আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে হলে নির্ধারিত সব নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। কোনো ভোটার যদি সঠিক প্রক্রিয়া মেনে ভোট না দেন, তাহলে সেই ভোট সরাসরি বাতিল হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো ধরনের ছাড় দেবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সভায় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা, ভোটের পরিবেশ এবং গণভোট সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, “আমাদের এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক কোনো বাধা ছাড়াই সবাই নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে। ভোটারদের আগ্রহকে ধারণ করে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, কোনো ভোটারকে যেন কেউ বাধা দিতে না পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করাই সবার দায়িত্ব।
পোস্টাল ব্যালট প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রবাসী ও দেশের ভেতরের ভোটারদের জন্য এই পদ্ধতি দুই ভাগে পরিচালিত হবে। এ ক্ষেত্রে নিয়ম ভঙ্গের সুযোগ নেই। ইসি সানাউল্লাহ বলেন, “কেউ যদি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ভোট দেয়, তাহলে তার ভোট বাতিল হয়ে যাবে। সাধারণ ব্যালট ও পোস্টাল ব্যালট একই সময়ে গণনা হবে, তবে পোস্টাল ব্যালট গণনায় কিছুটা সময় লাগবে।” তিনি জানান, প্রতিটি পোস্টাল ব্যালটে ১১৯টি প্রতীক থাকায় ভোট যাচাইয়ের সময় এজেন্টদের সামনে প্রতীক দেখিয়ে নিশ্চিত হতে হবে ভোটার কোথায় ভোট দিয়েছেন।
সভায় তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি নিরপেক্ষতা হারান, তাহলে তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে। তাঁর ভাষায়, “আমরা একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে চাই। এখানে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সবাইকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও আশপাশে জটলা বরদাশত করা হবে না বলেও জানান ইসি সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, ভোট হবে উৎসবমুখর, কিন্তু ভোট ঠেকানোর চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। পোস্টাল ব্যালট খোলার কক্ষে কলম নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে এবং লাইভ ভেরিফিকেশন ছাড়া কোনো ব্যালট গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও তিনি জানান।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, আনসারসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটের পরিবেশ এবং গণভোটের প্রস্তুতি নিয়ে মতামত দেন।
Reporter Name 














