Dhaka ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই জাতীয় সনদ চ্যালেঞ্জ, হাইকোর্টে কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে রিট

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩০ Time View

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ ১৮ ফেব্রুয়ারি, বুধবার জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন, যার মাধ্যমে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এবং তার কার্যকারিতা স্থগিত করার আবেদন জানানো হয়েছে। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও জাতীয় ঐক্যমত কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়েছে, এই সনদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং প্রজাতন্ত্রের সংবিধানে এর কোনো বিধান নেই। আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, “জুলাই সনদে গণভোট এবং সংসদে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এটি সংবিধানের পরিপন্থী হওয়ায় অবৈধ ও অসাংবিধানিক।”

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বৈরতন্ত্র রোধে এই সনদ প্রণয়ন করেছিল। ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ২০টির বেশি রাজনৈতিক দল এতে স্বাক্ষর করেছে। সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার মধ্যে ৪৭টির জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, নির্বাচনী ব্যবস্থার পরিবর্তন, নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিসহ মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা প্রস্তাবিত হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় গণভোটে এই প্রস্তাবগুলোর ওপর ‘হ্যাঁ’ প্রাধান্য পায়। তবে এখন এই সনদের কার্যকারিতা ও বৈধতা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ শুরু হয়েছে। আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে রিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।

Tag :
About Author Information

জুলাই জাতীয় সনদ চ্যালেঞ্জ, হাইকোর্টে কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে রিট

Update Time : ১১:২৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ ১৮ ফেব্রুয়ারি, বুধবার জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন, যার মাধ্যমে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এবং তার কার্যকারিতা স্থগিত করার আবেদন জানানো হয়েছে। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও জাতীয় ঐক্যমত কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়েছে, এই সনদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং প্রজাতন্ত্রের সংবিধানে এর কোনো বিধান নেই। আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, “জুলাই সনদে গণভোট এবং সংসদে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এটি সংবিধানের পরিপন্থী হওয়ায় অবৈধ ও অসাংবিধানিক।”

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বৈরতন্ত্র রোধে এই সনদ প্রণয়ন করেছিল। ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ২০টির বেশি রাজনৈতিক দল এতে স্বাক্ষর করেছে। সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার মধ্যে ৪৭টির জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, নির্বাচনী ব্যবস্থার পরিবর্তন, নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিসহ মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা প্রস্তাবিত হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় গণভোটে এই প্রস্তাবগুলোর ওপর ‘হ্যাঁ’ প্রাধান্য পায়। তবে এখন এই সনদের কার্যকারিতা ও বৈধতা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ শুরু হয়েছে। আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে রিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।