Dhaka ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লতিফ সিদ্দিকী কাদের সিদ্দিকীকে সঙ্গে নিয়ে আদালতে হাজিরা দিলেন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ১০২ Time View

ঢাকার শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় হাজিরা দিতে রোববার (১৬ নভেম্বর) আদালতপাড়ায় উপস্থিত হন মুক্তিযোদ্ধা এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। উচ্চ আদালতের জামিনে মুক্তির পর এটি ছিল তার প্রথম আদালত উপস্থিতি। তার সঙ্গে ছিলেন ছোট ভাই, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকী।

এদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক তৌফিক হাসান প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত আগামী ৩০ ডিসেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন বলে জানান প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই জিন্নাত আলী।

শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে আদালতে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি চান ৮৬ বছর বয়সী লতিফ সিদ্দিকী। তার আইনজীবী রেজাউল করিম হিরণ বলেন, তার মক্কেল বিভিন্ন রোগে ভুগছেন এবং আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার যথেষ্ট উপাদান আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। শুনানি নিয়ে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন। এর ফলে ভবিষ্যতে তাকে আর সশরীরে আদালতে হাজির হতে হবে না।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লতিফ সিদ্দিকী আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান এবং শুনানি শেষে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে বের হয়ে যান।

গত ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে এক আলোচনা সভায় হট্টগোলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে লতিফ সিদ্দিকী, সাংবাদিক পান্নাসহ ১৬ জনকে পুলিশ আটক করে। পরদিন তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন শাহবাগ থানার এসআই আমিরুল ইসলাম। মামলার নথিতে বলা হয়, মঞ্চ ৭১ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশের পর গোলটেবিল বৈঠকে হামলা, লাঞ্ছনা এবং অংশগ্রহণকারীদের অবরুদ্ধ করার অভিযোগ পাওয়া যায়।

এই মামলায় পরবর্তীতে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ম্যাজিস্ট্রেট এবং জজ আদালতে জামিন নাকচ হলে লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবীরা হাই কোর্টে আবেদন করেন। বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিন এবং বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ৬ নভেম্বর তাকে অন্তর্বর্তী জামিন দেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিন বাতিলের আবেদন করলে আপিল বিভাগ ১০ নভেম্বর তা বহাল রাখে। এরপর ১২ নভেম্বর তিনি কারামুক্ত হন।

Tag :
About Author Information

লতিফ সিদ্দিকী কাদের সিদ্দিকীকে সঙ্গে নিয়ে আদালতে হাজিরা দিলেন

Update Time : ১২:২২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকার শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় হাজিরা দিতে রোববার (১৬ নভেম্বর) আদালতপাড়ায় উপস্থিত হন মুক্তিযোদ্ধা এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। উচ্চ আদালতের জামিনে মুক্তির পর এটি ছিল তার প্রথম আদালত উপস্থিতি। তার সঙ্গে ছিলেন ছোট ভাই, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকী।

এদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক তৌফিক হাসান প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত আগামী ৩০ ডিসেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন বলে জানান প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই জিন্নাত আলী।

শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে আদালতে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি চান ৮৬ বছর বয়সী লতিফ সিদ্দিকী। তার আইনজীবী রেজাউল করিম হিরণ বলেন, তার মক্কেল বিভিন্ন রোগে ভুগছেন এবং আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার যথেষ্ট উপাদান আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। শুনানি নিয়ে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন। এর ফলে ভবিষ্যতে তাকে আর সশরীরে আদালতে হাজির হতে হবে না।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লতিফ সিদ্দিকী আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান এবং শুনানি শেষে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে বের হয়ে যান।

গত ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে এক আলোচনা সভায় হট্টগোলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে লতিফ সিদ্দিকী, সাংবাদিক পান্নাসহ ১৬ জনকে পুলিশ আটক করে। পরদিন তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন শাহবাগ থানার এসআই আমিরুল ইসলাম। মামলার নথিতে বলা হয়, মঞ্চ ৭১ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশের পর গোলটেবিল বৈঠকে হামলা, লাঞ্ছনা এবং অংশগ্রহণকারীদের অবরুদ্ধ করার অভিযোগ পাওয়া যায়।

এই মামলায় পরবর্তীতে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ম্যাজিস্ট্রেট এবং জজ আদালতে জামিন নাকচ হলে লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবীরা হাই কোর্টে আবেদন করেন। বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিন এবং বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ৬ নভেম্বর তাকে অন্তর্বর্তী জামিন দেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিন বাতিলের আবেদন করলে আপিল বিভাগ ১০ নভেম্বর তা বহাল রাখে। এরপর ১২ নভেম্বর তিনি কারামুক্ত হন।