1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০২:০০ পূর্বাহ্ন

পণ্যের দাম বাড়লেও ট্রাম্প বললেন, ‘আমি মুদ্রাস্ফীতি পছন্দ করি’

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

বিদেশ : যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের দাম চার শতাংশের বেশি বাড়লেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টিকে ইতিবাচক বলেছেন। তিনি জানান যে তিনি এই মুদ্রাস্ফীতি পছন্দ করছেন এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হলেই সব জিনিসের দাম কমে যাবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবৃদ্ধির গতি গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এটি কোনো ক্ষতি করবে কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এই মুদ্রাস্ফীতিকে পছন্দ করছি।’ ট্রাম্প আরও জানান যে খরচ ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে তিনি হরমুজ প্রণালি দিয়ে গোপনে মার্কিন তেল ট্যাংকার চালানোর একটি সামরিক পরিকল্পনা অনুমোদন করেছিলেন। নিজের এই হিসাবকে সফল দাবি করে তিনি বলেন, ‘এই অভিযানের সিদ্ধান্তটি আমার কাছে সঠিক ছিল।’ চলমান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন যে যুদ্ধ শেষ হওয়া মাত্রই বিশ্ববাজারে তেলের দাম আগের জায়গায় ফিরে আসবে এবং এটি খুব দ্রুত কমে যাবে। ইরান আন্তর্জাতিক এই নৌপথ বন্ধ করে দেওয়ায় গ্যাসোলিন ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে যা আমেরিকার মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে পারে। তবে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প দেশের ঋণের খরচ কমাতে সুদের হার কমানোর জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চেষ্টা করছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দল। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় প্রধান ইস্যু হওয়ায় এই দাম বৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পথ সহজ করতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন। বিগত ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ ছিল মুদ্রাস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় ট্রাম্পের বর্তমান জনসমর্থন এখন তার ক্যারিয়ারের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন যে আগামী সপ্তাহগুলোতে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে যা আর্থিক বাজারকে বড় ঝুঁকিতে ফেলবে। দুই দেশের মধ্যে দ্রুত কোনো চুক্তি হলেও এই নৌপথ দিয়ে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগবে। ফলে এই বাজার অস্থিরতা পুরো ২০২৬ সাল জুড়েই বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে যা মার্কিন নাগরিকদের কেনাকাটার সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। গত মাসে আমেরিকার সাধারণ মানুষের এই আর্থিক সংকট নিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন যে তিনি মার্কিনীদের এই দুর্দশাকে তার যুদ্ধ নীতির ক্ষেত্রে কোনো বাধা মনে করেন না। ইরানের ওপর নতুন হামলার হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সাধারণ আমেরিকানদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে ভাবি না। আমি কেবল একটি বিষয় নিয়েই ভাবি আর তা হলো: আমরা কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দিতে পারি না।’ সূত্র: রয়টার্স

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd