহত হয়েছেন। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।’ বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘রাতে দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’