Dhaka ০১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুল্ক বাড়ানো ছাড়াই আয় বেড়েছে বলে জানালেন এনবিআর চেয়ারম্যান

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৭:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫২ Time View

অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের পর দেশে রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তাঁর ভাষায়, করদাতাদের বড় অংশ ডিজিটাল পদ্ধতিতে যুক্ত হওয়ায় সরাসরি রাজস্ব আদায় বেড়েছে এবং এতে শুল্ক বা করহার বাড়ানোর প্রয়োজন পড়েনি।

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে সাড়ে ৩৪ লাখের মতো করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। অনলাইন রিটার্নের মাধ্যমেই সরাসরি প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা আগের বছর ছিল প্রায় ১৭০ কোটি টাকা।

রাজস্ব আদায় বাড়াতে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুর রহমান খান বলেন, “ট্যাক্স কালেকশন বাড়ানোর জন্য গত দেড় বছরে আমরা ট্যারিফ বাড়াইনি।” বরং জনস্বার্থ বিবেচনায় চাল, পেঁয়াজ, আলু ও সয়াবিন তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিতে ডিউটি কমানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, এতে রাজস্ব কমার ঝুঁকি থাকলেও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বাজারে আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে কর বা শুল্ককে দায়ী করা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। ফলের ওপর উচ্চ কর আরোপের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেড় বছরে ফলের ওপর কোনো ডিউটি বাড়ানো হয়নি।” বরং ফল আমদানিতে আগে যে ১০ শতাংশ আয়কর ছিল, তা কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। একইভাবে খেজুর আমদানির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য হারে শুল্ক কমানো হয়েছে।

পণ্যমূল্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে ডলারের দাম বাড়াকে চিহ্নিত করেন আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, “ডলারের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।” দুই বছর আগে যেখানে ডলারের দাম ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে ১২৬ থেকে ১২৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর ফলে বিদেশ থেকে যে কোনো পণ্য আমদানিতে খরচ স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে।

এলডিসি থেকে উত্তরণের বাস্তবতা তুলে ধরে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আর উচ্চ শুল্ক কাঠামো ধরে রাখতে পারবে না। সে কারণেই ধাপে ধাপে শুল্কহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্যারিফ ট্রান্সফরমেশন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে শুল্ক কমানোর সুপারিশ রয়েছে। তবে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার স্বার্থে কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়ানো হতে পারে বলেও জানান তিনি।

রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, লক্ষ্য চ্যালেঞ্জিং হলেও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক। অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার ফলে শেষ সময়ে প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ রিটার্ন জমা পড়তে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। প্রয়োজনে রিটার্ন জমার সময় বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এদিকে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এনবিআরে সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন কাস্টম হাউস ও কাস্টম স্টেশনেও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়।

Tag :
About Author Information

শুল্ক বাড়ানো ছাড়াই আয় বেড়েছে বলে জানালেন এনবিআর চেয়ারম্যান

Update Time : ১১:৫৭:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের পর দেশে রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তাঁর ভাষায়, করদাতাদের বড় অংশ ডিজিটাল পদ্ধতিতে যুক্ত হওয়ায় সরাসরি রাজস্ব আদায় বেড়েছে এবং এতে শুল্ক বা করহার বাড়ানোর প্রয়োজন পড়েনি।

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে সাড়ে ৩৪ লাখের মতো করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। অনলাইন রিটার্নের মাধ্যমেই সরাসরি প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা আগের বছর ছিল প্রায় ১৭০ কোটি টাকা।

রাজস্ব আদায় বাড়াতে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুর রহমান খান বলেন, “ট্যাক্স কালেকশন বাড়ানোর জন্য গত দেড় বছরে আমরা ট্যারিফ বাড়াইনি।” বরং জনস্বার্থ বিবেচনায় চাল, পেঁয়াজ, আলু ও সয়াবিন তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিতে ডিউটি কমানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, এতে রাজস্ব কমার ঝুঁকি থাকলেও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বাজারে আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে কর বা শুল্ককে দায়ী করা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। ফলের ওপর উচ্চ কর আরোপের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেড় বছরে ফলের ওপর কোনো ডিউটি বাড়ানো হয়নি।” বরং ফল আমদানিতে আগে যে ১০ শতাংশ আয়কর ছিল, তা কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। একইভাবে খেজুর আমদানির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য হারে শুল্ক কমানো হয়েছে।

পণ্যমূল্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে ডলারের দাম বাড়াকে চিহ্নিত করেন আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, “ডলারের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।” দুই বছর আগে যেখানে ডলারের দাম ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে ১২৬ থেকে ১২৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর ফলে বিদেশ থেকে যে কোনো পণ্য আমদানিতে খরচ স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে।

এলডিসি থেকে উত্তরণের বাস্তবতা তুলে ধরে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আর উচ্চ শুল্ক কাঠামো ধরে রাখতে পারবে না। সে কারণেই ধাপে ধাপে শুল্কহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্যারিফ ট্রান্সফরমেশন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে শুল্ক কমানোর সুপারিশ রয়েছে। তবে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার স্বার্থে কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়ানো হতে পারে বলেও জানান তিনি।

রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, লক্ষ্য চ্যালেঞ্জিং হলেও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক। অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার ফলে শেষ সময়ে প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ রিটার্ন জমা পড়তে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। প্রয়োজনে রিটার্ন জমার সময় বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এদিকে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এনবিআরে সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন কাস্টম হাউস ও কাস্টম স্টেশনেও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়।