Dhaka ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিচারকদেরও জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকা দরকার: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১৬:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৪১ Time View

যারা বিচার করেন, তাদেরও ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য জবাবদিহির আওতায় থাকা উচিত বলে মত দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার।

রোববার (১২ অক্টোবর) মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শুনানির সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

সকালে ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন সদস্যের উপস্থিতিতে মামলার শুনানি শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই বিচারক ছিলেন মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। শুনানির শুরুতে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

একপর্যায়ে তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের প্রসঙ্গ তোলেন। তখন চেয়ারম্যান বলেন, “যারা বিচার করেন, তাদের অ্যাকাউন্টেবিলিটির ব্যবস্থা থাকা দরকার, অর্থাৎ জুডিশিয়াল অ্যাকাউন্টেবিলিটি কাউন্সিল থাকা প্রয়োজন।”

পরে মধ্যাহ্ন বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে মামলার রায়ে তিনি ওপেন কোর্টে এক ধরনের রায় দেন, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ রায়ে তা পরিবর্তন করেন। আজ ট্রাইব্যুনালে এই বিষয়টি উত্থাপন করলে মাননীয় চেয়ারম্যান এই মন্তব্য করেন।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, গুম-খুনের মামলায় যেসব সেনা কর্মকর্তা সেনা হেফাজতে রয়েছেন, তাদের বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না, কারণ এটি তাঁর এখতিয়ার নয়। তবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা যেসব কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে, তা পৌঁছানোর কথা তিনি জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, “ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট ১৯৭৩ একটি বিশেষ আইন। এটি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের বিচার প্রক্রিয়ার জন্য তৈরি। এ আইনে যে অপরাধগুলোর বিচার হচ্ছে, সেগুলো বাংলাদেশের সাধারণ কোনো আইনে নেই।”

প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “আর্মি অ্যাক্ট, নেভি অ্যাক্ট, এয়ার ফোর্স অ্যাক্ট—কোনোটিতেই এসব অপরাধের বর্ণনা নেই। আন্তর্জাতিক আইনে সংজ্ঞায়িত এসব অপরাধের বিচার করার ক্ষমতা কেবল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেরই আছে।”

তাজুল ইসলাম আরও বলেন, “এই আইনটি সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত। সংবিধানের ৪৭(৩) ও ৪৭(ক) অনুচ্ছেদে বলা আছে, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচার সংক্রান্ত কোনো আইন যদি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিকও হয়, তবুও সেটি প্রাধান্য পাবে। সংবিধান নিজেই ১৯৭৩ সালের ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল আইনকে প্রটেকশন দিয়েছে।”

Tag :
About Author Information

বিচারকদেরও জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকা দরকার: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

Update Time : ০১:১৬:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

যারা বিচার করেন, তাদেরও ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য জবাবদিহির আওতায় থাকা উচিত বলে মত দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার।

রোববার (১২ অক্টোবর) মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শুনানির সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

সকালে ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন সদস্যের উপস্থিতিতে মামলার শুনানি শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই বিচারক ছিলেন মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। শুনানির শুরুতে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

একপর্যায়ে তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের প্রসঙ্গ তোলেন। তখন চেয়ারম্যান বলেন, “যারা বিচার করেন, তাদের অ্যাকাউন্টেবিলিটির ব্যবস্থা থাকা দরকার, অর্থাৎ জুডিশিয়াল অ্যাকাউন্টেবিলিটি কাউন্সিল থাকা প্রয়োজন।”

পরে মধ্যাহ্ন বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে মামলার রায়ে তিনি ওপেন কোর্টে এক ধরনের রায় দেন, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ রায়ে তা পরিবর্তন করেন। আজ ট্রাইব্যুনালে এই বিষয়টি উত্থাপন করলে মাননীয় চেয়ারম্যান এই মন্তব্য করেন।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, গুম-খুনের মামলায় যেসব সেনা কর্মকর্তা সেনা হেফাজতে রয়েছেন, তাদের বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না, কারণ এটি তাঁর এখতিয়ার নয়। তবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা যেসব কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে, তা পৌঁছানোর কথা তিনি জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, “ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট ১৯৭৩ একটি বিশেষ আইন। এটি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের বিচার প্রক্রিয়ার জন্য তৈরি। এ আইনে যে অপরাধগুলোর বিচার হচ্ছে, সেগুলো বাংলাদেশের সাধারণ কোনো আইনে নেই।”

প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “আর্মি অ্যাক্ট, নেভি অ্যাক্ট, এয়ার ফোর্স অ্যাক্ট—কোনোটিতেই এসব অপরাধের বর্ণনা নেই। আন্তর্জাতিক আইনে সংজ্ঞায়িত এসব অপরাধের বিচার করার ক্ষমতা কেবল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেরই আছে।”

তাজুল ইসলাম আরও বলেন, “এই আইনটি সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত। সংবিধানের ৪৭(৩) ও ৪৭(ক) অনুচ্ছেদে বলা আছে, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচার সংক্রান্ত কোনো আইন যদি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিকও হয়, তবুও সেটি প্রাধান্য পাবে। সংবিধান নিজেই ১৯৭৩ সালের ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল আইনকে প্রটেকশন দিয়েছে।”