বিদেশ: রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে রাতভর ইউক্রেনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২২২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে। এসব হামলায় কয়েকটি অঞ্চলে আবাসিক ভবন, শিল্প স্থাপনা ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জবাবে ইউক্রেনের লজিস্টিক কেন্দ্র ও বন্দরগুলোতে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। খবর তাসের। রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের গভর্নর ইউরি স্লিউসার জানিয়েছেন, তাগানরগ শহরে রাতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এতে আবাসিক ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্যাসলাইন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণাগার, একটি দোকান ও অনলাইন বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ওজোনের একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হতাহত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ওরিওল, বেলগোরোদ, ভোরোনেজ, তুলা, তামবভ, ব্রিয়ানস্ক, রোস্তভ, কুরস্ক, লিপেৎস্ক, রিয়াজান, সারাতভ, সামারা, কালুগা ও উলিয়ানভস্ক অঞ্চলসহ তাতারস্তান, ক্রিমিয়া এবং কৃষ্ণসাগরের আকাশে এসব ড্রোন ধ্বংস করা হয়। রোস্তভের গভর্নর ইউরি স্লিউসার বলেন, তাগানরগে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দুটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ও তিনটি ব্যক্তিগত বাড়ির জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক ভবন, গ্যাসলাইন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণাগার, মুদি দোকান ও ওজোনের একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাগানরগের মেয়র স্বেতলানা কামবায়েভা জানান, হামলার পর শহরে তিনটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পাঁচটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ও তিনটি ব্যক্তিগত বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওজোন জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় তাদের লজিস্টিক অংশীদারের একটি ডেলিভারি কেন্দ্র খালি করে দেওয়া হয়। সেখানে কেউ আহত হননি। হামলায় ভবনের একটি অংশে আগুন ধরে যায়। সেখানে থাকা পণ্যগুলো অন্য স্থাপনায় সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ দাবি করেছে, তাগানরগে ‘আটলান্ট অ্যারো’ কারখানায় হামলা চালিয়েছে তাদের বাহিনী। তাদের দাবি, কারখানাটিতে ড্রোন তৈরি করা হচ্ছিল। তবে রুশ আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ কারখানাটির ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। সামারা অঞ্চলের গভর্নর ভিয়াচেস্লাভ ফেদোরিশ্চেভ জানিয়েছেন, সেখানে রাতভর ৪০টির বেশি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। হামলায় একটি শিল্প স্থাপনা ও কয়েকটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কেউ নিহত হননি। ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, সামারার সিজরান তেল শোধনাগারেও হামলা চালানো হয়েছে। এতে আগুন ধরে যায় এবং অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের একটি ইউনিট ও তেল সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে কিয়েভ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও সিজরান তেল শোধনাগার ও তাগানরগের একটি ড্রোন উৎপাদন স্থাপনায় হামলার কথা নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া ওরিওল অঞ্চলে ড্রোন প্রস্তুত ও উৎক্ষেপণের একটি স্থান এবং কৃষ্ণসাগরের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করেছেন তিনি। ভোরোনেজ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার গুসেভ জানিয়েছেন, ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারটি আবাসিক এলাকার বাড়ির জানালা, ছাদ ও সম্মুখভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি পৌর ভবনের জানালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সেখানে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের লজিস্টিক কেন্দ্র ও বন্দরগুলোতে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। মন্ত্রণালয়ের দাবি, ওডেসা অঞ্চলের ভেলিকা বালকা এলাকায় বিদেশ থেকে ইউক্রেনে আসা সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণ ও বিতরণের কাজে ব্যবহৃত একটি লজিস্টিক কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। চর্নোমোরস্ক বন্দরে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত একটি শুকনো পণ্যবাহী জাহাজ ও একটি ফেরিতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে রাশিয়া। এ ছাড়া ইউরোপ থেকে ইউক্রেনে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত পশ্চিমাঞ্চলের রেল অবকাঠামোতেও রুশ বাহিনী হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে মস্কো। সূত্র : তাস ও আনাদোলু এজেন্সি