র্যাপিট অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্তির আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি লিখেছে ৯ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ ৯টি মানবাধিকার সংগঠন।
আজ সোমবার হিউমান রাইটস ওয়াচ, অ্যামিনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ফর্টিফাই রাইটস, আর্টিকেল নাইনটিন, সিপেজি, সিভিকাসসহ ৯টি সংগঠন এ চিঠি লিখেছে। তাদের পক্ষ থেকে একই চিঠি দেয়া হয়েছে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও সালাহউদ্দিন আহমদকেও।
চিঠিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার দল বিএনপি সরকারের সামনে নানা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে এই সময়টিকে মানবাধিকার সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের সুযোগ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বার্তায় জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বড় জয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর গঠিত হয়।
২০২৪ সালে ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, শেখ হাসিনার শাসনামলে জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ নানা ধরনের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল। তার পতনের পর এসব ঘটনার অনেকটাই কমে এলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ইচ্ছামতো আটক এবং সাংবাদিক, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার মতো ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, তারেক রহমানকে পরিবর্তন আনার জন্য একটি শক্তিশালী ম্যান্ডেট দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে সেসব মানুষের পক্ষ থেকে যারা একটি স্বৈরাচারী সরকারকে সরাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিল।
তিনি বলেন, এ প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে, যাতে তারা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে এবং আইনের শাসন বজায় রাখতে পারে। একই সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকার রক্ষায় সরকারের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন।
চিঠিতে কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করারও আহ্বান জানানো হয়েছে। চিঠিতে মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ ও আইনগত সংস্কারের জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট সুপারিশও দেয়া হয়েছে।