Dhaka ০১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশেই সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন শুরু হচ্ছে: জ্বালানি উপদেষ্টা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:১৪:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪০ Time View

চট্টগ্রামে ডিফেন্স ইকোনমিক জোনে জমি বরাদ্দ দিয়ে বাংলাদেশে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন শুরু হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সাংবাদিকদের জানান, এতোদিন প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম বিদেশ থেকে ক্রয় করা হতো, তবে এখন দেশের নিজস্ব উৎপাদন করা হবে।

তিনি বলেন, “চট্টগ্রামে ডিফেন্স ইকোনমিক জোনে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এবার আমরা দেশের মধ্যেই সব ধরনের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের ব্যবস্থা করব। এটি দেশের নিরাপত্তা সক্ষমতা আরও বাড়াবে।” সভায় রমজান উপলক্ষে ১০ হাজার টন মসুর ডাল এবং ১ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া র‍্যাবের জন্য ১০০টি জিপ ও ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার ক্রয় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পে-স্কেল নিয়ে বিভ্রান্তি পরিষ্কার করে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, “সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর জন্য পে-কমিশনের প্রতিবেদন কেবল জমা দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এটি বাস্তবায়ন করবে না। নির্বাচিত সরকার চাইলে এটি বাস্তবায়ন বা বাতিল—যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। প্রস্তাবিত পে-স্কেল নির্বাচিত সরকারের জন্য কোনো চাপ তৈরি করবে না।” তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি ছিল। এ প্রেক্ষিতে কমিশন গঠন করা হয়েছিল, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ মাত্র ১৫ দিনের মতো থাকায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

জাতীয় ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ সংক্রান্ত গুজব নিয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয় দল বিশ্বকাপে খেলবে না এমন কোনো কথা বলা হয়নি। শুধু বিকল্প দেশে ভেন্যু চাওয়ার প্রস্তাব এসেছে। ভারতও তো পাকিস্তানে গিয়ে খেলেনি। মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়া হয়েছে উগ্রবাদীদের হুমকির কারণে, তাই সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”

তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন, পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হলে এটি সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে কমিশনের প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আর্থিক ও অন্যান্য দিক পর্যালোচনা করে পরবর্তী সরকারের জন্য সুপারিশ করবে।

Tag :
About Author Information

বাংলাদেশেই সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন শুরু হচ্ছে: জ্বালানি উপদেষ্টা

Update Time : ০৯:১৪:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামে ডিফেন্স ইকোনমিক জোনে জমি বরাদ্দ দিয়ে বাংলাদেশে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন শুরু হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সাংবাদিকদের জানান, এতোদিন প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম বিদেশ থেকে ক্রয় করা হতো, তবে এখন দেশের নিজস্ব উৎপাদন করা হবে।

তিনি বলেন, “চট্টগ্রামে ডিফেন্স ইকোনমিক জোনে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এবার আমরা দেশের মধ্যেই সব ধরনের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের ব্যবস্থা করব। এটি দেশের নিরাপত্তা সক্ষমতা আরও বাড়াবে।” সভায় রমজান উপলক্ষে ১০ হাজার টন মসুর ডাল এবং ১ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া র‍্যাবের জন্য ১০০টি জিপ ও ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার ক্রয় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পে-স্কেল নিয়ে বিভ্রান্তি পরিষ্কার করে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, “সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর জন্য পে-কমিশনের প্রতিবেদন কেবল জমা দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এটি বাস্তবায়ন করবে না। নির্বাচিত সরকার চাইলে এটি বাস্তবায়ন বা বাতিল—যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। প্রস্তাবিত পে-স্কেল নির্বাচিত সরকারের জন্য কোনো চাপ তৈরি করবে না।” তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি ছিল। এ প্রেক্ষিতে কমিশন গঠন করা হয়েছিল, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ মাত্র ১৫ দিনের মতো থাকায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

জাতীয় ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ সংক্রান্ত গুজব নিয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয় দল বিশ্বকাপে খেলবে না এমন কোনো কথা বলা হয়নি। শুধু বিকল্প দেশে ভেন্যু চাওয়ার প্রস্তাব এসেছে। ভারতও তো পাকিস্তানে গিয়ে খেলেনি। মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়া হয়েছে উগ্রবাদীদের হুমকির কারণে, তাই সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”

তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন, পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হলে এটি সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে কমিশনের প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আর্থিক ও অন্যান্য দিক পর্যালোচনা করে পরবর্তী সরকারের জন্য সুপারিশ করবে।