Dhaka ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রী ইকরাকে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ অভিনেতা আলভীর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২৩:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ৩৪ Time View

বিনোদন: ছোটপর্দার অভিনেত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে চলা বিতর্কের মধ্যে এবার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন অভিনেতা জাহের আলভী। গত শুক্রবার রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি সিসিটিভি ফুটেজ, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ইকরার অতীত নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন। এটিকে তিনি ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে নিজের “শেষ পোস্ট”বলেও উল্লেখ করেন। পোস্টে আলভী বলেন, ঘটনার তদন্তে যদি তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তবে তিনি আইনের প্রতি সম্মান রেখে তা মেনে নেবেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তিনি রেখে যেতে চান, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অভিযোগ উঠলে মানুষ তা যাচাই করে দেখতে পারে। নিজের বাসার সিসিটিভি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি করেন আলভী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রইং-ডাইনিং এলাকায় থাকা ক্যামেরাটির নিয়ন্ত্রণ তার কাছে ছিল না, বরং সেটির এঙ্সে ছিল ইকরার মোবাইল ফোনে। তিনি জানান, ইকরার ফোন বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সিসিটিভির সঙ্গে যুক্ত ডিভাইসের তালিকা পরীক্ষা করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনার আগে কয়েক দিনের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই অভিনেতা। আলভীর দাবি, ২৫, ২৬ ও ২৭ তারিখ সন্ধ্যার পর ইকরার কয়েকজন বন্ধু তার বাসায় এসেছিলেন, যার ভিডিও ফুটেজ সিসিটিভিতে থাকার কথা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সময় তারা ধূমপান, গাঁজা সেবন ও মদ্যপান করেন এবং দুর্ঘটনার আগের দিন ইকরা তার সহকারীকে দিয়ে সিগারেট ও ঘুমের ওষুধ আনান। এ বিষয়ে তার সহকারী ইতোমধ্যে পুলিশের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পোস্টে আলভী সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান, ওই তিন দিনের সিসিটিভি ফুটেজ যেন কোনোভাবেই মুছে ফেলা না হয়। তার দাবি, দুর্ঘটনার আগের কয়েক দিনে ইকরার আচরণ স্বাভাবিক ছিল না এবং অতীতে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া ইকরার মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেন আলভী। তিনি বলেন, মোবাইল পরীক্ষা করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট কে বন্ধ করেছে, মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপের কথোপকথন, কললিস্টসহ নানা তথ্য বেরিয়ে আসবে। প্রয়োজন হলে নিজের ফোনও পুলিশের কাছে দিতে প্রস্তুত আছেন বলে জানান তিনি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আলভী। তার দাবি, আগের রাতে যদি মদ বা মাদক গ্রহণ করা হয়ে থাকে, তাহলে তা রিপোর্টে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, পোস্টমর্টেমের আগে এটি ঠেকানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে তিনি শুনেছেন, তাই রিপোর্ট যেন কোনোভাবেই পরিবর্তন না হয় সে বিষয়েও নজর রাখার আহ্বান জানান। পোস্টে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা পরকীয়ার অভিযোগের জবাবও দেন এই অভিনেতা। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ইকরার সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ৪১তম ব্যাচের এক সহপাঠীর সম্পর্ক কী ছিল। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ২০১০ সালে পালিয়ে বিয়ে করার পরও ইকরার পরিবার তাকে না জানিয়েই অন্যত্র বিয়ে দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে ইকরা আবার তার কাছে ফিরে আসেন। তবে এসব অভিযোগের মধ্যেও আলভী বলেন, ইকরা তাকে ভালোবাসতেন এবং তিনিও ইকরাকে ভালোবাসতেন। তাদের সম্পর্কে ভুল-ত্রুটি ও ঝগড়া থাকলেও সময়ের সঙ্গে সম্পর্কটি মায়া ও অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। পোস্টের শেষদিকে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে লেখেন, ওপর মহলের চাপ, ইকরার পরিবারের প্রতিশোধপরায়ণতা ও পেশাগত জীবনের কিছু মানুষের বিশ্বাসঘাতকতায় তাকে দমিয়ে দেওয়া হতে পারে। ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে যেন মানুষ তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে দেখেন, সেই অনুরোধও জানান তিনি।

Tag :
About Author Information

স্ত্রী ইকরাকে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ অভিনেতা আলভীর

Update Time : ০৯:২৩:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

বিনোদন: ছোটপর্দার অভিনেত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে চলা বিতর্কের মধ্যে এবার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন অভিনেতা জাহের আলভী। গত শুক্রবার রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি সিসিটিভি ফুটেজ, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ইকরার অতীত নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন। এটিকে তিনি ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে নিজের “শেষ পোস্ট”বলেও উল্লেখ করেন। পোস্টে আলভী বলেন, ঘটনার তদন্তে যদি তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তবে তিনি আইনের প্রতি সম্মান রেখে তা মেনে নেবেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তিনি রেখে যেতে চান, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অভিযোগ উঠলে মানুষ তা যাচাই করে দেখতে পারে। নিজের বাসার সিসিটিভি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি করেন আলভী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রইং-ডাইনিং এলাকায় থাকা ক্যামেরাটির নিয়ন্ত্রণ তার কাছে ছিল না, বরং সেটির এঙ্সে ছিল ইকরার মোবাইল ফোনে। তিনি জানান, ইকরার ফোন বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সিসিটিভির সঙ্গে যুক্ত ডিভাইসের তালিকা পরীক্ষা করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনার আগে কয়েক দিনের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই অভিনেতা। আলভীর দাবি, ২৫, ২৬ ও ২৭ তারিখ সন্ধ্যার পর ইকরার কয়েকজন বন্ধু তার বাসায় এসেছিলেন, যার ভিডিও ফুটেজ সিসিটিভিতে থাকার কথা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সময় তারা ধূমপান, গাঁজা সেবন ও মদ্যপান করেন এবং দুর্ঘটনার আগের দিন ইকরা তার সহকারীকে দিয়ে সিগারেট ও ঘুমের ওষুধ আনান। এ বিষয়ে তার সহকারী ইতোমধ্যে পুলিশের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পোস্টে আলভী সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান, ওই তিন দিনের সিসিটিভি ফুটেজ যেন কোনোভাবেই মুছে ফেলা না হয়। তার দাবি, দুর্ঘটনার আগের কয়েক দিনে ইকরার আচরণ স্বাভাবিক ছিল না এবং অতীতে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া ইকরার মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেন আলভী। তিনি বলেন, মোবাইল পরীক্ষা করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট কে বন্ধ করেছে, মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপের কথোপকথন, কললিস্টসহ নানা তথ্য বেরিয়ে আসবে। প্রয়োজন হলে নিজের ফোনও পুলিশের কাছে দিতে প্রস্তুত আছেন বলে জানান তিনি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আলভী। তার দাবি, আগের রাতে যদি মদ বা মাদক গ্রহণ করা হয়ে থাকে, তাহলে তা রিপোর্টে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, পোস্টমর্টেমের আগে এটি ঠেকানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে তিনি শুনেছেন, তাই রিপোর্ট যেন কোনোভাবেই পরিবর্তন না হয় সে বিষয়েও নজর রাখার আহ্বান জানান। পোস্টে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা পরকীয়ার অভিযোগের জবাবও দেন এই অভিনেতা। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ইকরার সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ৪১তম ব্যাচের এক সহপাঠীর সম্পর্ক কী ছিল। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ২০১০ সালে পালিয়ে বিয়ে করার পরও ইকরার পরিবার তাকে না জানিয়েই অন্যত্র বিয়ে দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে ইকরা আবার তার কাছে ফিরে আসেন। তবে এসব অভিযোগের মধ্যেও আলভী বলেন, ইকরা তাকে ভালোবাসতেন এবং তিনিও ইকরাকে ভালোবাসতেন। তাদের সম্পর্কে ভুল-ত্রুটি ও ঝগড়া থাকলেও সময়ের সঙ্গে সম্পর্কটি মায়া ও অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। পোস্টের শেষদিকে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে লেখেন, ওপর মহলের চাপ, ইকরার পরিবারের প্রতিশোধপরায়ণতা ও পেশাগত জীবনের কিছু মানুষের বিশ্বাসঘাতকতায় তাকে দমিয়ে দেওয়া হতে পারে। ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে যেন মানুষ তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে দেখেন, সেই অনুরোধও জানান তিনি।