Dhaka ০১:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাইবার অপরাধ দমনে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ডিএমপি: কমিশনার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৮৪ Time View

রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ, অনলাইন জালিয়াতি এবং বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের বাড়তি উদ্বেগের মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জনগণের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সাইবার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। নতুন করে উদ্বোধন হওয়া সাইবার সাপোর্ট সেন্টারের মাধ্যমে অনলাইন প্রতারণা, ডিজিটাল হয়রানি, মানহানি ও গ্যাম্বেলিংসহ প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলা আরও দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকালে ডিবি কার্যালয়ে সাইবার সাপোর্ট সেন্টার উদ্বোধনের সময় কমিশনার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীচক্রের কৌশল পাল্টে যাচ্ছে এবং মানুষ ব্যক্তিগত ও আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এই বাস্তবতায় ডিএমপি আধুনিক ল্যাব, তদন্তকারী দল, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং ২৪ ঘণ্টার রেসপন্স টিম গড়ে তুলেছে, যাতে নাগরিকেরা ফেসবুক পেজ, ইমেইল বা ডিবির অনলাইন চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন।

সাম্প্রতিক ককটেল হামলার প্রসঙ্গ টেনে কমিশনার বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তার ভাষায়, জনগণ মোটেও আতঙ্কিত না, সব কিছু একদম স্বাভাবিক আছে। তিনি মনে করেন, দুর্বৃত্তরা দূর থেকে ককটেল ছুড়ছে এবং এতে সাধারণ মানুষ আহত হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত রাতে থানার সামনে একজন পুলিশ সদস্য ককটেল হামলায় আহত হওয়ার ঘটনাও তিনি নিশ্চিত করেন।

এ ধরনের হামলার উদ্দেশ্য পুলিশকে ভয় দেখানো বলে মন্তব্য করেন তিনি। কমিশনার বলেন, ককটেল মেরে পুলিশ সদস্যদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা চলছে, কিন্তু তা সফল হবে না। যারা এই কাজ করছেন তাদের তিনি অনুরোধ করেন যাতে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা হয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, নাশকতা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পিআরবি ও সিআরপিসিতে নির্ধারিত পরিস্থিতিতেই আইনপ্রয়োগকারী বাহিনী ফায়ার ওপেন করতে পারে।

সাম্প্রতিক আরেক আলোচিত ঘটনায় তিনি জানান, একজন অনলাইন সম্পাদককে মধ্যরাতে তুলে নেওয়ার বিষয়টিকে ঘিরে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেখানে ডিবি পুরোনো রূপে ফিরে যাচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সংক্ষেপে বলেন যে পুরোনো রূপে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

অরাজকতা পরিস্থিতিতে পুলিশের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তুলে ধরেন কমিশনার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে অরাজকতা ঠেকানোর সময় পুলিশ সদস্যের সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয়েছে তা দুঃখজনক। তিনি অনুরোধ করেন, পুলিশ রাস্তায় কারও সঙ্গে সংঘাতে যাওয়ার জন্য নয় বরং সেবা দিতে কাজ করে, তাই কর্মকর্তাদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ না করতে।

শেখ মো. সাজ্জাত আলী সাইবার সাপোর্ট সেন্টারকে দেশের সাইবার নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, এই কেন্দ্রের মাধ্যমে কেবল তদন্ত সহজ হবে না, বরং মানুষ আরও আস্থার সঙ্গে পুলিশের কাছে এগিয়ে আসতে পারবেন। বিশেষ করে নারী ও কিশোরদের অনলাইন হয়রানি রোধে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ তৈরি করা শুধু পুলিশের নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজেরও যৌথ দায়িত্ব।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে কমিশনার বলেন, সন্দেহজনক কার্যক্রম দেখলে দ্রুত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তার ভাষায়, আসুন আমরা সবাই মিলে নিরাপদ শহর, নিরাপদ সাইবার স্পেস এবং নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি করি।

Tag :
About Author Information

সাইবার অপরাধ দমনে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ডিএমপি: কমিশনার

Update Time : ১২:২২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ, অনলাইন জালিয়াতি এবং বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের বাড়তি উদ্বেগের মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জনগণের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সাইবার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। নতুন করে উদ্বোধন হওয়া সাইবার সাপোর্ট সেন্টারের মাধ্যমে অনলাইন প্রতারণা, ডিজিটাল হয়রানি, মানহানি ও গ্যাম্বেলিংসহ প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলা আরও দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকালে ডিবি কার্যালয়ে সাইবার সাপোর্ট সেন্টার উদ্বোধনের সময় কমিশনার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীচক্রের কৌশল পাল্টে যাচ্ছে এবং মানুষ ব্যক্তিগত ও আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এই বাস্তবতায় ডিএমপি আধুনিক ল্যাব, তদন্তকারী দল, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং ২৪ ঘণ্টার রেসপন্স টিম গড়ে তুলেছে, যাতে নাগরিকেরা ফেসবুক পেজ, ইমেইল বা ডিবির অনলাইন চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন।

সাম্প্রতিক ককটেল হামলার প্রসঙ্গ টেনে কমিশনার বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তার ভাষায়, জনগণ মোটেও আতঙ্কিত না, সব কিছু একদম স্বাভাবিক আছে। তিনি মনে করেন, দুর্বৃত্তরা দূর থেকে ককটেল ছুড়ছে এবং এতে সাধারণ মানুষ আহত হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত রাতে থানার সামনে একজন পুলিশ সদস্য ককটেল হামলায় আহত হওয়ার ঘটনাও তিনি নিশ্চিত করেন।

এ ধরনের হামলার উদ্দেশ্য পুলিশকে ভয় দেখানো বলে মন্তব্য করেন তিনি। কমিশনার বলেন, ককটেল মেরে পুলিশ সদস্যদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা চলছে, কিন্তু তা সফল হবে না। যারা এই কাজ করছেন তাদের তিনি অনুরোধ করেন যাতে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা হয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, নাশকতা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পিআরবি ও সিআরপিসিতে নির্ধারিত পরিস্থিতিতেই আইনপ্রয়োগকারী বাহিনী ফায়ার ওপেন করতে পারে।

সাম্প্রতিক আরেক আলোচিত ঘটনায় তিনি জানান, একজন অনলাইন সম্পাদককে মধ্যরাতে তুলে নেওয়ার বিষয়টিকে ঘিরে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেখানে ডিবি পুরোনো রূপে ফিরে যাচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সংক্ষেপে বলেন যে পুরোনো রূপে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

অরাজকতা পরিস্থিতিতে পুলিশের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তুলে ধরেন কমিশনার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে অরাজকতা ঠেকানোর সময় পুলিশ সদস্যের সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয়েছে তা দুঃখজনক। তিনি অনুরোধ করেন, পুলিশ রাস্তায় কারও সঙ্গে সংঘাতে যাওয়ার জন্য নয় বরং সেবা দিতে কাজ করে, তাই কর্মকর্তাদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ না করতে।

শেখ মো. সাজ্জাত আলী সাইবার সাপোর্ট সেন্টারকে দেশের সাইবার নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, এই কেন্দ্রের মাধ্যমে কেবল তদন্ত সহজ হবে না, বরং মানুষ আরও আস্থার সঙ্গে পুলিশের কাছে এগিয়ে আসতে পারবেন। বিশেষ করে নারী ও কিশোরদের অনলাইন হয়রানি রোধে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ তৈরি করা শুধু পুলিশের নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজেরও যৌথ দায়িত্ব।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে কমিশনার বলেন, সন্দেহজনক কার্যক্রম দেখলে দ্রুত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তার ভাষায়, আসুন আমরা সবাই মিলে নিরাপদ শহর, নিরাপদ সাইবার স্পেস এবং নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি করি।